পদ্মা নদীর তলদেশ দিয়ে চরে বিদ্যুৎ

ঢাকা, সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ৫ ফাল্গুন ১৪২৬

পদ্মা নদীর তলদেশ দিয়ে চরে বিদ্যুৎ

নুরে আলম জিকু, নড়িয়া, শরীয়তপুর ১০:২৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২০

print
পদ্মা নদীর তলদেশ দিয়ে চরে বিদ্যুৎ

পদ্মার বুক চিরে জেগে ওঠা চর। যেখানে স্বাভাবিক যাতায়াত ছিল কষ্টসাধ্য, সেখানে বিদ্যুতে আলোকিত হবে- এমন ভাবনাও ছিল স্বপ্নের মতো। সেই স্বপ্ন এখন বাস্তবে দেখতে চলেছে পদ্মাবেষ্টিত নওপাড়া, চরআত্রা ও কাঁচিকাটা ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার পরিবার। পদ্মা নদীর তলদেশ দিয়ে সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে বিদ্যুতে আলোকিত হচ্ছে এ চর। বিষয়টি ভাবতেই এখন শরীয়তপুরের তিন ইউনিয়নের ৭২ হাজার মানুষের মনে দোলা দিচ্ছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস। বয়ে যাচ্ছে খুশির ঢল।

আগামীকাল শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিদ্যুৎ সংযোগ উদ্বোধন করবেন পানিসম্পদ উপমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য এ কে এম এনামুল হক শামীম। এখন চলছে প্রস্তুতি। চরআত্রা ও নওপাড়া ইউনিয়ন পড়েছে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায়। আর কাঁচিকাটা ইউনিয়নের অবস্থান ভেদরগঞ্জ উপজেলায়। এ তিন চর ইউনিয়নে প্রায় ৭২ হাজার মানুষের বসবাস। ইউনিয়ন তিনটি শরীয়তপুর-২ সংসদীয় আসনভুক্ত।

গত সংসদ নির্বাচনে এ কে এম এনামুল হক শামীম ওই চরগুলোতে গণসংযোগে যান। স্থানীয়রা তখন বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার দাবি তোলেন। শামীম নির্বাচিত হলে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করারও প্রতিশ্রুতি দেন। নির্বাচনের পর এনামুল হক শামীম ওই তিন ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার বিষয়ে শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সভা করেন। সিদ্ধান্ত হয় মুন্সীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি থেকে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হবে। পরে শরীয়তপুর ও মুন্সীগঞ্জ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির সঙ্গে এনামুল হক শামীম সভা করেন। সভায় সিদ্ধান্ত হয় সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে নদীর মধ্য দিয়ে বিদ্যুতের লাইন নেওয়া হবে দুর্গম চরে। পরে শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ওই তিনটি ইউনিয়নের কার্যক্রম মুন্সীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে হস্তান্তর করা হয়। সে অনুযায়ী মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়। ২০১৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড থেকে এ বিষয়ে প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদনের ভিত্তিতে কাজ শুরু করে মুন্সীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। সেই কাজের ফল পেতে চলছে নওপাড়া, চরআত্রা ও কাঁচিকাটা ইউনিয়নের পরিবারগুলো।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চারদিকে পদ্মা ও মেঘনা নদী। মাঝে ছোট-বড় অসংখ্য চর। ৭০ বছর আগে ওই চরে মানুষ বসবাস শুরু করে। চরগুলোর অবস্থান ওই তিনটি ইউনিয়নের মধ্যে। চরের মানুষ হারিকেন ও প্রদীপের আলো ছাড়া কখনো বিদ্যুতের আলো পাননি। কিন্তু এবার পদ্মা নদীর তলদেশ দিয়ে সেই চরে পৌঁছেছে বিদ্যুৎ।

নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ আজগর সোহেল মুন্সী বলেন, আমাদের ইউনিয়নটি একটি দুর্গম চর। পদ্মানদী পাড়ি দিয়ে এখানে বিদ্যুৎ দেওয়া হবে- এটি কখনো ভাবিনি। এলাকায় বিদ্যুৎ এসেছে- এমন খবরে আমরা আনন্দিত।

শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক জুলফিকার রহমান বলেন, পদ্মা নদীর তলদেশ দিয়ে সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে শরীয়তপুরের তিনটি চরে বিদ্যুৎ দেওয়া হচ্ছে। চর তিনটি আমাদের আওতায় পড়েছে। তবে মুন্সীগঞ্জ জেলা কাছে এবং সেখান থেকে সুবিধা বেশি হওয়ায় ওই জেলা থেকে সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ দেওয়া হচ্ছে। ওই চরে একটি সাবস্টেশন নির্মাণ করা হচ্ছে।

মুন্সীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক এএইচএম মোবারক উল্লাহ বলেন, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার ছিপাইপাড়া থেকে শরীয়তপুরের নওপাড়ার দূরত্ব প্রায় ২৪ কিলোমিটার। সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে তিনটি ইউনিয়নে (৩৩ কেবি) বিদ্যুৎ দেওয়া হচ্ছে, যা ২০ হাজার পরিবার ভোগ করবে। শনিবার আপাতত এক হাজার পরিবারকে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। আর নওপাড়া ইউনিয়নে একটি পল্লী বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রও হচ্ছে।

এ বিষয়ে পানিসম্পদ উপমন্ত্রী ও শরীয়তপুর-২ আসনের সদস্য (এমপি) এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেন, বাংলাদেশের প্রত্যেকটি গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমরা তার ঘোষণা বাস্তবায়ন করছি। নির্বাচনের সময় প্রতিশ্রুতি ছিল দ্রুত সময়ের মধ্যে চরবাসীকে বিদ্যুৎ দেওয়া হবে। পদ্মার দুর্গম চর হওয়ায় সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে বিদ্যুতের আলো পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। উপমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মুজিববর্ষের বিশেষ উপহার হিসেবে সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে দুর্গম চরবাসী বিদ্যুৎ পাচ্ছেন। তাছাড়া পদ্মা বহুমুখী সেতুও দৃশ্যমান এখন। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বপ্ন দেখেন, স্বপ্ন দেখান এবং স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেন। এটাই তার বড় প্রমাণ।