নবরূপে জীর্ণ বন ভবন

ঢাকা, রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

নবরূপে জীর্ণ বন ভবন

তানজেরুল ইসলাম, গাজীপুর ৬:১০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩১, ২০১৯

print
নবরূপে জীর্ণ বন ভবন

ঢাকা বন বিভাগের অধীন গাজীপুর শ্রীপুর রেঞ্জে নতুন রূপে সেজেছে ফরেস্ট বিট অফিসগুলো। অর্ধশত বছরের জরাজীর্ণ ভবনগুলো নতুন করে নির্মাণ ও সংস্কারের ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে।

ঢাকা বন বিভাগে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জানান, ঢাকা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বিভাগটির দায়িত্ব নেওয়ার পর পরই জরাজীর্ণ ভবনগুলো মেরামতের সিদ্ধান্ত নেন। এসব ভবন সংস্কারের পাশাপাশি দ্বৈত বন প্রহরীর বাসভবন মেরামত এবং মেরামতের অযোগ্য বিট অফিস ভবনগুলো নতুন করে নির্মাণের পরিকল্পনাও হাতে নেন তিনি। তবে বাজেট স্বল্পতা ও নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে জরাজীর্ণ ভবনগুলো মেরামত করা হয়েছে।

এদিকে, শ্রীপুর রেঞ্জের সিংড়াতলী বিটে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ছয় হেক্টর বনভূমি উদ্ধার করে মিশ্র বাগান সৃজিত হয়েছে। সৃজিত বাগান যাতে ফের দখল না হয় সেই লক্ষ্যে ছয় হেক্টর বাগানে এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীদের মধ্য থেকে ১৫ জন উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়েছে।

ঢাকা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোহাম্মদ ইউছুপ জানান, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে সাফল্য আসবেই। শ্রীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তার অধীন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। সিংড়াতলী বিটের খাসপাড়া এলাকায় বেহাত বন উদ্ধার ও বনায়ন কার্যক্রম প্রসংশনীয়। খাসাপাড়া এলাকায় পর্যায়ক্রমে বেহাত বন উদ্ধারে আইনি লাড়াইয়ের পাশাপাশি তিনি বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছেন বলেও জানান।

শ্রীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিছুল হক জানান, সিমলাপাড়া বিট অফিস মেরামত করা হয়েছে। গোসিংগা বিট অফিস নতুন করে নির্মাণের পাশাপাশি দ্বৈত বন প্রহরীর বাসভবন মেরামত করা হয়েছে। শ্রীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয় সংলগ্ন জরাজীর্ণ বিট অফিসার্স কোয়াটার্স সংস্কার করা হয়েছে। সাত খামার ও কাওরাইদে ব্যবহারের অনুপযোগি দ্বৈত বন প্রহরীর বাসভবন সংস্কার করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি বিটে অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজের জন্য চাহিদা প্রস্তুতের কাজ চলছে।

সিংড়াতলী বিট কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, সিংড়াতলী বিটে বনভূমির পরিমাণ ১১০৯.৫৩ একর। তার আমলে গাজীপুর বন আদালতে বন মামলা দায়ের করা হয়েছে ১৭টি, উচ্ছেদ মোকদ্দমা দায়ের করা হয়েছে পাঁচটি। সিংড়াতলী বিটের খাসপাড়া এলাকায় বন উদ্ধার কার্যক্রম ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তবে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার দিকনির্দেশনা ও রেঞ্জ কর্মকর্তার সার্বিক সহযোগিতায় ৩০ ও ১৯২৩ সিএস দাগে সাতটি বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে।