ঢাকা বাইপাস সড়কে বালিবাহী ট্রাকের দৌরাত্ম্য

ঢাকা, রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ১০ আশ্বিন ১৪২৯

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

ঢাকা বাইপাস সড়কে বালিবাহী ট্রাকের দৌরাত্ম্য

মাহবুব আলম প্রিয়, রূপগঞ্জ
🕐 ৮:৪৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০২২

ঢাকা বাইপাস সড়কে বালিবাহী ট্রাকের দৌরাত্ম্য

রাজধানী থেকে যানজট মুক্ত করতে ঢাকা বাইপাস সড়কের ৮ লেনে উন্নীতকরণ কাজ এগুচ্ছে দ্রুত গতিতে। তাই একদিকে চলছে উন্নয়ন কাজ অন্যদিকে শেষ হচ্ছে না এ সড়কের যানজট। ফলে যানজটে নাকাল পরিস্থিতি নিত্যদিনের।

স্থানীয়দের দাবি, মেয়াদহীন কাঞ্চন সেতুতে টোল আদায়কে ঘিরে কাঞ্চন সেতু এলাকায় এবং কালাদী থেকে কুশাবো পর্যন্ত সড়কের পাশে অবৈধভাবে বালি ব্যবসায়ীদের ট্রাক ও বেকুর কাজ করায় রোধ করা যাচ্ছে না এ সড়কের যানজট। এতে হিমসিম খাচ্ছে স্থানীয় ট্রাফিক,হাইওয়ে ও থানা পুলিশের সদস্যরাও।

আর হয়রানী ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এ সড়কে যাতায়াতকারী যানবাহনসহ সংশ্লিষ্ট যাত্রী সাধারন। অভিযোগ রয়েছে, হাইওয়ে পুলিশের অসাদু সদস্যদের ম্যানেজ করেই চালাচ্ছে মহাসড়কের পাশে এমন বালির ব্যবসা। এ ব্যবসা পরিচালনা করছেন কালাদি ও কুশাবো এলাকার ফাইজুল, ফজলুল, জয়নাল, টুটুল, জাকির সহ স্থানীয় প্রভাবশালীরা। তারা তাদের বালিবাহী ট্রাক যত্রতত্র পার্ক করে রাখে এমনকি সড়ক দখল করে বালি লোড ও আনলোড করে থাকে। তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে হামলা করার রয়েছে অভিযোগ।

সূত্র জানায়, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপে (পিপিপি) নির্মাণাধীন গাজীপুরের ভোগরা থেকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা হয়ে সোনারগাঁওয়ের মদনপুর পর্যন্ত ৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এ ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। এটি গাজীপুরের ভোগরা থেকে নারায়ণগঞ্জের মদনপুর পর্যন্ত পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের ভিত্তিতে প্রায় ৩ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা বাইপাস নির্মাণ হচ্ছে।

কিন্তু এ মহাসড়কের পাশেই গড়ে তোলা হয়েছে ৮টিরও বেশি অবৈধ বালির রাখার স্থান। যেখান থেকে প্রতিদিন শত শত ট্রাক দিয়ে আশপাশের এলাকায় এ সড়ক ব্যবহার করে বালি বহন করা হয়।

এসব বিষয়ে এ সড়কে কর্মকর্তা উপ সহকারী ট্রাফিক পরিদর্শক নাজমুল ইসলাম বলেন, বালি বহনের কারনে যানজট সমস্যা তৈরী হয়েছে তা নয়। বরং বালি লোড আনলোডের সময় কিংবা ট্রাকগুলো সড়কে ঘুরানোর সময় যানজট লেগে যায়।

এতে ট্রাফিক ও হাইওয়ে পুলিশকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়। আবার অনেক গাড়ী বালির কারনে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদেও পড়ে যায়। প্রায় প্রতিদিস রেকার ব্যবহার করতে হয়। সুতরাং মহাসড়কের পাশে এমন বালির ব্যবসায়ীদের গাড়ীর কারনে সড়কে যানজট নিয়ন্ত্রণে সমস্যা সৃষ্টি করে।

রূপগঞ্জ উত্তর ব্রাহ্মনখালী এলাকার বাসিন্দা রিটন প্রধান বলেন, ঢাকা বাইপাস সড়কের যানজটের অন্যতম কারণ লোকাল বালিবাহী ট্রাক ও কাঞ্চন সেতুর টোল আদায়। ফলে যানজটে ভোগান্তির শিকার হই আমরা। প্রতিদিন নষ্ট হয় হাজার হাজার কর্মঘণ্টা।

এদিকে যানজটের অন্যতম মুল হেতু হিসেবে দায়ী করছেন ঢাকা বাইপাসের মধ্যে শীতলক্ষ্যা নদীতে করা কাঞ্চন ব্রিজকে। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, সড়ক ও জনপদ বিভাগের (সওজে)র করা চট্টগ্রাম বন্দর ও সিলেটের সঙ্গে দেশের উত্তরাঞ্চলের সরাসরি সংযোগ স্থাপনরে জন্য কাঞ্চন সেতুটি নির্মাণ করা হয় ২০০৬ সালরে অক্টোবরে। সে সময় উদ্বোধনের পরবর্তি ১০ বছর পর্যন্ত টোল আদায় করার কথা বলা হয়েছিল। সে অনুযায়ী ২০১৬ সালে টোল আদায়ের মেয়াদ শষে হওয়ার কথা থাকলওে গত ৬ বছর ধরে চলছে টোল আদায়।

এ অঞ্চলে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর (টি আই) জহিরুল ইসলাম বলেন, আমার সঙ্গে পর্যাপ্ত জনবল নেই। ফলে সাধ্য দিয়েই যানজট মোকাবেলা করে আসছি। কেউ কোন বালি ব্যবসায়ীর সঙ্গে আপোষ করেনি। বরং তাদের ভিন্নভাবে ব্যবসার সড়কের সমস্যা সৃষ্টি না করে ব্যবসার জন্য বলেছি। তাদের গাড়ী আটক করে মামলাও দিচ্ছি।

কাঞ্চন সেতু প্রকল্প ও টোলপ্লাজার পরিচালক মোহাম্মদ শামীমুল হক বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে দায়িত্ব পেয়েই টোল আদায় কাজে নিয়োজিত আছি। টোল আদায়রে ময়াদকাল শেষ হয়েছে বলে জানা নাই। লোকবলের অভাবে মাঝে মাঝে লেন বন্ধ রাখা হয়। ফলে কিছুটা সমস্যা হয়।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহা. জহিরুল ইসলাম বলেন, কাঞ্চন ব্রিজের টোল আদায়ে আউট সোর্সের মাধ্যমে আদায় করা হচ্ছে। এটাকে পিপিপি প্রকল্পের আঁওতায় নিয়ে এ টোল আদায় অব্যাহত থাকবে। এ সময় অবৈধ বালি ব্যবসায়ী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সড়কের পাশে কোন বালি ব্যবসায়ীদের আস্তানা রাখা হবে না।

 
Electronic Paper