ফের দখলে নরসুন্দা নদী

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯ | ৩০ কার্তিক ১৪২৬

ফের দখলে নরসুন্দা নদী

সাজন আহম্মেদ পাপন, কিশোরগঞ্জ ৫:৫২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৪, ২০১৯

print
ফের দখলে নরসুন্দা নদী

কিশোরগঞ্জে আবারও দখল হয়ে যাচ্ছে নরসুন্দা নদী। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী মহল নরসুন্দা নদী ও পাড় দখল করে বাড়িঘর ও দোকানপাট নির্মাণ করে চলছে। জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ শহর এলাকার আশেপাশে নদীর প্রায় ৫০ একর জমি দখল করেছে তারা। এসব জমির বাজারমূল্য প্রায় ৫০০ কোটি টাকা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কিশোরগঞ্জ শহরের গুরুদয়াল কলেজ থেকে হোসেনপুর উপজেলা পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার এলাকায় নদীপাড়ের বেশকিছু স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। আবার শহরের পুরানথানা একরামপুর সেতু থেকে করিমগঞ্জ পর্যন্ত নদীর পাঁচ কিলোমিটারে বাড়িঘর, দোকানপাট তৈরি করে নদীর কয়েক একর জমি দখল করা হয়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমেও নদীর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না। দখলদাররা দোকান, রাজনৈতিক দলের কার্যালয়, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তোলে।

বিশেষ করে গত এক বছর কিছু লোক নদী দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করে নির্বিঘ্নে বসবাস করছেন। সম্প্রতি জেলা প্রশাসন এসব অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরী করে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনে পাঠিয়েছে।

এতে দেখা যায়, সদর উপজেলার নরসুন্দা নদীর ৯১৮৮ ও ১২১৬০ নম্বর দাগের খাস জমি অন্তত ২১ প্রভাবশালী ব্যক্তি দখল করে রেখেছেন। এরা হচ্ছেন সদর উপজেলা মহিনন্দ ইউনিয়নের গালিমগাজী গ্রামের শাহেদ মিয়া, গোমেজ আলী, মাইনুল ইসলাম, রমজান আলী, তাহের উদ্দিন, নাইম, সাইদুর রহমান, মোবারক হোসেন, মুকুল, আগপাড়া গ্রামের হাবিব মিয়া, মাইজখাপন ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের রহম আলী, মজুমদারপাড়া গ্রামের রবিউল আউয়াল, কাচারীপাড়া গ্রামের খোকন মিয়া, সজল মিয়া, ভাসানীপাড়া গ্রামের রিপন বর্মন, বেপারীপাড়া গ্রামের তালে হোসেন, ফজর আলী, ফজলু মিয়া, উজ্জ্বল মিয়া, বেত্রাটি গ্রামের দুলাল মিয়া, ইজ্জত আলী।

জানা যায়, নরসুন্দা নদীর সৌন্দর্য্যবর্ধন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ২০১৪-১৫ অর্থবছরে নদী-সংলগ্ন শহর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় প্রায় আট কিলোমিটার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে প্রশাসন। পরে নিম্নমানের কাজের মাধ্যমে জোড়াতালি দিয়ে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে ১১০ কোটি টাকার প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। বাস্তবায়নের তিন মাসের মধ্যে নরসুন্দা পাড়ের ছয় কোটি টাকার ওয়াকওয়ে ধসে নদীতে চলে যায়। ফলে জেলাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, নরসুন্দা নদীর প্রায় ৩০ একর ভূমি এখনো প্রভাবশালীদের দখলে রয়েছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসন বড় ধরণের অভিযান পরিচালনা করলে সরকারি কোটি কোটি টাকার ভূমি উদ্ধার হতে পারে।

মানবাধিকার কর্মী খুজিস্তা বেগম জোনাকি জানান, শহর থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে করিমগঞ্জ ও নীলগঞ্জ পর্যন্ত এবং পশ্চিম দিকে হোসেনপুর অংশে ৫০ একরের বেশি নদীর জায়গা বেদখল হয়ে গেছে। এর দাম প্রায় ৫০০ কোটি টাকারও বেশি। নদী বাঁচাতে এসব বেদখলি জমি উদ্ধার এখন সময়ের দাবি।

জেলা প্রশাসক সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী জানান, নদীর জমি দখলের বিষয়টি প্রশাসনের জানা আছে। কিছুদিনের মধ্যে বড় ধরণের অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে এসব জমি উদ্ধার করা হবে বলেও জানান তিনি।