কিশোরগঞ্জ-ভৈরব মহাসড়কে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল

ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৫ কার্তিক ১৪২৬

কিশোরগঞ্জ-ভৈরব মহাসড়কে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল

সাজন আহম্মেদ পাপন, কিশোরগঞ্জ ৩:৩৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৬, ২০১৯

print
কিশোরগঞ্জ-ভৈরব মহাসড়কে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল

কিশোরগঞ্জ-ভৈরব মহাসড়কের কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড থেকে সদর উপজেলার বড়পুল পর্যন্ত মোট ২৭ কিলোমিটার সড়কে বেড়েছে মৃত্যুর মিছিল। প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। এতে অকালে ঝরছে প্রাণ। আহত হয়ে পঙ্গুত্ব জীবনযাপন করেছেন অসংখ্যক মানুষ। তবু কোনোভাবে কমানো যাচ্ছে না সড়ক দুর্ঘটনার মাত্রা। বরং দিন দিন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনা। তার জন্য যেমন নেই কোনো কার্যকর উদ্যোগ, তেমনি নেই সচেতনতা।

গত এক বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ৫৫ জন। গত দুই মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় কিশোরগঞ্জে প্রাণ হারিয়েছে ৮ জন। গুরুতর আহত হয়েছে অর্ধ শতাধিক।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, কটিয়াদী বাজার থেকে পুলেরঘাট পর্যন্ত দূরত্ব ১২ কি.মি বাঁক আছে ২৫টি। পুলেরঘাট থেকে বিন্নাটির দূরত্ব ৭ কি.মি বাঁক ৮টি, বিন্নাটি থেকে কাতিয়ারচর সেতুর দূরত্ব ৩ কি.মি. বাঁক ৫টি, কাতিয়ারচর সেতু থেকে বড়পুলের দূরত্ব ৫ কি.মি বাঁক ৩টি। মোট ২৭ কি.মি. সড়কে প্রায় ১৫ বাঁক অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

এছাড়াও সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণ বেপরোয়া গাড়ি চালানো, অদক্ষ ও অশিক্ষিত চালক, ফিটনেসবিহীন গাড়ি, চালকদের প্রশিক্ষণের অভাব, যাত্রী ও পথচারীদের অসচেতনতা, চালকের মোবাইল ফোন ব্যবহার, অপরিকল্পিত ও ভঙ্গুর সড়ক, ওভারটেকিং, অতিরিক্ত গতি, ট্রাফিক আইন অমান্য, ট্রাফিক পুলিশের গাফিলতি, লাইসেন্সবিহীন গাড়ি ও চালক, বেপরোয়া গাড়ি চালানো এবং যথাযথ আইন ও আইনের প্রয়োগের অভাবসহ বিবিধ। কিশোরগঞ্জ-ভৈরব মহাসড়কে থ্রি হুইলার, নসিমন, করিমন ভটভটিসহ স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ থাকলেও এখন দিব্যি চলছে। সড়ক নিরাপত্তায় এসব পরিবহন চলাচল বন্ধে নিরব প্রশাসন। অর্থাৎ কাজীর গরু কিতাবে আছে গোয়ালে নেই।

পুলেরঘাট থেকে চারিপাড়া পর্যন্ত প্রায় ৮ কি.মি সড়কে অহরহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে মধ্যপাড়া থেকে চারিপাড়া পর্যন্ত প্রায় ৪ কি.মি সড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে সবচেয়ে বেশি।

বিশেষজ্ঞরা জানান, পুলেরঘাট থেকে চারিপাড়া পর্যন্ত সড়কটুকু দুর্ঘটনা প্রবণ। এখানে এলেই সড়কের প্যাটার্নের কারণে চালকরা যানবাহনের গতি বাড়াতে উৎসাহিত হন। গতিসীমা নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে এখানে দুর্ঘটনা রোধ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন।

কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মাইদুল ইসলাম জানান, রোড ডিজাইন অ্যান্ড সেইফটি সার্কেল সরজমিনে এসে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করবে। তদন্তের পরই মূল কারণগুলো বেড়িয়ে আসবে এবং তার সমাধান করা হবে।