রূপগঞ্জে ভূতুরে জালিয়াত চক্র

ঢাকা, রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ১০ আশ্বিন ১৪২৯

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

রূপগঞ্জে ভূতুরে জালিয়াত চক্র

মাহবুব আলম প্রিয়, রূপগঞ্জ
🕐 ৪:৫৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১১, ২০২২

রূপগঞ্জে ভূতুরে জালিয়াত চক্র

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের আমলাবো মৌজার কালী গ্রামটি ঢাকা বাইপাস সড়ক পাশে হওয়ায় জমির দাম বেড়েছে কয়েকগুণ। আর তাই জমি ব্যবসায়ীসহ নজর পড়েছে জালিয়াত চক্রেরও। অভিযোগ রয়েছে, জমি মালিকরা নিরীহ ও সংখ্যালঘু হওয়ায় একটি জালিয়াত চক্র সক্রিয়।

তারা ছদ্মবেশে ভিন্ন ভিন্ন দলিলে জমি আত্নসাতের পাঁয়তারা করে আসছে। শুধূ তাই নয়, জালিয়াতকারীরা তাদের ছদ্মনাম পরিচয় ব্যবহার করে, বন্ধরাখা মোবাইল নাম্বার ও দূরজেলার নাম ঠিকানাসহ ভুয়া দাতা মাধ্যমে দলিল সৃজন করে জমি আত্নসাৎ করে আসছে। ফলে তাদের বাস্তবে অস্তিত্ব পায়নি ওই নিরীহ পরিবার ও তদন্তকারী কর্মকর্তারা। কিন্তু ভুমি অফিস থেকে নামজারী কেটে নিতে বারবার ভুতুরে আবেদনকারী রয়েছে সক্রিয়। ফলে ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে মুল জালিয়াত চক্র।

উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়ন কালী এলাকায় মৃত শরৎ চন্দ্র দাসের ছেলে অমল চন্দ্র দাস, একই পরিবারের বলরাম চন্দ্র দাসের ছেলে শ্রী বিমল চন্দ্র জানান, তারা বিগত শত বছর ধরে বংশপরম্পরায় পৈত্রিক ওয়ারিশ ও ক্রয় সূত্রে আমলাব মৌজার বিগত সি এস ও এসএ ৩০৯, ৪৭৩, ৫০৫, আর এস ৩৮৪, ৬৮৬, ৭৪০ দাগে মোট ৮২ শতাংশ জমির ওয়ারিশ সূত্রে মালিক হয়ে ভোগ দখলে আছেন। এমন কি তাদের নামে খাজনা খারিজ বহাল রয়েছে।

কিন্তু একটি জালিয়াত চক্র তারা নিরীহও সংখ্যালঘু হওয়ায় নানা কৌশলে জমি আত্নসাৎ চেষ্টা করে আসছে। তারা ভূয়া দাতা ও দলিলের মাধ্যমে ভুমি অফিস থেকে নামজারী কেটে নেয়ার চেষ্টায় পরপর ৩ বার আবেদন করেছে। কিন্তু আবেদন পত্রে দেয়া নাম ঠিকানা ও সংশ্লিষ্ট দলিল যাচাই করলে এর কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এমনকি আবেদনকারী জনৈক জালিয়াত চক্রের হোতা নাটোর জেলার শের মোহাম্মদ সরকার তার নামে আরো ৪টি ভুয়া দলিলসহ কোনটারই অস্তিত্ব পাননি। এ ঘটনায় প্রকৃত জমি মালিক হয়েও জমি হারানোর সঙ্কায় ভুগছেন ৪টি নিরীহ সনতম ধর্মীয় সংখ্যা লঘু পরিবার। তারা ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে। আবার ভুমি অফিস বারবার তাদের দরখাস্ত গ্রহণ করছে রহস্যজনকভাবে।

এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডাইরি করেছে অমল চন্দ্র দাস। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জ আদালতে মামলা দায়ের করেছেন পরিবারটি। এদিকে ভুয়া মালিক সেজে আবেদনকারী জনৈক শের মোহাম্মদ সরকারের বর্ণিত ঠিকানা নাটোর জেলার গুরুদাসপুর থানা ধারাবারিয়া ইউনিয়নের শিধুলী এলাকার মৃত হায়তুল্লাহ সরকারের ছেলে বললেও ওই ঠিকানায় তাকে পাওয়া যায়নি। কিন্ত এ নামে পরপর ৪টি ভুয়া দলিল সৃজন করেছে জালিয়াতকারীরা।

এ ঘটনায় রূপগঞ্জ উপজেলা ভুমি অফিসে লিখিত অভিযোগ জানালে তা তদন্ত করেন গোলাকান্দাইল ইউনিয়ন সহকারী কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান।

তিনি বলেন, অমল চন্দ্র দাস গণের নামে জমা খারিজ বহাল আছে। তবে একাধিকবার একটি পক্ষ জমিটির খারিজ পেতে আবেদন করেছে। কিন্তু পরে আর কেউ যোগাযোগ করেনি। তবে মেহেদী হাসান রিপনের মাধ্যমে মোহাম্মদ সরকার নামে এমন আবেদন পেয়েছি। ধারনা করা হচ্ছে কোন জালিয়াত চক্র এ কাজে জড়িত রয়েছে। তদন্ত চলছে, জালিয়াতি প্রমাণিত হলে এসব আবেদন বাতিল করা হবে।

অন্যদিকে জালিয়াতকারীদের দেয়া ১৯৬৩ সালে ১৪৫২০ নাম্বার সাব কবলা দলিলে রাজশাহীর সদর সাব রেজিস্ট্রার অফিসে দলিল লিখক রুহুল আমিনের মাধ্যমে তল্লাশি করা হলে এসব দলিলের কোন হদিস পায়নি সেখানকার কর্মকর্তারা। এ মর্মে তাদের পাঠানো প্রতিবেদনে রূপগঞ্জ উপজেলা ভুমি অফিসকে অবহিত করেছেন। ধারনা করা হচ্ছে, বালাম বইয়ের সঠিক তথ্য গোপন রেখে শরৎচন্দ্র ও বলরাম চন্দ্র দাসের নাম বসিয়ে ওই প্রতারক চক্র জমি আত্নসাতের চেষ্টা করেছে।

প্রতিবেদনের আলোকে জানা যায়, মূলত ওই বলিয়ম তল্লাশি করে ১৫১নং এর পাতা নং-১৬২-১৬৮তে গ্রহিতা আব্দুর রহমান, পিতা- সেলি শেখ, সাং আয়শাবাদ, থানা মুর্শিদাবাদ, হাল সাং কর্ণাহার, পবা, জেলা রাজশাহী লেখা পাওয়া যায়। তবে তদন্তে জালিয়াতির প্রমাণ মিললেও কারা এ কাজে জড়িত না খুঁজে পায়নি কেউ।

এদিকে ভুয়া জমি মালিকানার দাবিদার অভিযুক্ত জনৈক শের মোহাম্মদের আবেদনপত্রে উল্লেখিত মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

এসব বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনা (ভুমি) আতিকুল ইসলাম বলেন, জমি মালিকদের এ ধরনের অভিযোগ পেলে তা দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি। কারা এমন কাজে জড়িত তা খুঁজে বের করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 
Electronic Paper