কোটি টাকার বনভূমি উদ্ধার

ঢাকা, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২০ | ২৭ চৈত্র ১৪২৬

কোটি টাকার বনভূমি উদ্ধার

তানজেরুল ইসলাম, গাজীপুর ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২০

print
কোটি টাকার বনভূমি উদ্ধার

গাজীপুর কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক বিটের অধীন কলাবাধা এলাকায় বেদখল পাঁচ একর বনভূমি উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। উদ্ধারকৃত বনভূমির বাজার মূল্য প্রায় এক কোটি টাকা। ঢাকা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোহাম্মদ ইউছুফের নির্দেশে গত শনিবার এ উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়। এতে নেতৃত্ব দেন কালিয়াকৈর রেঞ্জ কর্মকর্তা এ কে এম আজহারুল ইসলাম।

মৌচাক বিট কর্মকর্তা (ফরেস্টার) এমদাদুল হক জানান, ১৪ নম্বর কৌচাকুড়ি মৌজার ১২৪৬ সিএস দাগের ২১২৭ আরএস দাগে এলাকার হানিফ (৩৪) ও তার স্ত্রী লিপি আক্তারের (২৮) নেতৃত্বে একটি অসাধুচক্র প্রায় পাঁচ একর বনভূমি দখল করে রেখেছিল। বিগত দিনে ওই বনভূমিতে একটি কলোনি নির্মাণের চেষ্টা হিসেবে ছোট-বড় আটটি টিনের ঘর নির্মাণ করে ক্রটি। অভিযান পরিচালনার সময় লিপি আক্তার কোদাল হাতে বন বিভাগের কর্মকর্তা ও স্টাফদের ওপর হামলার চেষ্টাও চালায়। পরে তাকে আটক করে পিওআর মামলা দায়েরের পর গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়। অভিযানে কালিয়াকৈর রেঞ্জের রঘুনাথপুর বিট কর্মকর্তা দিলীপ কুমার, বোয়ালী বিট কর্মকর্তা ইলিয়াস হোসেন, সাভারের বারইপাড়া বিট কর্মকর্তা মোশারফ হোসেনসহ বিভিন্ন বিটের স্টাফরা অংশ নেন। মৌচাক বিটে বেহাত বনভূমি উদ্ধারে এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে বলেও তিনি জানান।

বনভূমি উদ্ধার প্রসঙ্গে ঢাকা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইউছুফ জানান, আইনি জটিলতার পাশাপাশি রেকর্ড সংশোধনী ও উচ্ছেদ মোকদ্দমাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি না হওয়ায় বন উদ্ধারে বিলম্ব হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণেও বনায়ন কার্যক্রমে বিলম্ব হচ্ছে।

বহু বছর আগে যারা বন দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করেছেন এসব স্থাপনা উচ্ছেদ করার লক্ষ্যে উচ্ছেদ মোকদ্দমার নিষ্পত্তি জরুরি। উচ্ছেদ মোকদ্দমার নিষ্পত্তি ব্যতীত এককভাবে উচ্ছেদের আইনগত বৈধতা বন বিভাগের নেই। তবে নতুন করে কেউ বন দখলের চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরোধের পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ডিমারকেশন বা সীমানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বন বিভাগ আন্তরিক। তবে বনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক অথবা বনভূমির ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বা ওই জমিতে বনভূমি ছাড়া প্রবেশের কোনো রাস্তা না থাকলে বন বিভাগ বরাবর ডিমারকেশনে আপত্তি জানিয়ে আসছে। এ ধরনের আপত্তি বন রক্ষার স্বার্থে বলেও তিনি জানান।