ধর্ষণের শিকার কিশোরির সন্তান প্রসব, পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার

ঢাকা, সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১ | ৬ বৈশাখ ১৪২৮

ধর্ষণের শিকার কিশোরির সন্তান প্রসব, পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক ৭:০৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২১

print
ধর্ষণের শিকার কিশোরির সন্তান প্রসব, পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার

ফেনীর ফুলগাজীতে এক কিশোরিকে ধর্ষণের অভিযোগে তৌহিদুল ইসলাম শাওন নামে এক পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরি কন্যা সন্তান প্রসব করেছে। বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) গ্রেপ্তার শাওনকে করা হয়। শুক্রবার সকালে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ফেনীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসান মেয়েটির জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। অভিযুক্ত শাওন এর আগে ফুলগাজী থানায় কর্মরত থাকলেও বর্তমানে রাঙামাটির একটি ফাঁড়িতে কর্মরত।

আদালত, পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে শাওন ফুলগাজী থানায় কর্মরত থাকাকালে এক বছর আগে ওই ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান। একদিন ঘুরে বেড়ানোর কথা বলে ফেনী শহরের একটি বাসায় নিয়ে ফলের জুসের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে মেয়েটিকে পান করান। এতে অচেতন হয়ে পড়লে মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন এবং তার অশ্লীল ভিডিও ধারণ করেন তিনি। প্রায় তিন ঘণ্টা পর জ্ঞান ফিরলে ছাত্রীটি ধর্ষণের বিষয়টি বুঝতে পেরে এর প্রতিবাদ করে। তখন তার অশ্লীল ভিডিও ধারণ করা হয়েছে জানিয়ে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন শাওন। এভাবে একাধিকবার ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে সে। বিষয়টি শাওনকে জানিয়ে বিয়ে করতে বললে তিনি নানা কৌশলে এড়িয়ে যেতে থাকেন। বার বার শাওনকে বিয়ে করার জন্য চাপ দেওয়া হলেও তিনি রাজি হননি। পারিবারিকভাবে চেষ্টা করেও ফল পাওয়া যায়নি। এরই মধ্যে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ওই ছাত্রী একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেয়।

ঘটনার পরই স্কুলছাত্রীর মা বাদী হয়ে ২৩ ফেব্রুয়ারি ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে বৃহস্পতিবার ফেনীর ফুলগাজী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে চারজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়। আসামিরা হলেন- ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার তৌহিদুল ইসলাম ওরফে শাওন, তার বাবা আমিনুল ইসলাম, মা শানু ও মামা ফিরোজ আহম্মদ বাবু।

ওই ছাত্রী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বর্তমানে তার বয়স ১৫ বছর ৪ মাস বলে উল্লেখ করা হয়।

ফুলগাজী থানার ওসি মোহাম্মদ কুতুব উদ্দিন মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেন বলেন, ওই কিশোরী আদালতে ২২ ধারায় সব ঘটনার বর্ণনা করেছে। সেই হিসেবে মামলার প্রধান আসামি তৌহিদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।