সেচের অভাবে ৪০ একর জমি অনাবাদি

ঢাকা, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২০ | ২৭ চৈত্র ১৪২৬

সেচের অভাবে ৪০ একর জমি অনাবাদি

জামাল উদ্দিন রাফি, লক্ষ্মীপুর ৩:৩৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২০

print
সেচের অভাবে ৪০ একর জমি অনাবাদি

লক্ষ্মীপুরে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় গত তিনমাস ধরে ফসলি ক্ষেতের একটি সেচ প্রকল্পে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এতে সেচ বন্ধ হয়ে পানির অভাবে জমি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। আবাদ করা ৩০ একর জমির বোরো ধানের চারা হলদে রঙ ধারণ করেছে। শীঘ্রই জমিতে পানি সরবরাহ না করলে ৩০৭ জন কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হবে। পানির অভাবে আরও ৪০ একর জমিতে হাল চাষ বন্ধ রয়েছে। এতে বোরা আবাদের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থাপন করা নতুন খুঁটিতে শীঘ্রই বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে সংকট নিরসনের দাবি কৃষকদের।

অভিযোগ রয়েছে, ইটভাটায় মাটি বিক্রির একটি সিন্ডিকেট, পল্লী বিদ্যুতের কর্মী ও শফিক উল্যার খামখেয়ালিপনায় প্রকল্পটির বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ আছে। এতে গ্রামের সহজ-সরল কৃষকদের বুঝিয়ে ওই সিন্ডিকেট ইটভাটায় মাটি বিক্রি করতে বেগ পেতে হবে না।

কৃষক মনছুর বলেন, পুরাতন পানি থাকায় আমি মৌসুমের শুরুতেই প্রায় ২ একর জমিতে বোরো আবাদ করি। কিন্তু বর্তমানে পানির অভাবে আমার ক্ষেতের জমি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে।

সূত্র জানায়, পাটওয়ারী সেচ প্রকল্পের অধীনে সদর উপজেলার দক্ষিণ মান্দারী, পূর্ব মান্দারী, জামিরতলি ও পশ্চিম দিঘলী গ্রামের প্রায় ৭০ একর জমিতে পানি সেচ দেওয়া হয়। এসব জমিতে ৩০৭জন কৃষক ফসল আবাদ করেন। মৌসুমের শুরুতেই অর্ধ-শতাধিক কৃষক প্রায় ৩০ একর জমিতে বোরো চারা রোপণ করেছেন। পানির অভাবে এখনো ৪০ একর জমিতে হালচাষ করা সম্ভব হয়নি।

পাটওয়ারী সেচ প্রকল্পের পরিচালক নুরুল হুদা বাহার পাটওয়ারী বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে স্থানীয় একটি চক্র জটিলতা সৃষ্টি করেছে। তারা চায়, সেচ প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যাক। এতে ইটভাটায় মাটি বিক্রি করতে সহজ হবে। এ বিষয়ে জনপ্রতিনিধিদের জানিয়েও কোন সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।

লক্ষ্মীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহকারী জেনারেল ম্যানেজার এমায়েত হোসেন বলেন, সংকট নিরসনে ঘটনাস্থলে প্রকৌশলী পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় সমস্যার কারণে সংযোগটি দেওয়া যাচ্ছে না। শীঘ্রই সংকট নিরসন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইউএনও শফিকুর রিদোয়ান আরমান শাকিল বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না।