পর্যবেক্ষণে আরও ১০৮৩ জন

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২০ | ১ শ্রাবণ ১৪২৭

করোনা ভাইরাসে সারা দেশে সতর্কতা

পর্যবেক্ষণে আরও ১০৮৩ জন

ডেস্ক রিপোর্ট ৭:৪৭ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৯, ২০২০

print
পর্যবেক্ষণে আরও ১০৮৩ জন

করোনা ভাইরাসে এখন পর্যন্ত সারা দেশে আক্রান্ত হয়েছেন ১৭ জন। এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একজন মারা গেছেন। ৭০ বছর বয়সী ওই পুরুষ ডায়াবেটিস, কিডনি, উচ্চ রক্তচাপেও ভুগছিলেন। এ ছাড়া তার হার্টে স্টেন্ট পরানো ছিল। ভাইরাসটির ছড়িয়ে পড়া রোধে সারা দেশে আরও ৮৬৪ জনকে সঙ্গনিরোধ অর্থাৎ পর্যবেক্ষণে (কোয়ারেন্টাইন) রাখা হয়েছে। এ নিয়ে গত দুদিনে দুই হাজার ১৫৭ জনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হলো।

এছাড়া অন্যভাবে ভাইরাসটি যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য সব পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। তাই করোনা নিয়ে সবাইকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনভাবে মোকাবেলার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। নতুন করে কেউ আক্রান্ত হলে চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে হাসপাতালগুলো। গঠন করা হয়েছে মেডিকেল টিম। ভাইরাসটি নিয়ে গুজব ছড়াচ্ছে এক শ্রেণীর মানুষ। গুজব রোধে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে দেশবাসীকে সচেতন করতে চালানো হচ্ছে প্রচারণা। বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে-

ফরিদপুর : ফরিদপুরে বর্তমানে ৪২ নিজ বাড়িতে পর্যবেক্ষণে জনকে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে ২৩ জনকে। এদিকে ফরিদপুর স্বাস্থ্য বিভাগ চার হাজার তিনজন প্রবাসীকে খুঁজতে শুরু করেছে। তাদের সকলের খোঁজ খবর এখনও স্বাস্থ্য বিভাগ জানে না। তাদের নিজ উদ্যোগে পর্যবেক্ষণে থাকার কথা থাকলেও তারা সেই নির্দেশনা মানছেন না। করোনা ভাইরাস ছড়ানোর আশঙ্কা নিয়েও তারা বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। গত ১ মার্চ থেকে ১৮ মার্চ পর্যন্ত তারা বিদেশ থেকে এসেছেন।

জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, আমরা করোনা মোকাবেলায় ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ওয়ার্ড মেম্বার, স্বাস্থ্য বিভাগসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষকে কাজ কছি। এখনও ফরিদপুরে সার্বিক পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সবাইকে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে আরও বেশি সতর্ক হতে হবে। এ বিষয়ে সচেতন করতে জেলা প্রশাসন মাইকিং এবং লিফলেট বিতরণ করছে।

কিশোরগঞ্জ : গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৭৫ জনকে পর্যবেক্ষণে আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৮ জন নিজ বাড়িতে পর্যবেক্ষণে এবং সাত জনকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে।

সিভিল সার্জন ডা. মো. মুজিবুর রহমান জানান, কিশোরগঞ্জে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যবেক্ষণ বাড়ানো হচ্ছে। এজন্যে জেলার হাওর অধ্যুষিত উপজেলা অষ্টগ্রামের তিনটি উচ্চ বিদ্যালয়ে, ভৈরবের ট্রমা হাসপাতাল ও সদরের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যবেক্ষণ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। তবে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এখনও কাউকে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়নি।

