ভেস্তে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯ | ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

কিশোরগঞ্জে বিদ্যুৎ নেই ১৬ কমিউনিটি ক্লিনিকে

ভেস্তে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন

সাজন আহম্মেদ পাপন, কিশোরগঞ্জ ৯:৫২ অপরাহ্ণ, জুন ২৫, ২০১৯

print
ভেস্তে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন কমিউনিটি ক্লিনিক। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রত্যেক মানুষ চিকিৎসা সেবা পাবে সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার জন্যই কমিউনিটি ক্লিনিকের যাত্রা শুরু হয়। কিন্তু আশ্চর্য্যজনক হলেও সত্য যে, কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার ১৬টি কমিউনিটি ক্লিনিকে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকার কারণে চিকিৎসা সেবা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে মা ও শিশুদের চিকিৎসায় সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে। যে স্বপ্ন কমিউনিটি ক্লিনিক নিয়ে প্রধানমন্ত্রী দেখেছিলেন সে স্বপ্ন ভেস্তে যাচ্ছে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকার কারণে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কমিউনিটি ক্লিনিক সূত্রে জানা গেছে , উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে চিকিৎসাসেবা দিতে সরকার ২০১১ সালে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ১৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করে। সকাল নয়টা থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়ে থাকে। প্রতিদিন গড়ে ৬০-৭০ জন রোগী এসব ক্লিনিকে এসে সেবা নেন। কিন্তু বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় ক্লিনিকগুলোতে কমর্রত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডাররা ঠিকমতো চিকিৎসা দিতে পারছেন না।

সরজমিনে কারপাশা ইউনিয়নের নানশ্রী কমিউনিটি ক্লিনিকে গেলে, ক্লিনিকের সিএইচপিসি শিমুল খান মনির জানান, বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় বৃষ্টির সময় ক্লিনিকের কক্ষ অন্ধকার হয়ে যায়। এতে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে বিঘ্ন ঘটে। এ ছাড়া এখন গরমের সময় সেবা নিতে আসা রোগীদেরও কষ্ট হয়। নানশ্রী গ্রামের করিম মিয়া, রোকেয়া বেগম ও মজিবুর রহমান বলেন, ওই ক্লিনিকের মাত্র ৫০ ফুট দূরেই পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি। অথচ ওই ক্লিনিকে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। ডায়রিয়া, আমাশয়, ঠান্ডা, কাশি, সর্দি, জ্বর, পেটব্যথা, মাথাব্যথা, পাঁচ বছরের কম বয়সের শিশুদের পুষ্টিবিষয়ক সেবা, ডায়াবেটিস, নমুনা দেখে যক্ষা রোগের পরামর্শসহ ৩০ ধরণের রোগের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকেন। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় বিশেষ করে আকাশ মেঘলা হলে ক্লিনিকের কক্ষ অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আস আদদীন মাহমুদ বলেন, ক্লিনিকগুলোতে বিদ্যুতের সংযোগ পেতে পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ে ৩ বছর আগেই লিখিত আবেদন করা হয়েছে। কিন্ত এখন পর্যন্ত সংযোগ পাওয়া যাচ্ছে না। এতে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। কটিয়াদী জোনের পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মহম্মদ আব্দুল লতিফ বলেন, আবেদনগুলোর ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে ক্লিনিকগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুছাম্মৎ শাহীনা আক্তার বলেন, দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার জন্য ক্লিনিকগুলোর একটি তালিকা করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।