আশুলিয়ায় শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা; ফুঁসে উঠছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

ঢাকা, শনিবার, ১৩ আগস্ট ২০২২ | ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

আশুলিয়ায় শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা; ফুঁসে উঠছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

শাহিনুর রহমান শাহিন, সাভার
🕐 ৯:৫৬ অপরাহ্ণ, জুন ২৮, ২০২২

আশুলিয়ায় শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা; ফুঁসে উঠছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

ঢাকার আশুলিয়ার হাজী ইউনুস আলী স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক উৎপল কুমার সরকার (৩৫)কে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ঘটনায় ফুঁসে উঠছে এ অঞ্চলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এরই মধ্যে হত্যাকারীকে দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার চেয়ে মানব বন্ধন এবং বিক্ষোভ মিছিল করেছে চিত্রশাইল এলাকার বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই আশুলিয়ার চিত্রশাইল এলাকার হাজী ইউনুস আলী স্কুল এন্ড কলেজ এবং এর আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে।

আন্দোলনরত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা প্রধান আসামী বখাটে আশরাফুল ইসলাম জিতুকে আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী সহ ৬দফা দাবী তুলেন। দাবী আদায়ে এরই মধ্যে আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যোগ দিয়েছে এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আন্দোলনে যোগ দিতে গণসংযোগ করেছে।

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ৬দফা দাবী হলো- মামলার প্রধান আসামীকে আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার করতে হবে, অজ্ঞাতনামা আসামীদের গ্রেফতার, প্রধান আসামীর পলাতক পরিবারের সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে হবে, নিহতের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্থানীয় ও বাইরের শিক্ষার্থীদের মধ্যকার ভেদাভেদ দূর করতে আইন প্রণয়ন এবং কিশোর গ্যাং ও কিশোর অপরাধ দূর করতে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

নিহত শিক্ষক উৎপল কুমার সরকার ঢাকার আশুলিয়ার চিত্রশাইলে হাজী ইউনুছ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষকতা করতেন। এর পাশাপাশি তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতিও ছিলেন। শনিবার শিক্ষকের উপর হামলার ঘটনার পর থেকেই হাজী ইউনুছ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

গতকাল রোববার উৎপল কুমার সরকার মারা গেছে এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে বেলা সারে ১১টার দিকেই ওই প্রতিষ্ঠানের সামনে শত শতক শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। যতক্ষণ বখাটে ওই ছাত্র গ্রেফতার না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের বিক্ষোভ কর্মসূচি চলমান থাকবে বলেও ঘোষণা দেয়।এক পর্যায়ে শিক্ষকরাও এই বিক্ষোভে অংশ নেন।

হাজী ইউনুছ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা জানান, ‘উৎপল স্যার শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি ছিলেন। তিনি বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীদের নিয়ম-শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও ইভটিজিং এর বিষয়ে শাসন করতেন। কয়েকদিন আগে এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার জন্য ওই ছাত্রকে শাসন করেন উৎপল স্যার। সেই ক্ষোভ থেকে প্রকাশ্যে স্যারের ওপর হামলা চালিয়েছে।

এদিকে হামলার পরপরই তাকে আটক করা হয়েছিল। কিন্তু তার প্রভাবশালী পরিবার জোর করে তাকে সেখান থেকে নিয়ে যায়। মারধরের পরও সন্ধ্যায় দাপট দেখিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে ঘুরাঘুরি করেছে। এই হত্যার বিচার চাই আমরা। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বখাটে ওই ছাত্র আশরাফুল ইসলাম জিতুকে গ্রেফতার করা না হলে আরো কঠোর কর্মসূচী দেয়া হবে বলেও শিক্ষার্থীরা জানায়।

হাজী ইউনুছ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সাইফুল হাসান জানান, সেদিন আমাদের স্কুলে মেয়েদের ক্রিকেট খেলা চলছিল। দুপুরে মাঠের এক পাশে দাঁড়িয়ে ছিল উৎপল। হঠাৎ কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই উৎপলকে ক্রিকেট খেলার স্টাম্প দিয়ে এলোপাতাড়ি পোঠাতে থাকে জিতু। স্টাম্পের আঘাতে শিক্ষকের মাথায় গুরুতর জখম হয়।

পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় নারী ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং পরে সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিবির পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউতে) ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরেরদিন সোমবার ভোর ৫টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। উৎপল কুমারের মরদেহ ময়নাতদন্তদের জন্য ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষ হলে মরদেহ তাঁর গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জে নিয়ে যাবে পরিবার। সেখানেই শেষকৃত্য হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে, মঙ্গলবার সকালেও ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সহ সর্বস্তরের মানুষ হত্যাকারি জিতুর বিচার চেয়ে মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

ঘটনার পরেরদিন রোববার সকালে উৎপল কুমার সরকারের ভাই অসীম কুমার সরকার বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় অভিযুক্ত ছাত্রসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির বলেন, হামলার শিকার আহত শিক্ষক মারা যাওয়ার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আসামি বখাটে ছাত্রকে গ্রেফতার করতে অভিযান চলছে। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যেই তাকে গ্রেফতার করা হবে।

তিনি আরো বলেন, এমন নির্মম ঘটনা এড়াতে আগামী প্রজন্মকে পারিবারিক শিক্ষা দিতে হবে এবং সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সবাইকে সচেতন হতে হবে ।

 

 
Electronic Paper