লঞ্চ ট্র্যাজেডির পাঁচ বছর

ঢাকা, বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯ | ৬ ভাদ্র ১৪২৬

লঞ্চ ট্র্যাজেডির পাঁচ বছর

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি ১০:০১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০৪, ২০১৯

print
লঞ্চ ট্র্যাজেডির পাঁচ বছর

পিনাক-৬ লঞ্চডুবি এক ভয়াবহ ট্রাজেডির নাম। ২০১৪ সালের ৪ আগস্ট লঞ্চডুবিতে সরকারি হিসেবে ৪৯ জন যাত্রীর লাশ উদ্ধার ও ৫৩ জন নিখোঁজ হলেও পাঁচ বছরে বিচার সম্পন্ন হয়নি দুনিয়া কাপানো এ ঘটনার। বিচার না হওয়ায় এ দুর্ঘটনায় জড়িত সন্দেহে করা দুটি মামলার আসামিরা রয়েছেন জামিনে।

চাঞ্চল্যকর বিষয় হচ্ছে এ ঘটনার মামলার বাদী বিআইডব্লিউটিএর পরিদর্শক জাহাঙ্গীর হোসেন নিজেই জানেন না মামলার অগ্রগতি। পাঁচ বছর অতিবাহিত হলেও জড়িতদের বিচার না হওয়ায় নিহত ও নিখোঁজদের স্বজনদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ। ২০১৪ সালে ঈদুল ফিতরের পর ৪ আগস্ট ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত আড়াই শতাধিক যাত্রী নিয়ে শিবচরের কাওড়াকান্দি ঘাট থেকে পিনাক-৬ লঞ্চটি উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে মাওয়ার অংশে ডুবে যায়। সরকারিভাবে ওই ঘটনায় ৪৯ জন যাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিখোঁজ থাকে ৫৩ জন। নিহতদের মধ্যে অনেকেই সপরিবারে ও নিখোঁজদের অনেকেই সপরিবারে ছিলেন। শিবচর পৌর এলাকার মো. নুরুল হক মিয়ার মেয়ে ঢাকার শিকদার মেডিকেলের ছাত্রী নুসরাত জাহান হিরা ও বীরশ্রেষ্ট নূর মোহাম্মদ কলেজের ছাত্রী ফাতেমাতুজ জোহরা স্বর্ণা এবং তাদের খালাতো বোন চীনের জইনুস মেডিকেল কলেজের ছাত্রী জান্নাতুল নাঈম লাখি মারা গেলেও উদ্ধার হয়েছে দুজনের মৃতদেহ। একজন এখনও নিখোঁজ। এছাড়া শিবচর উপজেলার বন্দরখোলা গ্রামের বৃদ্ধা রিজিয়া বেগমের এক ছেলে মিজানুর রহমান, পুত্রবধূ রোকসানা বেগম, আড়াই বছর বয়সের নাতি মাহিন এবং এগার বছর বয়সের নাতনী মিলিসহ একই পরিবারের চারজন নিহত হন।

দুর্ঘটনার পরপরই মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থানা ও মেরিন কোর্টে দুটি মামলা হয়। আসামিরা গ্রেফতার হলেও বর্তমানে আদালত থেকে জামিনে রয়েছেন। তবে পাঁচ বছর অতিবাহিত হলেও জড়িতদের বিচার না হওয়ায় নিহত ও নিখোঁজদের স্বজনদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে।

নিহত হিরা ও স্বর্ণার বাবা নূরুল ইসলাম মিয়া বলেন, লঞ্চের মালিকসহ ঘাট সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বে অবহেলার কারণে লঞ্চটি ডুবে যায়। আমার মেয়েসহ অনেক যাত্রী নিহত ও নিখোঁজ হয়। এ ঘটনার পাঁচ বছরেও জড়িতদের বিচার হলো না। গ্রেফতার হলেও তারা জামিনে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সরকার যদি দ্রুত বিচার সম্পন্ন না করে তাহলে এমন দুর্ঘটনা ঘটতেই থাকবে।

মামলার বাদী বিআইডব্লিউটিএর মাওয়া ঘাটের তৎকালীন পরিবহন পরিদর্শক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এ ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। তবে বর্তমানে মামলাটি কোন পর্যায়ে রয়েছে তা আমার সঠিক জানা নেই। ধারণা করছি মেরিন কোর্টে আছে মামলাগুলো।

বিআইডব্লিউটিএর কাঁঠালবাড়ি ঘাট পরিদর্শক আক্তার হোসেন বলেন, পিনাক-৬ লঞ্চডুবির পর এ নৌরুটে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। আগে একজন পরিবহন পরিদর্শক তিনটি ঘাটের দায়িত্ব পালন করতেন। পিনাক দুর্ঘটনার পর প্রতিটি ঘাটে একজন করে কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়াসহ অনেক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

শিবচর পৌরসভার মেয়র আওলাদ হোসেন খান বলেন, অজ্ঞাত ২১ জনের লাশ পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ লাশগুলোর ডিএনএ নমুনা সংরক্ষণ করা হয়েছে। পুলিশের মাধ্যমে ডিএনএ শনাক্ত করে যদি কেউ আসে তবে পরিবারের কাছে তাদের লাশ হস্তান্তর করা হবে।