রূপগঞ্জে কৌশল পাল্টে সক্রিয় মাদককারবারি চক্র

ঢাকা, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২০ | ২৭ চৈত্র ১৪২৬

রূপগঞ্জে কৌশল পাল্টে সক্রিয় মাদককারবারি চক্র

মাহবুব আলম প্রিয়, রূপগঞ্জ ৩:৫২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২০

print
রূপগঞ্জে কৌশল পাল্টে সক্রিয় মাদককারবারি চক্র

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের রাজউকের নির্মাণাধীন পূর্বাচল উপশহর প্রায় নির্জন এলাকায় পরিণত হয়েছে। তবে যাতায়াত সুবিধায় এশিয়ান ঢাকা বাইপাস ও ৩শ’ ফুট সড়ক থাকায় সহজেই স্থানীয় মাদকসেবী, পাইকারী ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীরাও এ নির্জনে আসেন মাদকের সহজতর ব্যবসা রমরমা করতে। তাতে অনিরাপদ ও আতঙ্কের নিরাপদ অপরাধ জোন হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে পূর্বাচল।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে চোরাই মদের অস্থায়ী কিংবা স্থায়ী কারখানা গড়ে তুললেও রহস্যজনক আইনশৃঙ্খলাবাহিনী তা নির্মূল করছে না। এতে চোরাইমদ কিংবা বাংলামদের কারখানা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক উৎপাদন ও বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে অনায়াসে। বিপাকে রয়েছেন এখানকার সবজিচাষিরা। কৃষিকাজে সবজিচাষিদের মাচায় ব্যবহৃত বাঁশ চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে চোরাইমাদক কারিগররা।

বিগত ৩০ বছর ধরেই ধারাবাহিকভাবে ভাওয়াল রাজার গজারী বন, গুচ্ছগ্রাম, গোবিন্দ্রপুরের গজারি বনের গহীনে দিনে দুপুরে চোরাই মদ জ্বাল দিয়ে মদ উৎপাদন করে আসছে। সে সময় এ অঞ্চল গহীন থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখানে পৌঁছানোর আগেই কারবারিরা পালিয়ে যেত। কিংবা পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাও রয়েছে।

কালীগঞ্জের নাগরি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদির এ ধরনের অভিযোগে গাজীপুরের আদালতে বিচারাধীন মামলায় হাজিরা দিচ্ছেন।

স্থানীয় সবজি চাষি শামীম বলেন, পূর্বাচলের উৎপাদিত সবজি এখন রাজধানীর হাটবাজারে যাচ্ছে। এসব সবজি চাষ করে নিরীহ দরিদ্র কৃষকরা। এ সবজি মাচা তৈরিতে ব্যবহৃত বাঁশ বেশি দামে বাইরের জেলা থেকে কিনে আনতে হয়। আর চোরাই মাদক কারবারিরা সেসব বাঁশ চুরি করে নিয়ে মদের চুল্লিতে পুড়িয়ে দিচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রাশিদুল জানায়, গোবিন্দ্রপুরের অর্ধ-শতাধিক যুবক মাদক তৈরি কাজে জড়িত। এদের বেশির ভাগ এ অঞ্চলের প্লটের প্রাচীরের চাঁদাবাজিতেও জড়িত।
দিনের বেলায় প্লট প্রাচীরে দল বেঁধে হামলা করে। আর রাতের বেলায় মদের কারখানা পাহাড়া দেয়।

অভিযুক্ত চোরাই মাদক কারবারি শফিকুল বলেন, আমি মাদক কারবার করি না। তবে মাঝে মধ্যে শুধু চুল্লি করে জ্বাল দেই। এসব নিয়ন্ত্রণ করে অন্যরা। তাদের নাম বলা সম্ভব নয়।

ইউএনও মমতাজ বেগম বলেন, চোরাই মদের কারখানা বিষয়ে জানলাম। অতীতের মতো ওইসব মাদক কারখানা ধ্বংসে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নারায়ণগঞ্জ সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার মাহিন ফরাজি বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে পুলিশ ও র‌্যাব। তবে ব্যবসায়ীরা কৌশল পাল্টানোর কারণে তা দমন করতে কিছুটা সমস্যা হয়।