পদ্মা সেতু উদ্বোধন: উৎসব উদযাপনে প্রস্তুত হচ্ছে পদ্মাপাড়

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৯ আগস্ট ২০২২ | ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

পদ্মা সেতু উদ্বোধন: উৎসব উদযাপনে প্রস্তুত হচ্ছে পদ্মাপাড়

এম.আর.মুর্তজা, মাদারীপুর
🕐 ৭:১৪ অপরাহ্ণ, জুন ২৩, ২০২২

পদ্মা সেতু উদ্বোধন: উৎসব উদযাপনে প্রস্তুত হচ্ছে পদ্মাপাড়

আর মাত্র দুইদিন বাকি। দক্ষিণাঞ্চলবাসীর স্বপ্নের পদ্মা সেতুর দ্বার উন্মোচন হবে। রাজধানীর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হবে দক্ষিণাঞ্চলের পদ্মা বিধৌত জনপদ। এখন শুধু সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষা। ২৫ জুন স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পদ্মা সেতু উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রীর অংশ নেয়ার কথা রয়েছে মাদারীপুরের বাংলাবাজার বিশাল জনসভায়।

ইতোমধ্যে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনি জনসভাস্থলে শেষ পর্যায়ে রয়েছে মঞ্চ তৈরির কাজ। লাখ লাখ মানুষের জন্য তৈরি করা হচ্ছে নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠান উপভোগের ব্যবস্থা। পয়ঃনিষ্কাশনের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে ৬ শতাধিক টয়লেট, থাকছে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা। নদী পথে আসা মানুষের জন্য তৈরি করা হচ্ছে ২০টি পল্টুন। থাকবে ৪০ শয্যা বিশিষ্ট ৩টি অস্থায়ী হাসপাতাল। প্রায় দেড় ১ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে জনসভাস্থলের সভামঞ্চ পদ্মা সেতুর আদলে সাজানোর হচ্ছে।

থাকছে ৬ দিনব্যাপী মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক আয়োজন। আর এসব ঘিরেই মানুষের মনে বিশেষ করে পদ্মাপাড়ের মানুষের ঘরে বইছে উৎসব! নিরাপত্তার জন্য বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা ও নিরাপত্তা চৌকি। সব মিলিয়ে পদ্মাপাড়ে বইছে উৎসবের আমেজ।

পদ্মাপাড়ের চরাঞ্চলের সাধারণ মানুষেরা জানান, পদ্মা সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠান দেখতে আত্মীয়-স্বজনেরা বেড়াতে চলে এসেছে ইতোমধ্যে। এই এলাকার গ্রামের মানুষের মধ্যে বইছে আনন্দ-উদ্দীপনা। ২৫ তারিখের জন্য সবাই অপেক্ষায় রয়েছে। ঘরে ঘরে যেন ঈদের আনন্দ বইছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে চলছে সার্বিক প্রস্তুতি। তাকে বরণ করতে দলীয় নেতাকর্মীরা নিয়ে নিরলস পরিশ্রম করছে। দফায় দফায় কেন্দ্রীয় নেতারা সভাস্থল পরিদর্শন করছেন। প্রধানমন্ত্রীর মাদারীপুরের শিবচরে আগমনকে কেন্দ্র করে দিন-রাত চলছে প্রস্তুতি। পুরো এলাকা নিরাপত্তার চাদরে দিবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, শিবচর উপজেলার কাঠালবাড়ি বাংলাবাজার এলাকার পদ্মা নদীর পাড়েই পদ্মা সেতুর আদলে সভামঞ্চ সাজানোর কাজ চলছে প্রায় ১মাস ব্যাপি। দিনরাত শ্রমিকরা কাজ করছে।

নেয়ামুল আলম ওয়াহাবি রানা বলেন, পদ্মায় সেতু হতে পারে এমন ভাবনা কল্পনাতেও ছিল না। ঝড়-বৃষ্টি, বর্ষায় ঢাকা যাওয়া ছিল এই এলাকার মানুষের কাছে সবচেয়ে কঠিন এবং কষ্টের। আমাদের এলাকায় তেমন রাস্তাঘাট ছিল না। এক পদ্মা সেতু পাল্টে দিয়েছে এই এলাকার চিত্র। আগে আমাদেরকে ‘গাঁও-গেরামের’ লোক বলতো। এখন এই এলাকায় অসংখ্য লোকজন ঘুরতে আসে। জমজমাট সব জায়গা। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ।

মাদারীপুর এলাকার শিব শংকর চক্রবর্তী শিবু বলেন, সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠান দেখতে বাড়ি চলে এসেছি। সেতু চালুর পর সেতুর উপর দিয়ে ঢাকায় যাব।

শিবচরের কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের একাধিক ব্যক্তি জানান, আমাদের স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। এখন যেন সময় যেতেই চাচ্ছে না। ২৫ তারিখের জন্য অপেক্ষায় আছি। জনসভার মঞ্চ প্রস্তুতসহ চারপাশ সাজানো হচ্ছে। আলোকসজ্জা করা হচ্ছে। এ এক অন্য রকম আনন্দ!

পদ্মা পাড়ের চরজানাজাত গ্রামের মাশুকুর রহমান মুবীন বলেন, পদ্মা সেতু নিয়ে আমাদের উচ্ছ্বাসের শেষ নেই। এক বুক আবেগ পদ্মা সেতু নিয়ে। জনসভা হবে আমাদের শিবচরের বাংলাবাজার ঘাটে। পদ্মার পাড়েই। আমাদের এলাকায় উৎসবের আমেজ বইছে।

মাদারীপুর জেলা পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষ্যে নিরাপত্তা পরিকল্পনা গুরুত্ব দিয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে। সব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ চলছে। এরই মধ্যে সাদা পোশাকের নিরাপত্তা বাহিনী মাঠে কাজ করছে।

 

 

 
Electronic Paper