ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ, যাত্রী দুর্ভোগ চরমে

ঢাকা, শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ, যাত্রী দুর্ভোগ চরমে

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ১২:৪৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২০, ২০১৯

print
ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ, যাত্রী দুর্ভোগ চরমে

সড়কে নতুন আইন বাস্তবায়নের প্রথম দিন থেকেই যাত্রী জিম্মির পুরনো কৌশলে হেঁটেছে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। এরই ধারাবাহিকতায় নতুন সড়ক পরিবহন আইন বাতিলের দাবিতে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন পরিবহন শ্রমিকরা। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। আর তাই হাজার হাজার গাড়ি সড়কে আটকা পড়েছে। শুধুমাত্র অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া সব ধরনের যান চলাচলে বাধা দিচ্ছেন পরিবহন শ্রমিকরা।

এদিকে পরিবহন শ্রমিকদের অঘোষিত এ ধর্মঘটে যাত্রীদের পোহাতে হয়েছে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। নতুন সড়ক আইন প্রয়োগ শুরু হয়েছে গত রোববার থেকে। প্রথম দিনে মালিক-শ্রমিকরা মোটামুটি পর্যবেক্ষকের ভূমিকা নিলেও আইন প্রয়োগের দ্বিতীয় দিন থেকে ‘আইন না মানার’ আন্দোলন আরও বড় পরিসরে পৌঁছেছে।

বুধবার সকাল ৬টা থেকে পরিবহন ধর্মঘট পালনে সাইনবোর্ড এলাকায় অবস্থান নেন শ্রমিকরা। তারা অনেক পরিবহন থেকে যাত্রী ও চালকদের নামিয়ে দিয়ে গাড়ি খালি করে দেন।

এদিকে সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে সীমিত আকারে বাস চলতে দেখা গেছে। রাস্তায় কিছু বিআরটিসি বাস ছাড়া বেসরকারি গণপরিবহন নেই বললেই চলে।

এছাড়া রাজধানীর পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও মানিকগঞ্জ থেকেও কোনো বাস-মিনিবাস রাজধানীতে আসছে না। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। বিশেষ করে অফিস ও স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গামীরা। এই সুযোগে ইচ্ছা মতো ভাড়া হাঁকাচ্ছেন সিএনজি চালিত অটোরিকশাও রিকশা ও মোটরসাইকেল চালকরা।

এ সময় শ্রমিকরা জানান, সরকার পরিবহন শ্রমিকদের পেটে লাথি মারার জন্য পরিবহনের ওপর নতুন আইন করেছে। এটা আইন নয় এটা পরিবহন শ্রমিকদের পেটে লাথি মারা। সরকারের এ আইন বাতিলের দাবিতে শ্রমিকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে সকাল হতে রাস্তায় নেমেছে। সরকার ‘কালো আইন’ বাতিল না করলে আমরা রাস্তা থেকে কিছুতেই পিছু হটবো না।

দূরপাল্লার বেশ কয়েকজন যাত্রীর সাথে কথা বলে জানা যায়, হাজারো কর্মজীবী মানুষ বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন। অনেক্ষণ পর দুয়েকটি বাস এলে সবাই তাতে ওঠার প্রতিযোগিতা করছেন। আবার অনেকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর কোনো বাস না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

নারায়ণগঞ্জ ট্রাফিক বিভাগের সিনিয়র এএসপি সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, পরিবহন শ্রমিকরা সাইনবোর্ডে অবস্থান করে রাস্তার উভয়পাশে গাড়ি এলোপাতাড়ি করে রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা পরিবহন শ্রমিকদের বুঝানোর চেষ্টা করছি।