ঢাকা, বুধবার, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ১৮ মাঘ ১৪২৯

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

শ্রীনগরে দখল-দূষণে অস্তিত্ব হারাচ্ছে গাছীবাড়ী খাল

সুমিত সরকার সুমন, মুন্সীগঞ্জ
🕐 ৭:০৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৯, ২০২২

শ্রীনগরে দখল-দূষণে অস্তিত্ব হারাচ্ছে গাছীবাড়ী খাল

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার মধ্য বাঘড়া গাছীবাড়ী ২৪-২৫ ফিটের খালটি দখল দুষনে অস্তিত্ব হারাতে বসছে। বাঘড়া বাজার সংলগ্ন পদ্মানদী থেকে খালটি বাঘড়া স্বরূপ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে দক্ষিণ ও পূর্ব পাশ দিয়ে শ্রীনগর-দোহার সড়কের তালুকদারবাড়ী মোড় দিয়ে বৈচারপাড় গ্রাম বয়ে কাঠালবাড়ী কবরস্থানের পাশ দিয়ে আড়িয়াল বিলে মিশছে।

গাছীবাড়ী মোড় থেকে এই খালের ১৪-১৫ ফিটের একটি শাখা খাল পূর্ব পাশ্বে পান্না ফকির বাড়ী মোড় হয়ে মধ্য বাঘড়া সৈয়দ আলী মসজিদে সামনে গিয়ে পূনরায় গাছীবাড়ী মুল খালে মিশে আড়িয়াল বিলে পতিত হয়।

অতীতে খালটি দিয়ে লোকজন গায়না, ঘাসি, ট্রলারসহ বিভিন্ন নৌকা দিয়ে পানি পথে ঢাকায় যাতায়াত করতো এবং ব্যবসায়ীরা পণ্যবাহী নৌকা যোগে ঢাকা থেকে বাঘড়া বাজারে বিভিন্ন মালামাল আনা নেয়া করত।

স্থানীয় কৃষকরা আড়িয়াল বিল থেকে ইরি ধানসহ বিভিন্ন ফসল নৌকা দিয়ে বাড়ীতে তুলতেন। বর্ষা মৌসুমে প্রচুর পরিমান বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত এখালে। কালের বিবর্তনে পুরো ইউনিয়নের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া খালটি এখন অবৈধ দখল-দূষনে প্রায় অস্তিত্ব বিলীন হয়ে পড়েছে।

পদ্মানদী থেকে আসা বাঘড়া বাজার দক্ষিণ পাশ বেপারীবাড়ী পর্যন্ত বয়ে আসা খালের প্রায় সব অংশ বিভিন্ন লোকজন তাদের বাড়ীর দুইপাশের অংশ ভরাট করেছে। বাঘড়া হাইস্কুলের দক্ষিণ পূর্ব পাশ ভরাট করে কয়েকজন নিজস্ব স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। এরপর থেকে মুল খাল ও শাখা খালে দুই পাশের লোকজন খালটি দখল করে বসতবিল্ডিংসহ বাথরুম ট্যাংকি এবং যাতায়াতের জন্য মাটি ফেলে ভরাট করে দখল করে নিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা সেনাবাহিনীর অবঃ প্রাপ্ত হাবিলদার আফসার উদ্দিন জানান, আমরা এই খাল দিয়ে নৌকা ট্রলার যোগে ঢাকায় যাতায়াত করতাম। ঐ সময় খালে প্রচুর মাছ পাওয়া যেতো। জেলেরা এই খালে এসে মাছ শিকার করত। এখন এই খালটির প্রায় অংশ দখল হয়ে যাচ্ছে।

বাঘড়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ নুররুজ্জামান মাদবর বলেন, এই খালটি আমাদের এলাকার সবচেয়ে বড় খাল। খালের দুই পাশের বাসিন্দারা খাল দখল করে অনেকেই বসত বিল্ডিং, বাথরুম, ট্যাংকি নির্মান করেছেন। বাধা দিলেও মানেননি। ফলে বিভিন্ন জায়গায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে মশার উপদ্রব বেড়ে গিয়েছে। খালটি সংস্কারের জন্য দ্রত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ হোসেন পাটওয়ারী বলেন, আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলাম। এ ব্যাপারে সরজমিনে গিয়ে খোঁজ খবর নিয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

 
Electronic Paper