কিশোরগঞ্জে ভেজাল পণ্যে বাজার সয়লাব

ঢাকা, বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯ | ১২ আষাঢ় ১৪২৬

কিশোরগঞ্জে ভেজাল পণ্যে বাজার সয়লাব

সাজন আহম্মেদ পাপন, কিশোরগঞ্জ ২:৪৯ অপরাহ্ণ, জুন ০৩, ২০১৯

print
কিশোরগঞ্জে ভেজাল পণ্যে বাজার সয়লাব

কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ে না। তবে নামেমাত্র কমিটি আছে বলে জানান দেন কমিটির স্বঘোষিত সভাপতি আলম সারওয়ার টিটু। কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার কার্যক্রম একেবারেই নিষ্ক্রিয়।

এমনকি ওই কমিটির কোনো সদস্যকে মাঠ পর্যায়ে ভোক্তাদের পক্ষে কোনো কার্যক্রম করতে দেখা যায় না। অথচ জেলা প্রশাসনের প্রতিটি অনুষ্ঠানেই পদাধিকার বলে উপস্থিত হয়ে চেয়ার দখল করে রাখেন। কিশোরগঞ্জের সবকটি বাজারে দেদার ভেজাল খাদ্য বিক্রয় চললেও সাধারণ ভোক্তাদের পক্ষে কখনো তাদের কথা বলতে দেখা যায়নি। এ নিয়ে সুশীল সমাজসহ সাধারণ ভোক্তাদের মনে ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে।

ক্যাবের সভাপতি আলম সারওয়ার টিটুর সময়ের কথা বলে ওই কমিটির কার্যক্রম কি তা জানতে চাইলে তিনি কোনো সঠিক জবাব দিতে পারেননি। তবে ওই কমিটির তালিকায় কারা কারা আছেন তা জানার চেষ্টা চলছে। জনশ্রুতি রয়েছে এ কমিটি তার পকেট কমিটি।

এদিকে, ঈদ উপলক্ষে কিশোরগঞ্জে হাইকোর্টের আদেশ তোয়াক্কা না করে ব্যবসায়ীরা ভেজাল খাদ্য বিক্রি করছে। জেলা শহরের বড় বাজার, কাচারী বাজার, পুরান থানা বাজারসহ বিভিন্ন ছোট ছোট বাজারে ঘুরে টুকরিতে করে নিম্নমানের খোলা লাচ্ছা সেমাই বিক্রয় করতে দেখা গেছে। নামকরা কোম্পানির লাচ্ছা সেমাই পরীক্ষা করে ভেজাল পাওয়াতে উৎপাদন ও বিক্রয় নিষিদ্ধের আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। অথচ ঈদ উপলক্ষে নাম না জানা বহু উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান দেদার লাচ্ছা সেমাই উৎপাদন করে বাজারে ছেড়েছে।

অধিক মুনাফার লোভে দোকানিরা এসব অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপাদন করা লাচ্ছা সেমাই বিক্রি করছে। এতে হুমকির মুখে সাধারণ ভোক্তাদের স্বাস্থ্য। লাচ্ছা সেমাই ছাড়াও নিম্নমানের বহু খাদ্য কিশোরগঞ্জের বাজারে বিদ্যমান।

কয়েকজন দোকানি জানান, নামকরা কোম্পানির পণ্য বিক্রয় করলে মুনাফা কম। তাই এসব নাম না জানা পণ্য বিক্রয় করি অধিক মুনাফার আশায়।

এদিকে, ভোক্তা অধিকার মাঝে মধ্যে দু’একজন দোকানিকে জরিমানা করলেও থেমে নেই ভেজাল পণ্য বিক্রয়। কাচারী বাজার থেকে পণ্য কিনে বের হওয়ার সময় একজন ভোক্তার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, বাজার তদারকির সরকারি কেউ আছে কি না, তা আমাদের জানা নাই, কোনোদিন চোখেও পড়েনি। আমরা বাজারে যা পাই তাই কিনে নিয়ে যাই

সুশীল সমাজের ধারণা, কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কিশোরগঞ্জ জেলা শাখা যদি সক্রিয় লোকজন দ্বারা পুনর্গঠন করা যায় তাহলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ কিশোরগঞ্জের কাছে ভোক্তাদের পক্ষে সব অভিযোগ তুলে ধরতে পারবে ওই সংগঠন।