নওগাঁ : নওগাঁয় ১৬১ জন প্রবাসীকে নিজ বাড়িতে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সিভিল সার্জন আখতারু জ্জামান বলেন, গত কয়েকদিনে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ১৬১ জনকে বর্তমানে নিজ বাড়িতে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৭ জনের ১৪ দিন সময় পার হয়েছে। তারা সুস্থ রয়েছেন। বর্তমানে ১৩৪ জন নিজ বাড়িতে পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। সব সময় তাদের দেখভাল করা হচ্ছে। তাদের বাইরে ঘোরাফেরা না করে বাড়িতে অবস্থানের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ১৪ দিনের মধ্যে যদি তাদের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ দেখা দেয় তাহলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহে গত ২৪ ঘণ্টায় বিদেশ ফেরত আরও ১০৪ জনকে নিজ বাড়িতে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এ নিয়ে ২২৩ জনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হলো। গত বুধবার পর্যন্ত এ সংখ্যা ছিল ১১৯ জন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন ডা. এবিএম মশিউর রহমান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, নিজ বাড়িতে পর্যবেক্ষণে রাখা প্রত্যেকেই বিদেশ ফেরত। প্রত্যেকেই সুস্থ আছে। তাদের শরীরে করোনা ভাইরাসের কোনো লক্ষণ নেই। অতিরিক্ত সতর্কতার কারণে তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) : নাসিরনগর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিদেশ ফেরত নয় জনকে পর্যবেক্ষণে রাখার নির্দেশ দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গত ১ মার্চ থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ২১৪ জন এবং ১৬ ও ১৭ মার্চ নয় জনসহ ২২৩ জন প্রবাসী দেশে এসেছেন। তাদের মধ্যে নয় জনকে শারীরিক পরীক্ষা নিরীক্ষার পর ভাইরাসের উপসর্গ না থাকার পরও সরকারি নির্দেশে ১৪ দিন পর্যবেক্ষণে থাকতে হবে।

মানিকগঞ্জ : মানিকগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ৪০৪ জন প্রবাসীকে নিজ বাড়িতে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। গত বুধবার এ সংখ্যা ছিল ৩৫৯ জন। গতকাল বৃহস্পতিবার নতুন করে আরও ৬৩ জনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তবে গত পাঁচ দিনে পর্যবেক্ষণ থেকে মুক্ত হয়েছেন ১০০ জন। তাদের শরীরে কারোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ারুল আমিন আখন্দ।

গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জে ৭১ জনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ এ তথ্য জানিয়েছেন। ভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসায় গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে সাতটি আইসোলেশন বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

আদমদীঘি (বগুড়া) : বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় করোনা ভাইস সন্দেহে বিদেশ থেকে আসা ৩৭ জনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শহীদুল্লাহ দেওয়ান জানান, গত ৩ মার্চ থেকে বিদেশ থেকে আসা ৩৭ ব্যক্তিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তবে এখনও কারও শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়নি।

রানীনগর (নওগাঁ) : রানীনগর উপজেলায় করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য পশ্চিম বালুভরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুই ইউনিটের একটি আইসোলেশন সেন্টার খোলা হয়েছে। এছাড়া পর্যবেক্ষণে থাকা সবাইকে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা নজরদারি করছেন।

পাবনা : পাবনায় বিদেশ ফেরত ৬৮ জনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তবে জেলার কোথাও করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়নি। সিভিল সার্জন ডা. মেহেদী ইকবাল জানান, পর্যবেক্ষণের শর্ত মেনে টানা ১৪ দিন ঘরের বাইরে না যেতে তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব শর্ত মানতে তাদের বাধ্য করতে কঠোর নজরদারি শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।

