‘আর ফিরে আসেননি বাবা’

ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৩১ ভাদ্র ১৪২৬

‘আর ফিরে আসেননি বাবা’

২১ আগস্ট ট্র্যাজেডি

নিত্যানন্দ হালদার, মাদারীপুর ৭:০২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২১, ২০১৯

print
‘আর ফিরে আসেননি বাবা’

আমার প্রথম জন্মদিন ছিল ২০০৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর। মায়ের মুখে শুনেছি বাবা ঢাকা থেকে নতুন জামা নিয়ে আসবে। নতুন পোশাক পড়ে ধুমধাম করে আমার প্রথম জন্মবার্ষিকী পালন করা হবে। কিন্তু বাবা আর ফিরে আসেননি। ২১ আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউ-এ অনুষ্ঠিত শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় আমার বাবা মারা যায়। তখন হয়তো কিছুই বুঝিনি। আস্তে আস্তে বড় হওয়ার পর সব বুঝতে পেরেছি।

এ বছর ১ সেপ্টেম্বর আমার ১৬ বছর পূর্ণ হবে। কিন্তু এতো বছর পার হলেও বাবাসহ হতাহাতদের অকাল মৃত্যুর বিচারের রায় হলেও তা এখনোও কার্যকর হয়নি। তাই সরকারের কাছে আমার একটাই দাবী, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার অপরাধীদের বিচারের রায় দ্রুত কার্যকর করার। তাহলে এ ঘটনায় আমার বাবাসহ যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের আত্মা শান্তি পাবে। এভাবে কথাগুলো বললেন মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের চানপট্টি গ্রামের যুবলীগ নেতা ২১ আগস্ট গ্রেনেট হামলায় নিহত লিটন মুন্সির মেয়ে নুসরাত জাহান মিথিলা।

শুধু মিথিলার পরিবার নয়, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউ-এ অনুষ্ঠিত শেখ হাসিনার সমাবেশে বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলায় মাদারীপুরের নিহত চার পরিবারসহ আহত তিন পরিবারের সদস্যরা ভাল নেই। ১৬ বছরেও এসব পরিবারে শোক ও আতঙ্কের ছায়া কাটেনি। একই ঘটনায় আহতরা পঙ্গুত্ব নিয়ে দুঃসহ জীবন-যাপন করছেন।

নিহত লিটন মুন্সির বাবা আইয়ুব আলী মুন্সী ও মা আছিয়া বেগম বলেন, আমাদের একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে একেবারে শেষ হয়ে গেছি। এখন আমাদের চোখের পানি ছাড়া আর কিছুই নেই। সরকারের কাছে আমাদের ছেলে হত্যার বিচারের রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানাই।’

শুধু লিটন মুন্সিই নয়, ওইদিন মাদারীপুরের আরও তিনজন নিহত হন। এরা হলেন- শ্রমিকলীগ নেতা নাসির উদ্দিন। তার বাড়ি মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার কয়ারিয়া ইউনিয়নের রামারপোল গ্রামে।

গ্রেনেড হামালায় নিহত যুবলীগ নেতা মোস্তাক আহাম্মেদ ওরফে কালা সেন্টু। তার বাড়ি কালকিনি উপজেলার ক্রোকিরচর। কথা হয় সেন্টুর স্ত্রী আইরিন সুলতানার সঙ্গে। তিনি ঢাকার মার্কেন্টাইল ব্যাংকে চাকরি করেন। এক মেয়ে আফসানা আহমেদ রীদিকে নিয়ে ঢাকায় থাকেন। তিনি বলেন, এমন দু:খজনক স্মৃতি কি ভোলা যায়, না মুছে যায়। মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় থাকি। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকার অনুদান পেয়েছিলাম। সে সম্বল আর চাকরি থেকে যা পাই তা দিয়েই মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভাবছি।

কালকিনির ঝাউতলা গ্রামের সাইদুল হক সরদার বলেন, ‘মহাসমাবেশ শুরু হয়। আমি ছিলাম অনেক পিছনে। শেখ হাসিনাকে দেখার জন্য আস্তে আস্তে মঞ্চের ১০ থেকে ১২ হাত দূরত্বে চলে আসি। দাঁড়িয়ে মন দিয়ে নেত্রীর বক্তব্য শুনতে থাকি। বক্তব্য প্রায় শেষ। এসময় বোমা ফাটানোর শব্দ। পরপর দুটি বোমা বিষ্ফোরণে শব্দ পেলাম। চারদিকে কালো ধোঁয়া। মানুষজনের আর্তনাদ। চিৎকার আর চিৎকার। ছোটাছুটি। আমিও কোন কিছু না বুঝে দৌঁড় দিতে যাবো। ঠিক তখনি তৃতীয় বোমাটি বিষ্ফোরণ হয়। আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়ি।