বেড়িবাঁধে প্রকল্পের ছড়াছড়ি

ঢাকা, সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১২ ফাল্গুন ১৪২৬

বেড়িবাঁধে প্রকল্পের ছড়াছড়ি

শহীদ নূর আহমেদ, সুনামগঞ্জ ১০:২৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২০, ২০২০

print
বেড়িবাঁধে প্রকল্পের ছড়াছড়ি

২০১৭ সালে কাজের বিনিময়ে টাকা বা ‘কাবিটা’ নীতিমালা অনুযায়ী সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওরের বোরো ফসল সুরক্ষায় শুরু হয়েছে বাঁধ নির্মাণের কাজ। বাঁধ নির্মাণের শুরুর দিকেই পিআইসি গঠনে নীতিমালা না মানা, বিগত বছরের চেয়ে অধিক প্রকল্পের অনুমোদন, অপ্রয়োজনীয় স্থানে বাঁধ নির্মাণ, ক্ষেত্রবিশেষে প্রয়োজনের তুলনায় অধিক বরাদ্দসহ বাঁধ নির্মাণ সংক্রান্ত নানা বিষয় নিয়ে বিতর্ক উঠেছে।

২০১৮-১৯ অর্থবছরের চেয়ে চলতি অর্থবছরে অতিরিক্ত প্রকল্প অনুমোদন ও কাজের তুলনায় অধিক বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়টিকে সরকারি বরাদ্দ অপচয়ের পাশাপাশি সেখানে দুর্নীতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণের কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বাঁধ নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত কর্তাব্যক্তিরা। কোনো কারণ ছাড়াই অধিকাংশ উপজেলায় প্রতিযোগিতা করে বাড়ানো হয়েছে প্রকল্পের সংখ্যা (পিআইসি)।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অতিরিক্ত বরাদ্দ ও প্রকল্প বাড়ানোর ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে ধর্মপাশা উপজেলা। এই উপজেলায় প্রাক্কলিত প্রকল্পের অর্ধেকই অপ্রয়োজনীয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এ ক্ষেত্রে এর পরের অবস্থানে আছে সুনামগঞ্জ সদর। গত বছরের চেয়ে তিনগুণ বেশি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে এই উপজেলায়, যার বেশিরভাগই অপ্রয়োজনীয় বলে মত স্থানীয়দের।

এ ছাড়াও শাল্লা, জামালগঞ্জ, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, বিশ্বম্ভরপুর, দোয়ারাবাজার ও ছাতক উপজেলায় অনেক অপ্রয়োজনীয় স্থানে বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হাওর বাঁচাও আন্দোলনের দায়িত্বশীলদের অভিযোগ, এ বছর জেলায় প্রকল্প বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে বরাদ্দের পরিমাণ। বোরো ধানের সঙ্গে সম্পর্কহীন স্থানে প্রকল্প গ্রহণ, বাঁধের টাকায় গ্রামের রাস্তা নির্মাণসহ গত বছর বেড়িবাঁধে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

এভাবে বিভিন্ন হাওরে সরকারের কোটি কোটি টাকা অপচয়ের পাশাপাশি অনেকেই বরাদ্দের টাকা হজম করার পাঁয়তারা করবেন বলে অভিযোগ তাদের। যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত প্রকল্প বাতিলের দাবি জানিয়েছেন হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত অর্থ বছরে ৫৭২টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) মাধ্যমে ৫৪১ কিলোমিটার ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়। বাঁধ নির্মাণের জন্য ৮০ কোটি ২৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। বরাদ্দের টাকায় নির্মিত বাঁধের ফলে সে সময় নিরাপদে বোরো ফসল ঘরে তুলে নেন কৃষকরা।

জানা যায়, চলতি অর্থবছরে জেলার ১১ উপজেলায় ৬৩৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য ৭৪৪টি পিআইসি গঠন করা হয়। এর জন্য ১৩২ কোটি ১৭ লাখ টাকা বরাদ্দ চেয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠায় পাউবো। প্রথম ধাপে ৬৭৮টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয় সংশ্লিষ্ট দফতর। যেখানে গত বছরের চেয়ে দেড়শ’ প্রকল্প বেশি। বরাদ্দের পরিমাণও চাওয়া হয়েছে দ্বিগুণ।

হাওর বাঁচাও আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় বলেন, গত বছরে সাড়ে ৫০০ প্রকল্পের মাধ্যমে সুনামগঞ্জের হাওরের ফসল রক্ষা হলেও এবার এবার অহেতুক প্রকল্পের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে প্রতি উপজেলায় প্রতিযোগিতা করে পিআইসি বাড়ানো হয়েছে। অতিরিক্ত এবং অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ করে সরকারের কোটি কোটি টাকা অপচয় করা হচ্ছে।

প্রকল্প বৃদ্ধির ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমান বলেন, উপজেলা কমিটি যাচাই-বাছাই করে পিআইসির তালিকা অনুমোদনের জন্য জেলা কমিটির কাছে পাঠায়। পরবর্তীতে জেলা কমিটি ৬৭৮টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। কিছু পিআইসি নিয়ে অভিযোগ আছে। জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যেই প্রকল্প যাচাই কমিটি গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তারা মাঠপর্যায়ে প্রকল্প যাচাই করে রিপোর্ট দিলে প্রকল্প কার্যকর হবে।