কক্সবাজারে প্রাচীন মসজিদের সন্ধান

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২ মার্চ ২০২১ | ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭

কক্সবাজারে প্রাচীন মসজিদের সন্ধান

মো. নেজাম উদ্দিন, কক্সবাজার ৯:২৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৯, ২০২১

print
কক্সবাজারে প্রাচীন মসজিদের সন্ধান

প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন দেশে অনেক জায়গায় মিলছে। সম্প্রতি কক্সবাজারের রামু উপজেলায় কানা রাজার সুড়ঙ্গ মিলেছে এবং তা সংরক্ষণের জন্য প্রত্নতাত্ত্বিকরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ব্রিটিশ আমলে কক্সবাজার সাগরপথের জন্য বিশ্রামের জায়গা হওয়াতে তৎকালীন সময়ে অনেক বিদেশি ব্যবসায়ীরা এখানে আস্তানা গড়তেন বলে বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে। ঠিক তেমনি বেশ কিছু প্রাচীন আমলের বা ব্রিটিশ আমলের নিদর্শন এখনো রয়েছে বিভিন্নভাবে যা চোখে পড়ছে এখন।

এবার কক্সবাজারের টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে প্রাচীন ও ‘ক্ষুদ্রতম’ একটি মসজিদের সন্ধান মিলেছে। উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর গ্রামের মাথাভাঙ্গা এলাকায় সমুদ্রের পাড়ে অবস্থান এই মসজিদের।

এলাকাবাসী বলছেন, প্রাচীন এই মসজিদ সম্পর্কে তারা পূর্ব পুরুষদের কাছ থেকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শুনে আসছেন। মূলত মসজিদটি জঙ্গলে ঢাকা ছিল বলে কেউ সেখানে যেতেন না, কারও চোখে পড়ছে না। কারণ, মসজিদটির আশপাশে গাছ ও গাছের শিকড়সহ অন্যান্য বনলতা ভবনটির বাইরের অংশকে ঢেকে রেখেছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, মসজিদটি এক গম্বুজবিশিষ্ট। দেয়াল ঘেঁষে একটি বড় মিম্বর আছে। বাইরের দৈর্ঘ্য মিম্বরসহ ১৬ ফুট এবং বাইরের প্রস্থ ১২ ফুট। মসজিদটির ভেতরের দৈর্ঘ্য সাত ফুট এবং প্রস্থ ছয় ফুট। রয়েছে একটি মেহরাব এবং দেয়ালে ছোট কয়েকটি খোপ। ভবনটি পোড়া ইট, বালু, চুন এবং সুরকি দিয়ে নির্মিত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ উল্লাহ জানান, ‘পূর্ব পুরুষদের কথা মতে এটি কয়েকশ’ বছরের পুরনো মসজিদ। তবে স্বাধীনতার পরও এখানে লোকজন নামাজ আদায় করেছেন বলে শুনেছি। এ প্রাচীন স্থাপনাটির পুরাকীর্তি অক্ষুণ রেখে সংস্কার করলে এটি ঐতিহ্য হয়ে থাকবে। সংস্কারের পর মসজিদটি দেখতে ভিড় করতে পারেন অনেক দেশি-বিদেশি পর্যটক।’

টেকনাফ বাহারছড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মৌলভী আজিজ উদ্দিন জানান, মেরিন ড্রাইভের পশ্চিমে বনলতার আড়ালে যে মসজিদের সন্ধান পাওয়া গেছে, সেটি যে ক্ষুদ্রতম প্রাচীন মসজিদ তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

তিনি আরও জানান, ব্যবস্থাপনাসহ প্রত্ননিদর্শন হিসেবে সংরক্ষণ করে পর্যটকদের সামনে তুলে ধরতে পারলে একদিন যেমন সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে পারে। অন্যদিকে স্থানীয় বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। সেই সঙ্গে ইসলামিক হেরিটেজ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্বাস।