কৃষকের কপালে ভাঁজ

ঢাকা, রবিবার, ৭ জুন ২০২০ | ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

কৃষকের কপালে ভাঁজ

নিত্যানন্দ হালদার, মাদারীপুর ২:৪৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২০

print
কৃষকের কপালে ভাঁজ

মাদারীপুরে অন্য বছর এ সময়ে বাজারে রাজৈরে বাঙ্গি আসতে শুরু করলেও অসময়ে বৃষ্টির কারণে চাষে বিলম্ব এবং শীতে কুয়াশার কারণে এবার কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। এছাড়া বাঙ্গি ক্ষেতে রোগ বালাই ও ভাইরাসের আক্রমণ দেখা দেওয়ায় আগাম বাঙ্গি চাষিদের মধ্যে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। কৃষি বিভাগের প্রয়োজনীয় পরামর্শ মোতাবেক কীটনাশক ছিটিয়েও কোন কুল কিনারা পাচ্ছেন না কৃষকরা।

জানা গেছে, জেলার চারটি উপজেলায় এ বছর ১৫০ হেক্টর জমিতে বাঙ্গি চাষাবাদ করা হয়েছে। চাষাবাদকৃত ১৫০ হে. জমির মধ্যে রাজৈরে ৭৫ হে., মাদারীপুর সদরে ৭ হে., কালকিনিতে ৩ হে. ও শিবচর উপজেলায় ৬৫ হে. জমিতে বাঙ্গির চাষাবাদ করা হয়েছে। রাজৈর উপজেলার আবাদকৃত ৭৫ হে. জমির মধ্যে উপজেলার বাজিতপুর ইউনিয়নের সুতারকান্দি ও গঙ্গাবর্দী গ্রামেই আবাদ হয়েছে ৬০ হে. জমিতে। যা আগাম বাঙ্গি হিসেবে পরিচিত। বিগত কয়েক বছরের ভয়াবহ বন্যায় রাজৈর উপজেলার বাজিতপুর ইউনয়নের কয়েক শত হেক্টর আবাদী জমিতে বালুর স্তর পড়ায় কৃষকদের জীবনে নেমে আসে এক ভয়াবহ বিপর্যয়। অনাবাদী হয়ে পড়ে শত শত হেক্টর জমি। 

বালু অপসারণ করে কৃষকদের ভাগ্যের চাকা বদলে দিতে শুরু করে আগাম বাঙ্গি চাষ। এ ইউনিয়নের সুতারকান্দি, গঙ্গাবদ্দী ও কোদালিয়া গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক কৃষকসহ মাদারীপুরের ৫ শতাধিক আগাম বাঙ্গি চাষিরা ব্যাপক মুনাফা অর্জণের লক্ষ্যে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। বাঙ্গি চাষ করে সবারই অভাব দূর হয়েছে। নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু করে পুরো নভেম্বর মাসের মধ্যে আগাম বাঙ্গির চাষাবাদের কাজ সম্পন্ন করা হয়।

ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে বাঙ্গি ফসল উঠতে শুরু করে। উত্তোলনের কাজ চলে এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত। বিভিন্ন জেলা থেকে বাঙ্গি ব্যবসায়ীরা এসে বাঙ্গি না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় অল্প কয়েক দিনের মধ্যে এখানকার বাঙ্গি উঠতে শুরু করবে বলে কৃষি অফিস ও চাষিরা আশা করছেন।

বাজিতপুরের সুতারকান্দি গ্রামের আব্দুল আলিম ফকির জানান, তিনি গত বছর ৫২ শতকের ৮ বিঘা জমিতে আগাম বাঙ্গি চাষ করে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা লাভ করেছিলেন। এ বছরও তিনি ৮ বিঘা জমিতে আগাম বাঙ্গির চাষ করেছেন। কিন্তু অসময়ে বৃষ্টি,কুয়াশা ও শীতের কারণে বাঙ্গি গাছে রোগ বালাই ও ভাইরাস দেখা দিয়েছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ মোতাবেক কীটনাশক ব্যবহার করেও কোন ফল পাচ্ছেন না। বাঙ্গি চাষে তিনি এ বছর লোকসানের আশঙ্কা করছেন।

রাজৈর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরহাদুল মিরাজ জানান, বাঙ্গি একটি স্বল্পকালীন ফসল। উচ্চ মূল্যের ফসল হিসেবে বাঙ্গি চাষ রাজৈর উপজেলায় বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। প্রতি বছরের এই সময়ে বাজারে রাজৈরের বাঙ্গি চলে আসে। এ বছর বৃষ্টির কারণে এখনও বাঙ্গি আসেনি। তবে খুব অল্প সময়ের মধ্যে রাজৈরের এই বাঙ্গি বাজারে আসবে।

মাদারীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ জিএমএ গফুর জানান, জেলায় এ বছর ১৫০ হেক্টর জমিতে বাঙ্গি চাষ হয়েছে। এর মধ্যে শিবচর উপজেলায় ৬৫ হেক্টর, রাজৈরেও ৭৫ হেক্টর, কালকিনিতে ৩ হেক্টর ও মাদারীপুর সদর উপজেলায় ৭ হেক্টর জমিতে বাঙ্গি আবাদ করা হয়েছে। রাজৈর উপজেলায় যে বাঙ্গি চাষ করা হয়েছে, তা সবই আগাম বাঙ্গি। আগাম বাঙ্গি চাষের জন্য রাজৈর উপজেলার বাজিতপুর ইউনিয়ন বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার মধ্যে যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছে।

আগাম বাঙ্গি একটি লাভজনক অর্থকরী ফসল হওয়ায় আবাদী জমি ও কৃষকরের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ব্যাপারে কৃষকদেরকে সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে।