যেসব অঞ্চল শত্রুমুক্ত হয়েছে আজ

ঢাকা, রবিবার, ২৬ জুন ২০২২ | ১২ আষাঢ় ১৪২৯

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

যেসব অঞ্চল শত্রুমুক্ত হয়েছে আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
🕐 ২:১৭ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১০, ২০১৯

যেসব অঞ্চল শত্রুমুক্ত হয়েছে আজ

১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের শুরু থেকেই মুক্তিযোদ্ধাদের সশস্ত্র ও গেরিরা আক্রমণের মুখে পাক হানাদার বাহিনী পিছু হটতে শুরু করে। এসময় দেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার খবর চারদিক থেকে আসতে থাকে। ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর এইদিনে হানাদার মুক্ত হয় দেশের কয়েকটি অংশ।

বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে 

ময়মনসিংহ : আজ ১০ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ হানাদার মুক্ত দিবস। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে ১৯৭১ সালের এই দিনে ভোরের সূর্য উঠার সঙ্গে সঙ্গে জয়বাংলা শ্লোগানে মুখরিত হয় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদবিধৌত জনপদ ময়মনসিংহ জেলা। সেদিন মুক্ত আকাশে স্বস্থির নি;শ্বাস ফেলেন মুক্তিকামী জনতা। মুক্ত আকাশে পত পত করে উড়তে থাকে রক্তে কেনা স্বাধীন দেশের লাল-সবুজের পতাকা। জয়বাংলার বজ্রতুল্য উচ্চারণ সবার কন্ঠে। স্মরণকালের ইতিহাস সৃষ্টিকারী বিজয় মিছিল। অগ্নিদীপ্ত উল্লাসে বিজয় আনন্দে মেতে উঠার প্রয়াস দেখায় ময়মনসিংহবাসী। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বরের দৃশ্যপট ছিল এমনই। এদিন মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্রবাহিনী যৌথভাবে পাকসেনাদের কবল থেকে ময়মনসিংহকে মুক্ত করেন।

এর আগে ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর ১১ নম্বর সেক্টরের এফ জে মুক্তিবাহিনী এবং ভারতীয় মিত্রবাহিনীর ১৩ রাজপুত রেজিমেন্ট ও ৯৫ ব্রিগেডের ৫৭ মাউন্টডিভিশন যৌথভাবে ময়মনসিংহ অঞ্চলে অবস্থানরত হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধের পরিকল্পনা করে। পরে মুক্তিবাহিনী সীমান্ত ঘেঁষা উপজেলা হালুয়াঘাট দিয়ে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়।
রাণীনগর (নওগাঁ) : আজ নওগাঁর রাণীনগর হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর এই দিনটি রাণীনগরবাসীর জন্য একটি স্মরণীয় দিন। আজকের এই দিনে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় ৩৭ ঘন্টা সম্মুখ যুদ্ধের মাধ্যমে হানাদার মুক্ত হয়। স্বাধীনতার সংগ্রামে সাড়া দিয়ে সারাদেশের ন্যায় এই উপজেলার মুক্তিযোদ্ধারা মাতৃভূমিকে শত্রু মুক্ত করার লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন। স্বাধীনতা সংগ্রামের নয় মাস রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের পর নওগাঁর রাণীনগর উপজেলাবাসী আজকের এ দিনে শত্রু মুক্ত হয়ে বিজয় উল্লাস আর ‘জয় বাংলা, বাংলার জয়’ জয়ধ্বনিতে প্রকম্পিত করে তুলেছিল রাণীনগর উপজেলার আকাশ-বাতাস।