পিরোজপুর : পিরোজপুরে ৩২ জন পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এদের সবাই বিদেশ ফেরত। পিরোজপুর সিভিল সার্জন হাসনাত ইউসুফ জাকী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দিনাজপুর : দিনাজপুর সদর, হাকিমপুর, নবাবগঞ্জ, খানসামা, বিরামপুর, কাহারোল ও পার্বতীপুরে চীনা নাগরিকসহ ১৭ জনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল কুদ্দুস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর মধ্যে খানসামা উপজেলায় এক ওমান প্রবাসী নারী ও এক দুবাই প্রবাসী পুরুষকে পর্যবেক্ষণে রেখেছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। নবাবগঞ্জ উপজেলায় ওমান থেকে ফেরত এক জনকে পর্যবেক্ষণে রেখেছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। হাকিমপুর উপজেলায় দুজন এবং দিনাজপুর সদরের চাউলিয়াপট্টিস্থ সৌদি আরব থেকে একজনকে পর্যবেক্ষণে রেখেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এছাড়া পার্বতীপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে তিন চীনা নাগরিককে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বিরামপুরে চীন থেকে ফেরত আসা ছয় জনকে পর্যবেক্ষণে রাখা রয়েছে।

যশোর : যশোরে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন নতুন করে এমন সাতজনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত আটটি উপজেলায় ৬৭ জনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এছাড়া আক্রান্তদের চিকিৎসায় যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ১০টি বেড ও যশোর টিবি হাসপাতালে ৩০টি বেড নির্ধারণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে বেড নির্ধারণ করা হয়েছে।

ভোলা : করোনা ভাইরাস সংক্রামন এড়াতে ভোলায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১০৮ জনকে নিজ বাড়িতে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এ নিয়ে নিজ বাড়িতে পর্যবেক্ষণে রাখা ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়ালো ১৫০ জনে। তারা সম্প্রতি ওমান, ইতালি, জার্মানি, সিঙ্গাপুর, ভারত, মালেয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন।

সিভিল সার্জন ডা. রতন কুমার ঢালী বলেন, নিজ বাড়িতে পর্যবেক্ষণে রাখা ব্যক্তিরা সবাই বিদেশ ফেরত। তাদের মধ্যে চারজনের জ্বর ও সর্দি কাশি রয়েছে। বাকিরা মোটামুটি স্বাভাবিক। তবে আমরা সবাইকে ১৪ দিনের জন্য নিজ বাড়িতে পর্যবেক্ষণে রেখেছি। এছাড়াও তিনজনকে পর্যবেক্ষণ থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে প্রস্তুত রয়েছে ভোলার স্বাস্থ্য বিভাগ। ইতোমধ্যে জেলা সদর হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা ওয়ার্ড (আইসোলেশন) চালু করা হয়েছে। গঠন করা হয়েছে আটটি মেডিকেল টিম। এছাড়াও আটটি কন্ট্রোল রুম খোলা রয়েছে।

চাটমোহর (পাবনা) : পাবনার চাটমোহরে বিদেশ ফেরত ছয়জনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সম্প্রতি তারা দেশে ফিরেছেন। চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শোয়াইবুর রহমান জানান, উপজেলার ছাইকোলা গ্রামের ইয়াকুব আলীর ছেলে চীন ফেরত সৈকত আলী (২২), হরিপুর ইউনিয়নের শালমারা গ্রামের মহির উদ্দিনের ছেলে মালয়েশিয়া ফেরত আকরাম হোসেন ওরফে কুড়ান, পাশ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের ছোট গুয়াখাড়া গ্রামের নবীর উদ্দিনের মেয়ে মরিশাস ফেরত সীমা খাতুন, মথুরাপুর ইউনিয়নের মথুরাপুর পূর্বপাড়ার শামসুল আকন্দের ছেলে সৌদি আরব ফেরত মানিক হোসেন, খড়বাড়িয়া গ্রামের মৃত জমির উদ্দিনের স্ত্রী দুবাই ফেরত দেলোয়ারা বেগম ও বাহাদুরপুর গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে কুয়েত ফেরত জামাল উদ্দিনকে চেকআপ করানোর পর সবাই ভালো থাকলেও ঝুঁকি এড়াতে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

শেরপুর : শেরপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চারজনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এ নিয়ে ১৩ জনকে পর্যবেক্ষণে রাখলো জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। তারা সবাই বিদেশ ফেরত।
সিভিল সার্জন ডা. একেএম আনোয়ারুল রউফ বলেন, করোনা পজিটিভ রোগীর সংস্পর্শে আসার কারণে তাদের মধ্যে যদি সর্দি, কাশি, বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, পাতলা পায়খানাসহ শরীরে কোনো সমস্যা দেখা দেয় তবে টেলিফোনে সংশ্লিষ্ট ডাক্তার বা সিভিল সার্জনকে জানাতে বলা হয়েছে।

এছাড়াও যদি করোনার কোনো সংক্রামন পাওয়া যায়, তাহলে তা সংগ্রহ করে আইইডিসিআরে পাঠানো হবে।

হাসপাতালে ১৫০টি শয্যা প্রস্তুতিসহ নানা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে জেলা সদর হাসপাতালে ১০ শয্যা বিশিষ্ট আইসোলেশন ওয়ার্ড, ঝিনাইগাতী উপজেলা হাসপাতালে ২০ শয্যা, শ্রীবরদী হাসপাতালে ২০ শয্যা, নালিতাবাড়ীর রাজনগর মা ও শিশু হাসপাতালে ৫০ শয্যা ও নকলার উরফা হাসপাতালে ৫০ শয্যা রয়েছে। করোনা সন্দেহ হলে নালিতাবাড়ী ও নকলার দুটি প্রতিষ্ঠানে পর্যবেক্ষণে কক্ষে রাখা হবে।

ঠাকুরগাঁও : বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ১৬ জনের নামের তালিকা প্রকাশ করে পর্যবেক্ষণে থাকার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। এদিকে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ছয় শয্যার একটি ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলার হাসপাতালে করা হয়েছে বিশেষ ওয়ার্ড।

বান্দরবান : চীন প্রবাসী এক নারীসহ পরিবারের পাঁচ সদস্যকে বান্দরবান সদর হাসপাতালের পর্যবেক্ষণে আনা হয়েছে। চীনের নাইকং প্রদেশ থেকে বাংলাদেশে এসে বান্দরবানের পুবেশের সময় তাদের হাসপাতালে আনা হয়।

পটুয়াখালী : জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে করোনা ভাইরাস সম্পর্কিত জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জেলার কোথাও কোনো প্রকার সভা, সমাবেশ, ধর্মীয় অনুষ্ঠানসহ অন্যান্য গণজমায়েত না করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। বিদেশ ফেরতদের বাধ্যতামূলক ১৪ দিন নিজ বাড়িতে পর্যবেক্ষণে থাকার জন্য বলা হয়েছে।

রাজবাড়ী : রাজবাড়ীতে এখন পর্যন্ত বিদেশ থেকে এসেছেন এক হাজার ৭২৫ জন। রাজবাড়ী পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন। এদের মধ্যে গতকাল বহস্পতিবার পর্যন্ত নিজ বাড়িতে পর্যবেক্ষণে রয়েছেন ৮৭ জন। সিভিল সার্জন ডা. নুরুল ইসলাম জানান, রাজবাড়ীর পাঁচটি উপজেলায় বিভিন্ন দেশ থেকে আগত ৮৭ জন প্রবাসীকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তবে তারা সবাই সুস্থ আছেন।

নড়াইল : নড়াইলে তিনটি সরকারি হাসপাতালে জ্বর-সর্দি-কাশি উপস্বর্গ থাকা রোগীদের জন্য আগামীকাল শনিবার থেকে আদালা ওয়ার্ডে চিকিৎসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জেলা সিভিল সার্জন অফিসের তথ্যমতে, ১৯ মার্চ পর্যন্ত ৭২ জন প্রবাসী পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। ১৭ মার্চ পর্যন্ত এ সংখ্যা ছিল ২০ জন। তবে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসায় সদর হাসপাতালে ১০, কালিয়া ও লোহাগড়ায় পাঁচটি করে ২০টি বেডের আইসোলেশন ইউনিট খোলা হয়েছে। এছাড়া নার্সিং কলেজ ও টিটিসিতে প্রয়োজন মতো আইসোলেশন ইউনিট খোলা হবে।

সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জে গত ১ মার্চ থেকে ১৫ মার্চের মধ্যে এক হাজার ৫৯৬ জন বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছেন। এর মধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় ৬৯ জনকে পর্যাবেক্ষণে রাখা হয়েছে। বাকিরা কোথায় এবং কিভাবে অবস্থান করছে তার সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন অফিসের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা হুমায়ন কবির। তিনি জানান, সদর উপজেলায় ছয়জন, কাজিপুরে ১৩ জন, বেলকুচিতে ১৪, উল্লাপাড়ায় ১৫, কামারখন্দে পাঁচজন, রায়গঞ্জে পাঁচজনসহ ৬৯ জন নিজ বাড়িতে পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

সিভিল সার্জন ডা. জাহিদুল ইসলাম জানান, পর্যবেক্ষণে থাকা ব্যক্তিদের নিয়মিত খোঁজ খবর রাখছে স্বাস্থ্য বিভাগ। কেউ নির্দেশনা না মানলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। করোনা ঝুঁকি এড়াতে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যার বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালসহ নয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬৫টি আইসোলেশন বেড স্থাপন করা হয়েছে। সচেতনতার জন্য মাইকিং, লিফলেট বিতরণও করা হচ্ছে।

শেরপুর (বগুড়া) : বগুড়ার শেরপুরের খামারকান্দিতে নোভেল করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে এলাকায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আলোচনা সভা ও লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। সভায় করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা, প্রতিরোধে সচেতনতামূলক আলোচনা এবং ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে লিফলেট বিতরণ করা হয়।

রংপুর : করোনা ভাইরাস রোধে উদ্যোগ গ্রহণের জন্য বাসদ (মার্কসবাদী) রংপুর জেলা শাখার উদ্যোগে সিভিল সার্জনকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। জেলা সমন্বয়ক কমরেড আনোয়ার হোসেন বাবলুর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি টিম এই স্মারকলিপি প্রদান করেন।

আদিতমারী (লালমনিরহাট) : আদিতমারীতে আনসার ভিডিপির উদ্যোগে করোনা ভাইরাস থেকে আত্মরক্ষায় সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। এ সময় তারা বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন, হাট-বাজারের দোকান পাটসহ জনসাধারণকে এসব বিষয়ে সচেতন করতে লিফলেট বিতরণ করে।

রাজশাহী : রাজশাহী পুলিশ লাইনসে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ বিষয়ক সচেতনতামূলক সভা ও লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। সভা শেষে ফোর্সদের মাঝে লিফলেট ও মাস্ক বিতরণ করেন পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ।

ঝালকাঠি : ঝালকাঠি জেলায় এ পর্যন্ত ৫৮ জনকে নিজ বাড়িতে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। করোনা ভাইরাস সচেতনাতায় ঝালকাঠি জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রচারপত্র বিলি করা হয়েছে। শহরের সাধনা মোড়, পৌর মিনিপার্ক, কলেজ খেয়াঘাট, পেট্রোলপাম্প মোড় ও কলেজ মোড় এলাকায় লিফলেট বিতরণ করেন পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়াসমিন।

আত্রাই (নওগাঁ) : আত্রাইয়ে করোনা ভাইরাস রোধে সচেতন করতে মাইকিং করেছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রোকসানা হ্যাপি জানান, এ উপজেলায় নিজ বাড়িতে পর্যবেক্ষণে থাকা ২৪ জনের প্রত্যেকেই বিভিন্ন দেশ থেকে সম্প্রতি দেশে এসেছেন। এতে আতঙ্কের কিছু নেই।

মোংলা (বাগেরহাট) : মোংলায় বিদেশ ফেরত ২১৯ জনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রতি বিদেশ থেকে আসা এসব ব্যক্তিকে নিজ নিজ বাড়তে থাকতে বলেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাহাত মান্নান।

তিনি বলেন, করোনা সংক্রমণ রোধে বিদেশ থেকে আসা ব্যক্তিরা যাতে ঘর থেকে বের না হয় সেজন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ এবং ওই এলাকাগুলোতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।