পরিত্যক্ত ভবনে বসতি

ঢাকা, শনিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২১ | ৯ মাঘ ১৪২৭

পরিত্যক্ত ভবনে বসতি

জিল্লুর রহমান রাসেল, হাতিয়া (নোয়াখালী) ৮:৫৬ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০২, ২০২০

print
পরিত্যক্ত ভবনে বসতি

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার নলচিরা ইউনিয়নের পাঞ্চায়েত গ্রামে নলচিরা ছিদ্দিকিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবনে গত পাঁচ মাস ধরে বসবাস করে আসছে ছয়টি পরিবার। জুলাই মাসে অস্বাভাবিক জোয়ারে বেড়িবাঁধ ভেঙে ঘরবাড়ি ভেসে যাওয়ায় পরিবারগুলো শিক্ষকদের অনুমতি নিয়ে স্কুলে বসতি তৈরি করেছে।

হালিমা বেগম তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী। তার বাবা হান্নান ইটভাটার শ্রমিক। জুলাই মাসে অস্বাভাবিক জোয়ারে বেড়িবাঁধ ভেঙে অনেক এলাকা প্লাবিত হয়। সে সময় অন্য ছয়টি পরিবারের মত হালিমাদের ঘরবাড়ি ভেসে যায়। তারপর থেকে হালিমা পরিবারের সঙ্গে বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবনে বসবাস করে আসছে।

একই বিদ্যালয়ে বসবাস করা মিনারা বেগম জানান, স্বামী পরিত্যাক্তা মেয়ে সীমাসহ পরিবারের পাঁচ সদস্যকে নিয়ে তিনি একটি রুমে বসবাস করে আসছে। রুমের মধ্যে জায়গা না থাকায় মাঝে মধ্যে তার স্বামী গিয়াস উদ্দিন বিদ্যালয়ের মূল ভবনের বারান্দায় মেঝেতে ঘুমান।

বিদ্যালয়ের বারান্দায় বসে গৃহস্থলীর কাজ করছিলেন সিরাজ উদ্দিন (৭০) নামে এক বৃদ্ধ। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, পরিবারের ছয় সদস্যকে নিয়ে তিনি বসবাস করেন একটি রুমে। জায়গা না থাকায় ছেলের বউকে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন অনেক আগে।

অস্থায়ীভাবে বিদ্যালয়ে বসবাস করা এসব পরিবারের সদস্যরা জানান, সরকারিভাবে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দেওয়া কিছু চাল চাড়া তারা কোনো সুযোগ-সুবিধা পাননি। আসছে মৌসুমে নলচিরা ইউনিয়নের উত্তর পাশে নতুন বেড়িবাঁধ হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। বেড়িবাঁধ হলে বসতি স্থাপন করবে বলে আশা নিয়ে আছেন তারা।

স্থানীয় ছিদ্দিকিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবুল কাশেম জানান, জুলাই মাসে নলচিরা ইউনিয়নের পাঞ্চায়েত গ্রামের উত্তর পাশে অস্বাভাবিক জোয়ারে বেড়িবাঁধ ভেঙে অনেক এলাকা প্লাবিত হয়। এ সময় জোয়ারের স্রোতে লোকালয়ে পানি ঢুকে ছয়টি পরিবারের ঘরবাড়ি ভেসে যায়। পরে মানবিক কারণে করোনা মহামারিতে বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় পরিবারগুলোকে তাৎক্ষণিক বিদ্যালয়ে বসবাসের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে বিদ্যারয়ের মূল ভবনটি ২০১৯ সালে পরিত্যক্ত ঘোষনা করা হয়। এরপরও তারা ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করেছে।

নলচিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ন কবির বাবলু বলেন, জোয়ারের স্রোতে ভেসে যাওয়ায় ছয়টি পরিবার স্কুল ভবনে বসবাস করছে। এছাড়া আরও কিছু পরিবার রাস্তার উপরে বসবাস করছে। বর্ষা মৌসুম হওয়ায় সে সময় কিছুই করার ছিল না। আমি ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে একটি সোলার স্থাপন করে দিয়েছি।