নোয়াখালী পৌর নির্বাচন, প্রচারণায় এগিয়ে সোহেল

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২ | ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

নোয়াখালী পৌর নির্বাচন, প্রচারণায় এগিয়ে সোহেল

ইকবাল হোসেন সুমন, নোয়াখালী
🕐 ১:০৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১২, ২০২২

নোয়াখালী পৌর নির্বাচন, প্রচারণায় এগিয়ে সোহেল

আসন্ন নোয়াখালী পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ। প্রার্থীদের সকাল-সন্ধ্যায় ক্লান্তহীন প্রচারণায় জমজমাট প্রতিটি পাড়া-মহল্লা। একটি শান্তিপূর্ণ ভোটের উৎসব বইছে পৌরবাসীর মধ্যে। মাঠ পর্যায়ে প্রচার-প্রচারণায় মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে এগিয়ে রয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জেলা আ.লীগের যুগ্ম আহবায়ক মো. সহিদ উল্যাহ্ খান সোহেল এমনটাই বলছে সাধারণ মানুষ। তার পক্ষে প্রচারণায় নেমেছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। সবকিছু ছাড়িয়ে সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ থাকলে গত বছরের পৌরসভা যে উন্নয়ন হয়েছে তার ধরে রাখতে যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন বলে প্রত্যাশা সাধারণ ভোটারদের।

নির্বাচনী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রচারণা চালাচ্ছেন ৭জন মেয়র, ৬৩জন কাউন্সিলর ও ১৪জন সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থী। একটি আধুনিক পৌরসভা গঠনের লক্ষে ভোটারদের ধারে ধারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন প্রার্থীরা। ১৬ জানুয়ারি পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের ৩৪টি কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ৭৫হাজার ৭২৬জন নারী পুরুষ।

১৮৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত নোয়াখালী পৌরসভার গত কয়েক বছরের তথ্য পর্যালোচনা করে জানা গেছে, ২০১৬ সালের আগে দেশের প্রথম শ্রেণির পৌরসভাটিতে দৃশ্যমান কোন উন্নয়ন হয়নি। ২০১১ সালের পর দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র ক্ষমতা ছাড়েন তখন পৌরসভার বকেয়া ছিল ৭ কোটি টাকা। যারমধ্যে শুধু ৩ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল ও প্রায় এক কোটি টাকা কর্মকর্ত-কর্মচারী বেতন বকেয়া ছিল। ২০১৬ সালে দায়িত্বগ্রহণের পর ওই বকেয়া পরিশোধ করে আরও ২১২ কোটি ৯৬ লাখ টাকার উন্নয়ন কাজ করেন। এর বাইরে প্রক্রিয়াদিন রয়েছে আরও প্রায় হাজার কোটি টাকার কাজ।

পৌরবাসীরা জানান, দেড়শত বছরের পুরনো এ পৌরসভায় অতীতে যে উন্নয়ন হয়নি তা মেয়র সোহেল তার দায়িত্বকালে ৫বছরে বদলে দিয়েছেন। যা পৌরবাসীর কাছে অভাবনীয় ও অকল্পনীয় ছিল। গত ৫বছরের উন্নয়নের ছোঁয়ায় গড়ে উঠেছে প্রশস্ত পাকা সড়ক, খেলার মাঠ, গণ শৌচাগার, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ। পুরো পৌরসভা জুড়ে এসেছে চোখ ধাঁধানো পরিবর্তন। পৌর বাসিন্দাদের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতে বিগত পাঁচ বছরে (২০১৬-২০২১) বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়িত ও বাস্তবায়নাধীন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডসমূহ যে কারো বিবেকে আচ্ছাদিত না করে পারেনা। পৌর উন্নয়নের নিরীক্ষায় ও বাস্তবায়িত উন্নয়নের সীমারেখায় ছোটবড়সহ ২৫৫টি সড়ক যোগ হয়েছে পাকাকরণের তালিকায়। ওই সড়কগুলোর সর্বমোট দৈর্ঘ্য ৬০কিলোমিটারের বেশি। রয়েছে ১৬টি আরসিসি ড্রেন, যার সর্বমোট দৈর্ঘ্য সাড়ে সাত কিলোমিটার, ৪টি বক্স কালভার্ট, ৩০ওয়াটের সোলার এলইডি, ৩৩৮টি সড়ক বাতি, পৌর জামে মসজিদ, সোনাপুর কিচেন মার্কেট, সোনাপুর সুপার মার্কেট, সোনাপুর বাসটার্মিনাল, মাইজদী পৌরসুপার মার্কেট। স্যানিটেশন ব্যবস্থা সম্প্রসারণের কাজে উৎপাদক ৪টি গভীর নলক‚প স্থাপন, একটি আয়রন রিমুভাল প্ল্যান্ট, ৩টি ৬৮০ ঘনমিটার ওভারহেড পাওয়ার প্ল্যান্ট, ৩০০মিলি সঞ্চালন ২০কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপন, ২০০মিলি বিতরণ পাইপলাইন ৪০কিলোমিটার। যা বাস্তবায়নে খরচ হয়েছে ২১২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।

