চকরিয়ায় সুস্থতার হার কম

ঢাকা, শনিবার, ৬ জুন ২০২০ | ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

চকরিয়ায় সুস্থতার হার কম

আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, কাজে আসছে না লগডাউন

এম. মনছুর আলম, চকরিয়া (কক্সবাজার) ৩:২২ অপরাহ্ণ, মে ১৮, ২০২০

print
চকরিয়ায় সুস্থতার হার কম

গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে করোনা আক্রান্তের হটস্পটে পরিণত হয়েছে কক্সবাজারের চকরিয়া। লকডাউন পুরোপুরি কার্যকর না হওয়ায় নিত্যদিন বাড়ছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। তবে আক্রান্তের তুলনায় সুস্থতার হার খুবই কম এ উপজেলায়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার পর্যন্ত চকরিয়ায় দুই শিশুসহ ৬০ করোনা রোগী পাওয়া গেছে। আক্রান্তের মধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান, সহকারী কমিশনারসহ (ভূমি) হাসপাতালের নার্স-স্টাফও রয়েছেন। এর মধ্যে হোম আইসোলেশন ও আইসোলেশন থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরেছেন মাত্র নয়জন।

তবে আক্রান্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারভীর হোসেন বর্তমানে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী সরকারি বাসভবনে আইসোলেশনে রয়েছেন। আক্রান্তের মধ্যে বেশিরভাগ রোগী বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

স্থানীয়রা জানান, চকরিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির মূল কারণ হচ্ছে ঠিকমতো লকডাউন কার্যকর না হওয়া। আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা অনেকেই হোম কোয়ারান্টিন মানছে না। তারা যত্রতত্র নিজের ইচ্ছে মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে। যার কারণে করোনা আক্রান্তের হারও বেড়ে চলেছে।

চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শাহবাজ জানান, জেলার মধ্যে করোনা আক্রান্তের দিক দিয়ে চকরিয়া প্রথমে রয়েছে। আক্রান্তদের অধিকাংশ বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের সঙ্গে আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দিচ্ছি। যখন যে রকম ওষুধ দেওয়া দরকার তা তাদের দিচ্ছি। এ পর্যন্ত নয়জন সুস্থ হয়েছেন। আরও বেশকিছু আক্রান্ত রোগী সুস্থতার পথে রয়েছেন।

লকডাউনের বিষয়ে জানতে চাইলে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছৈয়দ শামসুল তাবরীজ বলেন, আসলে প্রথম থেকেই চেষ্টা করেছি লকডাউন কার্যকর করতে। প্রথমে যখন আক্রান্তের সংখ্যা কম ছিল তখন আমরা প্রতিটি বাড়ি লকডাউন কার্যকর করেছি। কিন্তু দিন দিন রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। লকডাউন কার্যকর করতে গিয়ে এসিল্যান্ড করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

এসিল্যান্ড আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে মূলত আমি একা হয়ে গেছি। আমি সারাদিন কাজ করে যাচ্ছি মানুষকে ঘরে ফেরাতে। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার পরও তারা বুঝছে না। আমি আক্রান্তদের বাড়ি লকডাউনের বিষয়ে পুলিশ, স্থানীয় মেয়র, চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর এবং মেম্বারদের বলেছি। প্রশাসনের পাশাপাশি তাদের আক্রান্তদের বাড়ি লকডাউনের বিষয়ে কাজ করতে নির্দেশ দিয়েছি।