এ এলাকা পাক হানাদার মুক্ত করতে অসংখ্য জীবন বলিদান এবং কতো অসহায় মা বোনের ইজ্জত লুন্ঠন করেছিল সেই ভয়াবহ দিনে তার সঠিক পরিসংখ্যান কেউ জানে না। তৎকালীন সময়ে স্থানীয় কিছু রাজাকার, আলবদর ও তাদের দোসরদেরকে নিয়ে আতাইকুলা পালপাড়া, হরিপুর, স্থল-বড়বরিয়া গ্রামে গণহত্যা, নারী নির্যাতন, অগ্নি সংযোগ ও লুটপাটে মেতে উঠে। এছাড়াও পঙ্গুত্বের অভিশাপ আর মা-বাবা, স্বামী, স্ত্রী, ভাই, বোন হারানো অসহ্য যন্ত্রনা নিয়ে এখনও অনেক নারী-পুরুষ বেঁচে আছে। ১৯৭১ সালের ৯ই ডিসেম্বর রাণীনগর পাক-হানাদার মুক্ত করার লক্ষ্যে মুক্তিযোদ্ধারা থানা সদরে থাকা হানাদার ক্যাম্প চারিদিক থেকে ঘেরাও করেন। পরদিন ১০ই ডিসেম্বর দীর্ঘ ৩৭ ঘন্টা সম্মুখ যুদ্ধে অবতীর্ন হয়ে শেষের দিকে ভোরে উভয় পক্ষের গোলাগুলির এক পর্যায়ে ১৭ জন রাজাকার অস্ত্রসহ আত্মসমর্পন করে।

মুক্তিযোদ্ধা আকতারুজ্জামান রনজু ও হারুন অর রশিদের নেতৃত্বে এই সম্মুখ যুদ্ধে স্থানীয়দের মধ্যে অংশ নেন মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ দুলু, আব্দুর রাজ্জাক, ইসমাইল হোসেন, নুরুল ইসলাম, শহিদুল্লাহ মিঞা, চয়েন সরকার এবং জেলা পর্যায়ের মুক্তিযোদ্ধা ওহিদুর রহমান, আফজাল হোসেনসহ নাম না জানা আরও অনেক মুক্তিযোদ্ধারা।

মাদারীপুর : আজ ১০ ডিসেম্বর মাদারীপুর মুক্ত দিবস। মাদারীপুরের সমাদ্দার এলাকায় পাক বাহিনীর সাথে টানা তিনদিনের রক্তক্ষয়ী এক যুদ্ধে এদিন মুক্ত হয় মাদারীপুর জেলা। এই যুদ্ধেই শহীদ হন জেলার সর্ব কনিষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা সরোয়ার হোসেন বাচ্চু।

১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে সাড়া দিয়ে মাদারীপুরে আলমগীর হোসাইন, স্টুয়ার্ট মুজিব ও খলিলুর রহমান খান ভারতের অম্বিকাপুর থেকে প্রশিক্ষণ শেষে পুলিশ, কৃষক, ছাত্রসহ সর্বস্তরের জনতা এক হয়ে মুক্তিবাহিনী গড়ে তোলে। মাদারীপুরের বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযোদ্ধারা অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করে পাকবাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার, আলবদর, আলসামসদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হন। পাকবাহিনী তাদের দোসরদের নিয়ে মুক্তিকামী মানুষের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিতে থাকে।

এর মধ্যে, বৌলগ্রাম, রাজৈর থানা ও পাখুল্যায় মুখোমুখি যুদ্ধ হয়। এখানে অংশগ্রহণ করেন সাবেক রক্ষীবাহিনীর ডেপুটি ডিরেক্টর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব.) সরোয়ার হোসেন মোল্যা। সকাল ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত চলে যুদ্ধ।নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে সাড়ে তিন শত মুক্তিযোদ্ধাসহ মুক্তিকামী মানুষ নিহত হয়। এর মধ্যে এপ্রিল মাসে খালিয়ার সেনদিয়ায় একদিনে ১৩১ জন রাজাকার ও পাকবাহিনীর হাতে নিহত হন।

মুক্তিযোদ্ধাদের মরণপণ লড়াইয়ে পরাস্ত হয়ে সর্বশেষ ৩ ডিসেম্বর মধ্য রাতে পাকবাহিনী রাজৈর ছেড়ে ফরিদপুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলে মুক্তিযোদ্ধারা টেকেরহাট বন্দরে তাদের আক্রমণ করেন। গ্রামবাসীর সহায়তায় ১৩৫ জন পাক হানাদারকে বন্দী করেন মুক্তিযোদ্ধারা।

 
Electronic Paper