বাবা শুধু তুমি নেই!

ঢাকা, সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯ | ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

পুলিশে চাকরির স্বপ্ন সত্যি হলো রুনার

বাবা শুধু তুমি নেই!

জালাল উদ্দিন, মানিকগঞ্জ ৯:৪০ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৬, ২০১৯

print
বাবা শুধু তুমি নেই!

পুলিশ কনস্টেবলে চাকরির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর মানিকগঞ্জ পুলিশ লাইনে মাকে জড়িয়ে কান্না করছিলের রুনা আক্তার। মা রওশনারাও বিলাপ করে বলছিলেন, তোমার মেয়ের চাকরি হয়েছে। তুমি দেখে গেলে না।

রুনা আক্তার জানান, তার বাবা কৃষিকাজ করতেন। গত বছর মারা গেছেন। বাবার স্বপ্ন ছিল আমি পুলিশে চাকরি করবো। বাবার সেই স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। কিন্তু বাবা আজ বেঁচে নেই। সুব্রত কুমার রায়ের বাবা স্বপন রায় নরসুন্দরের কাজ করেন। গ্রামের ছোট্ট একটি বাজারে ভাড়া দোকানে রয়েছে সেলুন। সেই সেলুনের আয় দিয়েই কোনো রকমে তাদের সংসার চলে। কোনো দিন ভাবেননি পুলিশের চাকরি পাবেন উৎকোচ ছাড়াই। গত বৃহস্পতিবার বিকালে মানিকগঞ্জে ১৩১ জন কনস্টেবল পদে চাকরি পেয়েছেন। এদের মধ্যে সুব্রত কুমার রায় একজন।

সুব্রত রায়ের মতো কামার, জেলে, কৃষক, দিনমজুর, ভ্যানচালক, দর্জি, পিতৃহীন সন্তানদের এবার মানিকগঞ্জে পুলিশে চাকরি হয়েছে। চাকরি পাওয়া শিবালয় উপজেলার আরিচার পপি আক্তার জানান, তার বাবা আশেক আলী একজন ভ্যানচালক। দুই বোন এক ভাই রয়েছে। ভ্যান চালিয়ে তার বাবা অনেক কষ্টে সংসার চালান। মাত্র ১০৩ টাকা খরচ করে তার পুলিশে চাকরি হয়েছে।

চাকরি পাওয়া ঘিওর উপজেলার পেচারকান্দা গ্রামের সুমি আক্তার জানান, তার বাবা কৃষিকাজ করতেন। এখন পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে ঘরে পড়ে আছেন। বাবার স্বপ্ন ছিল আমার পুলিশের চাকরি পাওয়ার। বিনা পয়সায় কোনো তদবির ছাড়াই আজ সেই স্বপ্ন সত্যি হয়েছে।

বকুল আক্তারের বাবা ছোটবেলায় তাদের ছেড়ে চলে গেছেন। বড় বোনের সংসারে থেকে এখন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন। পুলিশ নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেখে আবেদন করেন। পরীক্ষায় তিনি প্রথম হয়েছেন।

পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম জানান, পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগের জন্য ২৯০৯ জন আবেদন করেছিল। এদের মধ্যে লিখিত পরীক্ষায় মনোনীত হয় ৯৫৯ জন। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় ২২৩ জন। চূড়ান্তভাবে নিয়োগ পান ১৩১ জন।