সোনারগাঁয়ে এএসআইয়ের গ্রেফতার বাণিজ্য

ঢাকা, সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯ | ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

সোনারগাঁয়ে এএসআইয়ের গ্রেফতার বাণিজ্য

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি ৬:০৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৬, ২০১৯

print
সোনারগাঁয়ে এএসআইয়ের গ্রেফতার বাণিজ্য

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে গ্রেফতার করে মোটা অঙ্কের চাঁদার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া মাদক ব্যবসায়ীদের মদদ ও নিরীহ লোকের পকেটে মাদক ঢুকিয়ে গ্রেফতারের অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

ভুক্তভোগী বাবুল হোসেন বাবু ও ফরহাদ হোসেন জানান, ৩ জুলাই রাতে বন্ধুর গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান শেষে তারাসহ তাদের চার বন্ধু দুটি মোটরসাইকেলে নিজ বাড়ি নবীগঞ্জ যাচ্ছিলেন। এ সময় এএসআই মিজানুর রহমান কাইকারটেক ব্রিজের মোড়ে তাদের গাড়ি থামিয়ে দেহ তল্লাশি করতে চান। তার হাতের আঙ্গুলের চিপায় ছোট একটি পুটলা দেখে তারা বাধা দেন। পরে তারা নিজেরা জামা কাপড় খুলে মিজানকে দেখান। তাদের কাছে কিছু না পেয়েও নানা অজুহাতে তাদের গ্রেফতার করে থানায় আনতে চান তিনি।

নিজেরা নির্দোষ বলে অনেক অনুরোধ করলেও তাদের চারজনের কাছে ৪০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন তিনি। তারা তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে পরিবারের লোকজন রাত আড়াইটায় টাকা দিয়ে তাদের ছাড়িয়ে নেন।

এছাড়া গত ৩০ জুন পৌরসভার গোবিন্দপুর এলাকা থেকে আল-আমিন নামে একজনের পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে গ্রেফতার করে নিয়ে আসার সময় শত শত মানুষ এএসআই মিজানুরের পথরোধ করলে আল-আমিনকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, থানা পুলিশের এএসআই মিজানুর রহমান শত শত জনতার সামনে আল-আমিনের পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে গ্রেফতার করতে চাইলে এলাকার মানুষ তার ওপর ক্ষেপে যায়। পরে আল-আমিনকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।

এলাকাবাসী জানান, এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী রবিনকে মাদক ব্যবসায় বাধা দিলে আল-আমিনের সঙ্গে রবিনের হাতাহাতি হয়। এ সময় রবিন এএসআই মিজানুরকে ফোন করলে তিনি আল-আমিনকে গ্রেফতার করতে চাইলে এলাকাবাসী বাধা দেয়।

এ ব্যাপারে এএসআই মিজানুর রহমান বলেন, ৩ জুলাই রাত ১২টার দিকে চার যুবক উগ্রভাবে মোটরসাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিলেন দেখে তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের প্রাথমিক তল্লাশিতে বোঝা যায় তারা মদপান করে এসেছে।

তবে ৪০ হাজার টাকা নেওয়ার কথা জানতে চাইলে তিনি তা এড়িয়ে যান। গোবিন্দপুরের ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আল-আমিন একজন মাদকসেবী।

সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হেলাল উদ্দিন জানান, এমন ঘটনা আমার জানা নেই। যদি এমন ঘটে তাহলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।