বর্ষামৌসুমে কদর বেড়েছে চাঁই ও দোয়ারির

ঢাকা, শনিবার, ১৩ আগস্ট ২০২২ | ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

বর্ষামৌসুমে কদর বেড়েছে চাঁই ও দোয়ারির

সিরাজুল ইসলাম, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)
🕐 ৯:১৭ অপরাহ্ণ, জুন ২৮, ২০২২

বর্ষামৌসুমে কদর বেড়েছে চাঁই ও দোয়ারির

ঋতুচক্রে বর্ষাকাল শুরু হয়েছে। নদ নদীতে নতুন পানি এসে গেছে। দেশীয় মাছের জন্য বিখ্যাত পদ্মা নদী।বর্ষার শুরুথেকেই বৃষ্টি হচ্ছে ও উজান থেকে ঢলের পানি এসেছে। গ্রামের মৎস্য শিকারীদের তৎপরতা শুরু হয়েছে মাছ ধরার। কদর বেড়েছে চাঁই ও দোয়ারি। এসময় মাছ ধরতে বাঁশ ও বেতের তৈরি চাই, দোয়ারি ও পলো তৈরির কারিগরদের ব্যাস্ততা বেড়ে যায়। বর্ষার শুরুতেই এসবের কদর বেড়ে যায়।

রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে জমে উঠেছে এ-সব উপকরণের জমজমাট হাট। দেশের বিভিন্ন এলাকার ক্রেতারা ভীড় করছে বাজার গুলোতে। মান অনুসারে একটি চাই চারশো থেকে পাঁচশ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অপরদিকে একটি দোয়ারী সাতশো থেকে আটশো টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গোয়ালন্দ হাটে আসা দক্ষিণ উজান চরের নুরুল ইসলামের সাথে কথা বলে জানাযায় সারা বছর তারা বাড়িতে এগুলো তৈরি করে আর বর্ষামৌসুমে এগুলো বিক্রি করে। এগুলোর ব্যাপক চাহিদা থাকার কারনে দুরদুরান্ত থেকে মানুষ আসে এগুলো কেনার জন্য।

বর্ষাকালে দেশের প্রায় প্রতিটি গ্রামাঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ বাঁশের ফাঁদ (চাঁইও দোয়ারি) দিয়ে মাছ শিকার করতে দেখা যায়। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চল রাজবাড়ী জেলা পদ্মাবতী হওয়ায় গ্রামগুলোর খাল-বিল নদী-নালায় ফাঁদ পেতে খুব সহজেই বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ শিকার করা হয়।

যুগের সঙ্গে সঙ্গে আধুনিকতার ছোঁয়ায় ফাঁদের আকার-ধরণ ও নকশায় পরিবর্তন হলেও, এখনও জনপ্রিয়তা কমেনি চাঁই-দোয়ারি গড়ার।

তবে এ অঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামে এই ফাঁদ বানানোর ধুম পড়ে যায় বর্ষাকালের আগ মুহূর্তে। আর বর্ষার শুরু থেকে সেসব চাঁই স্থানীয় হাট-বাজারে বিক্রির জন্য ওঠানো হয়।

মাছ ধরার ফাঁদ ব্যবসায়ীরা জানান, বিভিন্ন আকার ও আঙ্গিকে তৈরি মাছ ধরার এ ফাঁদগুলোর রয়েছে বাহারি নাম। যেমন-চাঁই, বুচনা, গড়া, চরগড়া, খুচইন ইত্যাদি।আবার চাঁইয়ের মধ্যেও রয়েছে নামের বিভেদ। যেমন-ঘুনি চাঁই, কইয়া চাঁই, বড় মাছের চাঁই, জিহ্বা চাঁই, গুটি চাঁই ইত্যাদি।

চাঁই তৈরির প্রধান কাঁচামাল হলো বাঁশ ও সুতা। প্রথমে বিভিন্ন মাপে বাঁশের শলা তুলে সেগুলো রোদে শুকিয়ে নিতে হয়। তারপর শুরু হয় চাঁই তৈরির কাজ। বিভিন্ন ধাপের পর একটি পরিপূর্ণ চাঁই তৈরি হয়। পানিতে মাছ চলাচল করতে করতে একসময় চাঁইয়ের ভেতরে ঢুকলে আর বের হতে পারে না। চাঁই খাল, বিল কিংবা ডুবে যাওয়া ফসলি ক্ষেতে পেতে রাখা হয়। যেখান থেকে দেশীয় প্রজাতির চিংড়ি, শোল, শিং, কই, খলিশা, পুঁটি মাছ ধরা পড়ে। তবে এখন বেশি পানিতেও ফাঁদ পাতার জন্য বড় আকারের চাঁই বানানো হয়, যাতে রুই-কাতলও ধরা পড়ে।

পদ্মা পারে থাকায় এখানে সব জায়গাতেই দেশি প্রজাতির মাছের ছড়াছড়ি। শুধু নদী নালা খালবিল নয় চাষের মাঠে পানি উঠলে গ্রামের মানুষ সেখানে ও চাই আর দোয়ারী পেতে পরিবারের মাছের চাহিদা মিটিয়ে থাকে। কথা হয় জুড়ান মোল্লার পাড়ার কৃষক তাজেল মোল্লার সাথে তিনি বলেন বিকেলে চাই পেতে রাখলে সকালে খাওয়ার মাছ হয়ে যায়। নাঝে মাঝে বিকেলে আবার উঠাই বাড়তি মাছ আত্নীয় স্বজনকে দেওয়া হয়।

গোয়ালন্দ দেবগ্রামের সৌখিন মৎস্য শিকারি বিল্লাল হোসেন বলেন, পদ্মাপাড়ের এ অঞ্চলের গ্রামের মানুষের কাছে চাঁই-বুচনা আগে যেমন জনপ্রিয় ছিল, এখনও রয়েছে। চাঁই খাল আর বিলে কিংবা ডুবে যাওয়া ফসলি ক্ষেতে পেতে রাখা হয়। যেখান থেকে দেশীয় প্রজাতির চিংড়ি, শোল, শিং, কৈ, খইলসা, পুঁটি মাছ ধরা পরে। তবে এখন বেশি পানিতেও ফাঁদপাতার জন্য বড় আকারের চাঁই বানানো হয়, যাতে রুই-কাতলও ধরা পড়ে।

গোয়ালন্দ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা টিপু সুলতান বলেন এই মৌসুমে নদীসহ বিল হাওরে প্রচুর মাছ পাওয়া যায় তাই চাই ও দোয়ারির চাহিদা বাড়ে দেশি প্রজাতির মাছ ধরার জন্য। তবে চায়না দুয়ারি দেশি মাছের জন্য বিপদজনক।

 
Electronic Paper