ভাড়া বাড়িতেই ২১ বছর চলছে কর্ণফুলী থানার কার্যক্রম

ঢাকা, সোমবার, ১ মার্চ ২০২১ | ১৬ ফাল্গুন ১৪২৭

ভাড়া বাড়িতেই ২১ বছর চলছে কর্ণফুলী থানার কার্যক্রম

জে জাহেদ, চট্টগ্রাম ৫:০৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৪, ২০২১

print
ভাড়া বাড়িতেই ২১ বছর চলছে কর্ণফুলী থানার কার্যক্রম

চট্টগ্রামে উপযুক্ত স্থান সঙ্কটের কারণে ২১ বছর ধরে ভাড়া ভবনেই চলছে কর্ণফুলী থানার কার্যক্রম। ইউনিয়ন পরিষদের ভেতর থানা। আবার থানার উপরেই পরিষদ। এক থানা এলাকার ফাঁড়ি আরেক থানার ভেতর। এসব কিছুর মূলে সিএমপি কর্ণফুলী থানা পুলিশ তাদের নিজস্ব আবাসন ও দাপ্তরিক অফিস সঙ্কটে ভুগছেন।

এদিকে থানার পরিধি বেড়েছে, কিন্তু সুযোগ-সুবিধা বাড়েনি। সিএমপির অন্য থানা থেকে কর্ণফুলী থানা আবার অপরাধ দমনে পিছিয়েও নেই। স্বল্প জনবলে সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হলেও নেই কোন পুলিশ ব্যারাক ও নিজস্ব ভবন।

বন্দর জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার মিলন মাহমুদ বলেন, ‘বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন; আশা করি শিগগিরই কর্ণফুলী থানার নিজস্ব কাম-ব্যারাক ও ভবন হবে।’

জানা গেছে, কর্ণফুলী থানা কাম-ব্যারাক নির্মাণের জন্য সিডিএ কর্ণফুলী আবাসিক এলাকায় ১৫ দশমিক ১১ কাঠা জমি বরাদ্দ দেয় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। ২০১৪ সালের ৩০ জুন জারি করা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্মারকমূলে ১৫ কাঠা জমি কিনে নেয় সিএমপি। জমির মালিক চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে প্রায় এক কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়। পরবর্তীতে আরো দশমিক ১১ কাঠা জমি সিডিএ থেকে কেনা হয়। কিন্তু পুলিশ সদর দফতর থেকে ৮ তলাবিশিষ্ট থানা ভবন নির্মাণের যে নকশা পাঠানো হয়েছে, সেই নকশায় সিডিএ’র জায়গায় ভবন হবে না। নকশা অনুযায়ী আরো সাড়ে তিন কাঠা জমি প্রয়োজন। এতে থানা ভবন নির্মাণ কাজ থমকে যায়।

এদিকে জাতীয় অর্থনীতিতে খুবই গুরুত্ব বহন করে কর্ণফুলী তীরবর্তী এ থানা অঞ্চল। পাঁচ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত প্রায় তিন লাখ লোক অধ্যুষিত কর্ণফুলী উপজেলার আয়তন প্রতিষ্ঠাকালে আয়তন ১৩৬.৫৯ বর্গ কিলোমিটার হলেও নতুন করে তার পরিধি বেড়েছে। কর্ণফুলী উপজেলাতে পটিয়া থানাধীন যে ১১টি ওয়ার্ড ছিল তা কর্ণফুলী থানাতে প্রবেশ করেছে। শুরুর দিকে এ থানায় লোক সংখ্যা ছিল ১,৭৯,১৪৮ জন। এই কর্ণফুলী উপজেলা ও আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ, রায়পুর, বারশত ইউনিয়নের আংশিক এলাকা নিয়ে কর্ণফুলী থানা প্রশাসন পরিচালিত হচ্ছে।

থানার পুলিশ সদস্যরা জানান, অস্থায়ী থানা ভবন গ্রামের ভিতরে হওয়ায় ঘটনাস্থলে আসা যাওয়া করতে অসুবিধা হয়। একইভাবে থানায় সেবা নিতে আসা লোকজনকেও ভোগান্তি পোহাতে হয়। প্রতিটি থানায় নারী-পুরুষের জন্য আলাদা হাজতখানা রাখার বিধান থাকলেও কর্ণফুলী থানায় নেই নারী হাজতখানা। কক্ষ স্বল্পতার কারণে আটক নারীদের রাখা হচ্ছে ডিউটি অফিসারের কক্ষে। তাছাড়া পর্যাপ্ত খালি জায়গা না থাকায় জব্দ করা গাড়ি ও মালামাল রাখতে সমস্যায় পড়তে হয়। অস্থায়ী ব্যারাকে পুলিশ সদস্যদের থাকার জায়গার সংকুলান হয় না।