এরবাইরে প্রতি বছর নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য বিনাখরচে থাকা-খাওয়া, খাবার পানি সরবরাহ, তথ্য দিয়ে সহযোগিতা, আবাসন নিশ্চিতকরণ, নিরাপদে কেন্দ্রে পৌঁছে দেয়া, মেডিকেল সেবা প্রদানসহ নানাবিধ সহযোগিতার মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক ভ‚মিকা পালন করেন। যা সারা দেশে প্রশংসিত হয়।

ল²ীনারায়ণপুর এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ বাবুল জানান, আমার জন্মের পর থেকে আমার এলাকার রাস্তা-ঘাটের বেহাল দশা ছিলো। বর্তমান সরকারের আমলে দায়িত্ব পাওয়ার পর তার পরিবর্তন এনেছেন মেয়র সোহেল। ভাঙাচুরা সড়কগুলো সংস্কার করায় অতীতের সকল কষ্টের অবসান হয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছেন সহিদ উল্যাহ্ খান সোহেল।

পৌর শহরের হাউজিং এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা গৃহিনী ফরিদা ইয়াছমিন বলেন, নোয়াখালী পৌরসভাটি একসময় শুধু নামেই পৌরসভা ছিল। এখানে আমাদের নাগরিক সুবিধা বলতে কিছুই ছিলো না। হাউজিংসহ প্রতিটি এলাকায় পানির সংকট ছিলো চরমে। পানির ব্যবহার হোক বা না হোক মাস শেষে বিল পরিশোধ করতে হতো সবাইকে। কিন্তু বর্তমানে এ সংকটগুলো নেই। যথাসময়ে পর্যাপ্ত পরিমান পানি সরবরাহ পাওয়া যায়।

কাদির হানিফ এলাকার বাসিন্দা ইকবাল হোসেন সুমন জানান, পুরো পৌর শহর একসময় ময়লা আবর্জনার বাগাড় ছিল। যত্রতত্র ময়ার স্তুপ করে রাখা হতো। ময়লা আবর্জনা অপসারণের কোন ব্যবস্থা ছিলো না। ময়লার গন্ধে সড়কে চলাচল করা ছিলো অসম্ভব। বর্তমানে শহরে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করায় ময়লা মুক্ত হয়েছে পৌর শহরটি।

বিএনপি সমর্থক স্বতন্ত্র কম্পিউটার প্রতীকের প্রার্থী শহীদুল ইসলাম কিরণ বলেন, জনগন পরিবর্তনের পক্ষে, ইতোমধ্যে আমরা জনগনের আস্থা অর্জন করতে পেরেছি। আগামী ১৬ তারিখে জয়ের বিষয়ে আশাবাদী তিনি।

জাতীয় পার্টির নাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী সামছুল ইসলাম মজনু বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচার-প্রচারণায় আমাদের ব্যস্ত সময় যাচ্ছে। পৌরবাসী আমাদের পক্ষে আছেন। সুষ্ঠু ভোট হলে জয়ের বিষয়ে আশাবাদী তিনি।

আ.লীগ মনোনিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মো. সহিদ উল্যাহ্ খান সোহেল বলেন, বিগত ২০১৬ সালে আমি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পৌরসভার প্রতিটি অঞ্চলের সড়ক, কালভাটের টেকসই উন্নয়ন করেছি। করোনাকালীন সময় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় অনুযায়ি সব ধরনের সহযোগিতা করে আমি পৌরবাসীর পাশে ছিলাম। আগামী নির্বাচনে আমি যদি জয়ী হই পৌরবাসীর চাহিদা অনুযায়ি অবশিষ্ট কাজগুলো সম্পুর্ণ করবো।

 
Electronic Paper