ফরিদপুরে ২০ গ্রাম প্লাবিত

ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৫ কার্তিক ১৪২৬

ফরিদপুরে ২০ গ্রাম প্লাবিত

মধুমতি ও গড়াইয়ে পানি বাড়ছেই

সঞ্জিব দাস, ফরিদপুর ৫:৫৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৬, ২০১৯

print
ফরিদপুরে ২০ গ্রাম প্লাবিত

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার মধুমতি এবং গড়াই নদীর পানি বেড়েই চলেছে। এতে কামারখালী, আড়পাড়া এবং ডুমাইনের ২০ গ্রামের প্রায় ৫০০ পরিবার পানি বন্দি অবস্থায় রয়েছেন। এসব এলাকার মধ্যে পাচুরিয়া ইউনিয়নের স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসা, ভূমি অফিস ও মন্দিরসহ ১৬ প্রতিষ্ঠান ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এরই মধ্যে একটি মসজিদ ও মাদ্রাসা, ৪০-৫০টি বাড়ি-ঘর নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদী গর্ভে বাড়িঘর চলে যাওয়া ক্ষতিগ্রস্তরা খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে।

ক্ষতিগ্রস্থ পাচুরিয়া গ্রামের মোস্তফা বলেন, আমার দুটি বাড়ি বিলীন হয়ে গেছে নদীগর্ভে। তিনি বলেন, এখন আমাদের থাকার কোন জায়গা নেই। কোথায় থাকবো কি করবো বুঝতে পারছি না। সারা রাত জেগে বসে থাকতে হয় নদী পাড়ে। এই মূর্হতে যদি নদী ভাঙন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয় তাহলে এই গ্রাম একেবারেই বিলীন হয়ে যাবে।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, ভাঙন কবলিত মানুষের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে ত্রাণ দেওয়াসহ সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যাদের বাড়িঘর নদীগর্ভে চলে গেছে তাদের নতুন করে অন্যত্র বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

এদিকে পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙনে সদর, চরভদ্রাসন ও সদরপুর উপজেলার অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে বন্যা দেখা দিয়েছে।

ফরিদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, এরই মধ্যে ওই তিন উপজেলাসহ জেলার পাঁচটি উপজেলার ৩৪৮ হেক্টর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে মাসকলাই ১৮১ হেক্টর, বোনা আমন ৭৫ হেক্টর, রোপা আমন ৪৫ হেক্টর এবং ৪৭ হেক্টর জমির সবজী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কামারখালী ইউনিয়নে চরাঞ্চালের ১০টি গ্রামের তিনশ ৫০ পরিবার, আড়পাড়া ইউনিয়নে ৭ গ্রামের ৫০টি এবং ডুমাইন ইউনিয়নের দুই গ্রামের ৫০টি পরিবারের মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়েছে।

বন্যায় কবলিত কামারখালী ইউনিয়নের চরকসুন্দি, আড়পাড়া, সরবরাজ, বকসিপুর, গয়েশপুর, চর-গয়েশপুর, চর-সালামতপুর, দয়ারামপুর, ফুলবাড়ী, গন্ধখালী গ্রামের নদীর পাশের বেশকিছু বাড়ি-ঘরসহ প্রায় ৩৫০ পরিবার এবং নতুন করে আড়পাড়ার ইউনিয়নের রাজধরপুর, পশ্চিম আড়পাড়া, সরাইলের মাঠ, ভিটার মাঠ, চেচর বিলা, হরিণ খোলা বিল এলাকার ৫০ পরিবার এবং ডুমাইন ইউনিয়নের ভেল্লাকান্দি, নিশ্চন্তপুর এলাকার ৪৫ থেকে ৫০টি পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়েছে।

মধুখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোস্তফা মনোয়ার নদী ভাঙন ও বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, ইতিমধ্যে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং তাদের সহযোগিতার জন্য সরকারি ভাবে নগদ অর্থ ও চাল বিতরণের ব্যবস্থা হবে।