৪০০ বছরের দিল্লির আখড়া

ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ১ আশ্বিন ১৪২৬

৪০০ বছরের দিল্লির আখড়া

সাজন আহম্মেদ পাপন, কিশোরগঞ্জ ৩:৪৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০১৯

print
৪০০ বছরের দিল্লির আখড়া

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার কাটখাল ইউনিয়নে হিজল বনে এক মনোরম স্থান দিল্লির আখড়া। বর্ষায় দর্শনার্থীদের এক প্রিয় গন্তব্য এ দিল্লির আখড়া। প্রকৃতি ছাড়াও হাওরে পর্যটকদের দেখার মতো বেশকিছু জায়গা রয়েছে। কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার কাটখাল ইউনিয়নের দিল্লির আখড়ার মধ্যে অন্যতম। এখানে রয়েছে শত শত হিজল গাছ।

চারশ বছরের পুরনো এ আখড়া সম্পর্কে সুন্দর একটি গল্প আছে। এক সাধক নাকি এখানে এসেছিলেন ধ্যান করতে। তার ধ্যান ভাঙার জন্য কিছু দৈত্য তাকে নানাভাবে বিরক্ত করতো। একদিন সাধক মহাবিরক্ত হয়ে তার দিক্ষাগুরুর মন্ত্রবলে দৈত্যগুলোকে হিজল গাছ বানিয়ে রাখেন।

দিল্লির সম্রাট জাহাঙ্গীরের লোকজন একদিন ওই ধ্যানমগ্ন সাধকের পাশ দিয়ে নৌকার বহর নিয়ে নদীপথে যাচ্ছিলেন। এ সময় সোনার মোহর ভর্তি একটি নৌকা পানিতে ডুবে যায়। নৌকার যাত্রীরা মোহর তোলার জন্য নদীপাড়ে আসেন। ডুব দিয়ে তারা দুই একটি মোহর তুলেও আনেন। কিন্তু সেই মোহরগুলোও চোখের ইশারায় পানিতে ফেলে দেন ওই সাধক। পরে নৌকার যাত্রীদের অনুরোধে তিনি সোনার মোহরগুলো মাছের ঝাঁকের মতো পানির উপর ভাসাতে থাকেন। মোহরগুলো তুলে নেন যাত্রীরা। এ ঘটনা শুনে সম্রাট জাহাঙ্গীর অভিভূত হন। পরে তিনশ একর জমি তাম্রলিপির মাধ্যমে সেই সাধুর আখড়ার নামে দান করে দেন। সেই থেকে এটি দিল্লির আখড়া।

আখড়ায় রয়েছে ধর্মশালা, নাটমন্দির, অতিথিশালা, পাকশালা ও বৈষ্ণবদেব থাকার ঘর। বর্তমানে আখড়ায় মোহন্ত নারায়ণ দাসসহ তিনজন বৈষ্ণব আছেন। এখানে আশ্রিত হয়ে আছে ৪০-৫০ জন শ্রমজীবী মানুষ। সবাই নিরামিষভোজি। থাকে একটি যৌথ পরিবারের মতো। রাতে এখানে দর্শনার্থীদের থাকারও ব্যবস্থা আছে। আখড়ার পাশে রয়েছে ঘের দেওয়া দুটি পুকুর।

ইচ্ছে করলে পুকুরের ঘাটলায় বসে কাটিয়ে দেওয়া যাবে একটা বিকেল। দিল্লির আখড়ার পাশেই রয়েছে বিথঙ্গলের আখড়া ও বন। এখানে মোগল আমলে তৈরি একটা স্থাপনা রয়েছে। তবে সংরক্ষণের অভাবে সেটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দিল্লির আখড়া কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় পড়লেও বিথঙ্গলের আখড়ার অবস্থান হবিগঞ্জের বানিয়াচং এ। এ দুটি আখড়াই পর্যটকদের আকৃষ্ট করে।