হাতিয়ায় শীতের বাজারে মন্দাভাব, ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭

হাতিয়ায় শীতের বাজারে মন্দাভাব, ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত

জিল্লুর রহামান রাসেল, হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি ৪:৫১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৭, ২০২১

print
 হাতিয়ায় শীতের বাজারে মন্দাভাব, ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত

একদিকে এবার শীতের তীব্রতা তুলনামূলক কম অন্যদিকে করোনা মহামারির কারণেও মানুষের মাঝে শীতবস্ত্রের কেনাকাটার প্রয়োজনীয়তা তেমন দেখা যায়নি। এতে করে মৌসুমী শীতবস্ত্র ব্যবসায়ীদের গরম বাজার অন্যান্য বছরের ন্যায় আশানুরূপ না হওয়ায় দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় এ বছর ব্যবসায়ীরা লোকসানে জর্জরিত।

জানা যায়, প্রতি বছর দ্বীপ হাতিয়ায় স্থানীয় বাজারগুলোতে মৌসুমী শীতবস্ত্র ব্যবসায়ীরা চট্টগ্রামের আমীন মার্কেট, জহুর হকার্স মার্কেট এবং ঢাকার সদরঘাট ও বঙ্গবাজার থেকে প্রতি বেল বা কাপড়ের গাইট ত্রিশ হাজার টাকায় কিনে হাতিয়া এনে বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করে থাকে। এতে প্রতি গাইটে তাদের প্রায় ১৫/২০ হাজার টাকা লাভ হতো। যা দিয়ে তাদের বছরের অধিকাংশ সময় পারিবারিক ভরণ পোষণ চলতো। এ বছর পুরো পরিস্থিতি বিপরীত।

ওছখালী মসজিদ মার্কেটের শীতবস্ত্র ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান জানান, অগ্রহায়ণের প্রথম দিকে ‘একটি বাড়ী একটি খামার’ ও ‘রিক সংস্থা’ থেকে ৫ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে মালামাল নিয়ে আসেন। বাস্তবে তার অনেকগুলো গাইট এখনো খোলাই হয়নি। একদিকে সংস্থার ঋণের বোঝা অন্যদিকে সংসারের অভাব অনটনে তার এখন মাথায় হাত।

একই মার্কেটের ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, শীত নাই তো আমাদের গরম কাপড়ের বেচাও নাই। তাতে ব্যবসা একেবারে মাঠে মারা।

জাহাজমারা বাজারের ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন জানান, বড় আশা করে অনেক টাকা ঋণ নিয়ে গাইটের ব্যবসায় বিনিয়োগ করে এবার আমার প্রচুর লোকসান গুনতে হচ্ছে।

সাগরিয়া বাজারের ব্যাবসায়ী সৃজণ দাশ জানান, বেশীর ভাগ শীতের বস্ত্র চায়না থেকে এসে থাকে। এবার চায়না থেকে গাইটের কাপড় আমদানি না থাকায় তদুপরি শীতের প্রভাব তেমন না থাকায় পুরো ব্যবসায় একেবারে ধস নেমেছে।

একই ভাবে চৌমুহনী বাজারের শীতবস্ত্র ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, ৮ বছর ধরে এ ব্যবসা করছি, এবারের মত এমন মন্দা অবস্থা কখনো দেখিনি। প্রতিবছর শীত শেষে যা লাভ হয় তা দিয়ে অন্য ব্যবসা করে পরিবার চালাতাম। শীত শেষের পথে, কিন্তু এবারে যা মালামাল এনেছি প্রায় সবই রয়েগেছে, অনেক গুলো গাইট এখনো খোলাই হয়নি। সংসারের খরচ জোগাতে চোখে অন্ধকার দেখছি।

এ বিষয়ে হাতিয়া বণিক কল্যান সমিতির সভাপতি আব্দুল্যাহ আল মামুন খোলা কাগজকে বলেন, হাতিয়ার বিভিন্ন বাজারে শতাধিক ক্ষুদ্র শীত বস্ত্র ব্যবসায়ী রয়েছে যারা এ ব্যবসার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে। কিন্তু এবার শীতের প্রকোপ কম থাকা ও করোনা মহামারীর কারণে ব্যবসায়ীরা কোটি টাকার উপরে ক্ষতির সম্মূখীন হয়েছে। সরকারীভাবে তাদেরকে অনুদানের ব্যাবস্থা না করলে তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্ট করতে হবে।