একজন মানবিক ডিসি কামাল হোসেন

ঢাকা, সোমবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২১ | ৫ মাঘ ১৪২৭

একজন মানবিক ডিসি কামাল হোসেন

মো. নেজাম উদ্দিন, কক্সবাজার ৯:৫৫ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ০১, ২০২০

print
একজন মানবিক ডিসি কামাল হোসেন

মানুষের প্রতি তার যেমন অকৃত্রিম ভালোবাসা, পাখি ও প্রকৃতির প্রতিও তেমন। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানসহ জেলার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে তিনি নিয়েছেন নানা পদক্ষেপ। বাস্তবায়নও করেছেন একের পর এক। সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়িয়েছেন হাত। শিক্ষা খাতকে এগিয়ে নিতে জেলায় প্রতিষ্ঠা করেছেন কলেজ। প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘অরুণোদয়’ নামে বিশেষায়িত স্কুল। তিনি কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন। করোনাভাইরাসের আক্রমণ থেকে জেলার মানুষকে রক্ষা দিতে প্রথম থেকেই তৎপর ছিলেন। জেলায় লকডাউনে দরিদ্র ও নিম্নবৃত্তদের যখন নাভিশ্বাস, তখন তাদের পাশে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে করেছেন ভ্রাম্যমাণ হাসপাতালের ব্যবস্থা। মানবিক কর্মকাকাণ্ডে অন্যন্য প্রতিচ্ছবি এই ব্যক্তি কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন।

২০১৮ সালে ৪ মার্চ কক্সবাজারের দায়িত্ব নেন মো. কামাল হোসেন। জেলাবাসী জানান, তার আগমনে একে একে পাল্টে গেছে জেলার দৃশ্যপট। ক্ষমতায় গ্রহণের এক বছরের মাথায় জেলায় প্রতিষ্ঠা করেছেন ডিসি কলেজ। জেলার প্রায় ৫০০ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু এবং ২০০ পথশিশুদের শিক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠা করেছেন অরুণোদয় নামে একটি বিশেষায়িত স্কুল। 

জেলায় প্রবীণ অধিবাসী মো. হাসেম জানান, অনেক জেলা প্রশাসক এসেছেন, আবার চলেও গেছেন। কিন্তু জেলাবাসীর সব দিক দেখভালের জন্য এতটা চিন্তা কেউ আগে করেনি। তিনিসহ আরও অনেকে জানান, এই জেলা প্রশাসক করোনাকালীন সময় নিজের বা পরিবারের চিন্তা না করে ছুটে গিয়েছেন জেলার বিভিন্ন এলাকায়। যেখানে খবর পেয়েছে করোনা রোগী আছে, সেখানেই যথা সম্ভব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছেন তিনি। উপজেলা থেকে উপজেলায় মানুষকে সচেতন করতে নিজেই মাঠে নেমে পড়েন। জেলার মানুষকে সুরকক্ষা দিতে দেশে প্রথম লকডাউন ঘোষণা করেন এবং পর্যটন খাত সীমিত ঘোষণা করেন। ঘরে বসে চিকিৎসা পাওয়া কয়েকজন জানান, করোনাকালীন যখন ডাক্তার পাওয়া যাচ্ছিল না, ঘরের বাইরে বের হওয়াতে ছিল ভয়, তখন জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন ভ্রাম্যমাণ হাসপাতালের মাধ্যমে তাদের চিকিৎসা নিশ্চিত করেছেন। দরিদ্র পরিবারের কাছ থেকে জানা যায়, মহামারীর শুরুর দিকে জেলায় যখন লকডাউন চলছিল, তখন জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তারা খাদ্যসামগ্রী পেয়েছেন।

জেলার দায়িত্বগ্রহণের পর রোহিঙ্গা সমস্যার বড় চ্যালেঞ্জ সামনে এসে দাঁড়ায়। সে সব সমস্যা নিরসনে নিরালস কাজ করছেন জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়েছেন নানা পদক্ষেপ।

আইনশৃঙ্খলা ও মানুষের পাশেই শুধু নয়, তিনি প্রকৃতি ও পাখি রক্ষায় কাজ করছেন বলে জানায় জেলাবাসী। জানা যায়, নিজের বাংলোর গাছে গাছে পাখির বাসা তৈরি করে দিয়েছেন তিনি। পরিবেশবাদী সংগঠনের কাছ থেকে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর সকালে পাখির বাসা স্থাপন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি।

জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, মানুষ মানুষের জন্য। সব সময় তাদের পাশে থাকাই আমার দায়িত্ব। সে দায়িত্ব যথাযথ পালনে আমি কাজ করছি। এ কাজে পরিতৃপ্তি আছে। সেই পরিতৃপ্তি পেতেই আমার পথচলা। কক্সবাজারকে অনুকরণী জেলায় পরিণত করতে তার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান। পাখি ও পরিবেশের বিষয়ে তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষায় পাখির ভূমিকা অপরিসীম। কিন্তু নানা কারণে পাখির সংখ্যা কমে যাচ্ছে। পাখি রক্ষায় এনভায়রনমেন্ট পিপল উদ্যোগ নিয়েছে। তাদের সৃষ্টিশীল কাজে জেলা প্রশাসন সবসময় পাশে থাকবে।

জানা যায়, জেলায় বর্তমানে এক ডজনের অধিক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে সেসব প্রকল্প জমি অধিগ্রহণসহ যাবতীয় কাজ এগিয়ে চলেছে। ইতিমধ্যে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ‘জনপ্রশাসন পদক ২০১৯’ অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে চট্টগ্রাম বিভাগে শ্রেষ্ঠ হয়েছেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন।