গাজীপুর সিটিতে মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ জীবন

ঢাকা, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২০ | ২০ চৈত্র ১৪২৬

গাজীপুর সিটিতে মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ জীবন

তানজেরুল ইসলাম, গাজীপুর ২:৪৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২০

print
গাজীপুর সিটিতে মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ জীবন

গাজীপুর মহানগরে মশক নিধন কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। ফলে দিনের বেলায় মশার উপদ্রপে অতিষ্ঠ জনজীবন।

জানা যায়, দেশের সর্ববৃহৎ সিটি করপোরেশন গাজীপুর। সিটি করপোরেশনের গুরুত্ব বিবেচনায় বিগত ২০১৮ সালে গাজীপুর মহানগরে মেট্রোপলিটন পুলিশিং কার্যক্রম শুরু হয়। শিল্প অধ্যুষিত গাজীপুর মহানগরে দুটি বিসিক শিল্প জোন রয়েছে। নগরীতে ৪০ লাখের বেশি মানুষের বসবাস। অথচ ঘনবসতিপূর্ণ মহানগরটিতে মশক নিধন কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। এর পরিণামে মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে নগরবাসী। অন্তত দায়সারা হলেও নগরভবনের পক্ষ থেকে মশক নিধন কার্যক্রম প্রত্যাশা নগরবাসীর।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য পরিদর্শক মদন চন্দ্র দাস জানান, মহানগরে মশক নিধনে ফগার মেশিন সংখ্যা ৩৫টি। অথচ ৩০টি ফগার মেশিন মশক নিধনের ব্যবহৃত হচ্ছে না। তবে ৫টি ফগার মেশিন নগরীর টঙ্গী ও জয়দেবপুর শহরের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বাড়ির আশপাশে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষ করে জয়দেবপুর শহরে গাজীপুর জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের সরকারি বাসভবনের আশপাশে মশক নিধন করা হচ্ছে। চলতি বছরের মে মাস থেকে নগরব্যাপী মশক নিধন কার্যক্রম শুরু হতে পারে বলে তিনি জানান।

টঙ্গী এলাকার স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী সুজন সারোয়ার জানান, টঙ্গীতে দিন-রাত মশার উপদ্রবে পাগল হয়ে যাওয়ার উপক্রম। মশার কয়েল জ্বালিয়েও পরিত্রাণ মিলছে না।

গুতিয়ারা এলাকার ব্যবসায়ী প্রিন্স আক্ষেপ করে জানান, অন্তত মেয়রের বাড়ির এক কিলোমিটারের মধ্যে যাতে মশক নিধন করা হয়। কেননা মেয়রের বাড়ি থেকে তার বাড়ির দূরত্ব প্রায় এক কিলোমিটার।

কোনাবাড়ী এলাকার ব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলাম জানান, শাখা সড়কগুলোর ড্রেনেজ ব্যবস্থা নাজুক। যত্রতত্র সোয়ারেজের পানি। সন্ধ্যার পর মশার উপদ্রবে রাস্তা দিয়ে হেঁটে চলাও মুশকিল।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এস এম সোহরাব হোসেন জানান, কাউন্সিলরা জনপ্রতিনিধি। মশক নিধন তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। তারা ব্যবস্থা নেয় না কেন? ফগার মেশিন এবং ওষুধ দিতে আমরা প্রস্তুত।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় যত্রযত্র ময়লা আবর্জনার ভাগাড়। নগরীর ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টেও ময়লা আবর্জনার ভাগাড়। বিভিন্ন এলাকায় ঢাকানাবিহীন ড্রেনেজ ব্যবস্থা। কোথাও আবার সোয়ারেজের পানি ড্রেন উপচে শাখা সড়কে জমে আছে।