সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যায় করা মামলা দুটি ডিবি’তে হস্তান্তর, আটক ৪

ঢাকা, রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১ | ৫ বৈশাখ ১৪২৮

সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যায় করা মামলা দুটি ডিবি’তে হস্তান্তর, আটক ৪

নোয়াখালী ও কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি ৯:০৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২১

print
সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যায় করা মামলা দুটি ডিবি’তে হস্তান্তর, আটক ৪

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় আওয়ামী লীগের বিবাদমান দু’পক্ষের গোলাগুলিতে সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলার দায়িত্ব পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

 

বুধবার দুপুরে পিবিআই নোয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সীর নেতৃত্বে একটি তদন্ত দল ওই এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ইন্সপেক্টর মোস্তাফিজুর রহমান ও তার তদন্ত দল উপস্থিত ছিলেন।

পিবিআই এর তদন্তদলটি চাপরাশিরহাট পূর্ব বাজারের ঘটনাস্থল এবং নিহত সাংবাদিক মুজাক্কিরের বাড়ীতে পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেছেন। এছাড়াও স্থানীয় লোকজন এবং সংঘর্ষের সময় কর্মরত পুলিশ সদস্যদের সাথে কথা বলেছেন পিবিআই তদন্ত টীম।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মীর জাহিদুল হক রনি জানান, ঘটনার পর উদ্ধারকৃত মুজাক্কিরের ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন, একটি ভিডিও ক্যামেরা (মেমোরি কার্ড ছাড়া), একটি মানিব্যাগ, একটি ওটিজি কর্ড, চাপরাশির হাটি পূর্ব বাজারের ৬টি সিসিটিভি ক্যামরার ফুটেজসহ সব আলামত বুধবার দুপুরে পিবিআইতে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পিবিআই নোয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সী জানান, মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে আমরা ঘটনস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয় লোকজনসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে কথা বলেছি। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার চেষ্টা করবো।

এদিকে নোয়াখালীর ডিবি পুলিশ উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ৪ জনকে গ্রেফতার করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে গেছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- চাপরাশিরহাট পাটোয়ারী বাড়ীর রুহুল আমিন, বসুরহাট পৌরসভা ৭নং ওয়ার্ডের রাইসুল ইসলাম তপন, ২নং ওয়ার্ডে মো. শাহদাত হোসেন শুভ ও চরকাঁকড়া ইউনিয়ন ৯নং ওয়ার্ডের আবদুর রহমান কচি।

মুজাক্কির হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এবং পরবর্তি উদ্ভুত পরিস্থিতি কারণে দায়ের করা হয়েছে এ পর্যন্ত ৪টি মামলা। এর মধ্যে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যার মিজানুর রহমান বাদল বাদী হয়ে ৪৪ জনকে আসামি করে মামলা (মামলা নং-২৩), কোম্পানীগঞ্জ থানার এসআই মো. শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাত ৭/৮ জনকে আসামি করে পুলিশের কাজে বাধা, পুলিশের আক্রমন আহত করার (মামলা নং-২৪), এসআই মাহফুল রহমান বাদী হয়ে বিষ্ফোরক দ্রব্য আইনে ৫৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২৫০-৩০০ জনকে আসামি করে (মামলা নং-২৫) ও সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যা ঘটনায় তার পিতা মাওলানা নুরুল হুদা মো. নোয়াব আলী বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নং-২৬)। এ হত্যা মামলাটি মঙ্গলবার পিবিআইকে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি মামলা (২৩ ও ২৫ নং মামলা) গোয়েন্দা সংস্থা নোয়াখালীর ডিবি’কে হস্তান্তর করা হয়েছে।

নোয়াখালীর ডিবি পুলিশ পরিদর্শক মো. হুসাইন খান বুধবার সন্ধ্যায় মুঠোফোনে বলেন, আটক চারজনকে কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশের বাদী হয়ে দায়ের করা বিষ্ফোরক দ্রব্য আইন ও মিজানুর রহমান বাদলের দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এ দু’টি মামলায় অপরাপর আসামিদেরকে দ্রুত গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার রাত ৯টায় বসুরহাট রূপালী চত্বরে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার দলীয় কার্যক্রম পরিচালনায় স্থাপিত দলীয় কার্যালয়ের সামনে মঞ্চটি ভেঙে নিয়ে যেতে বাধ্য করে প্রশাসন। প্রশাসনের উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের নির্দেশ পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) সুপ্রভাত চাকমার উপস্থিতে মঞ্চটি সরিয়ে দেয় প্রশাসন।

অপরদিকে, রাত ১০টায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক নির্দেশে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগ কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ সংগঠন ও সহযোগী সংগঠন সমূহের সকল কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করে। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ এইচএম খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিম কেন্দ্রীয় নির্দেশনার বিষয়টি নিশ্চিত মঙ্গলবার রাতে বলেন, দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে এ স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। দলীয় শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার্থে কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগে এবং এরসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের রাজনৈতিক কর্মসূচি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। এ সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও কেউ কোনো ধরনের রাজনৈতিক উস্কানিমূলক স্ট্যাটাস বা লাইভে বক্তব্য দিতে পারবে না বলে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার উপজেলার চাপরাশিরহাট পূর্ব বাজারে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এর ছোট ভাই বসুরহাট পৌর মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদলের বিবদমান সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশও কয়েক রাউন্ড শর্টগানের গুলি ও টিয়ারসেল ছুড়ে।

ঘটনার ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন সাংবাদিক মুজাক্কির’সহ ৭-৮ জন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান সাংবাদিক মুজাক্কির। এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার সকালে নিহতের বাবা নোয়াব আলী মাস্টার বাদী হয়ে অজ্ঞাত একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে কোম্পানীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওইদিন রাতে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য উদ্ধারকৃত বিভিন্ন আলামতসহ পিবিআইতে হস্তান্তর করা হয়।