বেপরোয়া পর্যটকে আতঙ্কিত স্থানীয়রা

ঢাকা, রবিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২১ | ১০ মাঘ ১৪২৭

বেপরোয়া পর্যটকে আতঙ্কিত স্থানীয়রা

নেজাম উদ্দিন ১২:৫২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৯, ২০২০

print
বেপরোয়া পর্যটকে আতঙ্কিত স্থানীয়রা

করোনাভাইরাস মহামারীর পর দীর্ঘ সময় ধরে স্থবির অবস্থায় ছিল কক্সবাজার পর্যটন এলাকা। এখন আর তা নেই। পর্যটননগরী কক্সবাজার ১২০ কিলোমিটার সমুদ্র, পাহাড়, সবুজ অরণ্য দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ফের আসতে শুরু করেছেন পর্যটকরা। ছুটির দিনে সমুদ্রসৈকতসহ বিনোদন কেন্দ্রে দেখা মিলছে উপচে পড়া ভিড়। মেরিন ড্রাইভ সড়ক, হিমছড়ি, দরিয়ানগর, ইনানীর পাথুরে সৈকত, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির, রামুর বৌদ্ধ বিহারসহ জেলা পর্যটন কেন্দ্রগুলোতেও একই অবস্থা। তবে পর্যটকদের মধ্যে নেই স্বাস্থ্যবিধি সচেতনতা। অন্যসব তো দূরের কথা, মাস্ক পরতেই যতো অনীহা তাদের।

ইচ্ছেমতো ঘুরে বেড়াচ্ছেন এখানে সেখানে। প্রশাসনের সব নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই চলছে পর্যটকদের ঘোরা ফেরা। এতে কোভিড-১৯ আক্রান্তের আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে উঠেছেন স্থানীয়রা। এদিকে হোটেল-মোটেল জোনেও নেই স্বাস্থ্যবিধি বলে রয়েছে অভিযোগ।

সপ্তাহে শুক্রবার, শনিবার অফিসসমূহ সরকারি বন্ধ থাকার কারণে কক্সবাজারে পর্যটক বেড়ে দাঁড়ায় কয়েক লাখ। কিন্তু এই করোনাকালীন অধিকাংশ লোকের মুখে মাস্ক নেই। মানছে না স্বাস্থ্যবিধি। গত শুক্রবার কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের কলাতলী পয়েন্ট, সুগন্ধা পয়েন্ট ও লাবণী পয়েন্টে গিয়ে দেখা গেছে প্রচুর পর্যটকের সমাগম হয়েছে। কিন্তু সমুদ্রে আসা অধিকাংশ পর্যটক মাস্ক ব্যবহার করছে না। জেলা প্রশাসন যে শর্তে পর্যটন খাত খুলে দেওয়া হয়েছিল তা মানা হচ্ছে না। এতে করোনার দ্বিতীয় ধাপে করোনা রোগী বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছে স্থানীয়রা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা এই মানুষদের যেমন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো প্রবণতা নেই।

স্থানীয় জেলা প্রশাসনের নেই কোনো কঠোর নজরদারি। জেলা প্রশাসন শর্ত সাপেক্ষে হোটেল মোটেল চালু করার অনুমতি দিলেও হোটেল কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। অধিকাংশ হোটেলে তাপমাত্রা মাপা হয় না যন্ত্র থাকার পরেও। পর্যটকদের এমন ভিড় দেখে স্থানীয়রা আতঙ্কে আছেন যেকোনো মুহূর্তে ভাইরাসের হটস্পটে পরিণত হতে পারে তাদের আবাসস্থল।

তবে হোটেল রিগ্যাল প্যালেস এর মালিক ফোরকান মাহমুদ বলছেন, প্রশাসনের সমস্ত নিয়ম মেনে আমরা হোটেল পরিচালনা করছি। আমরা নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে পর্যটকদের হোটেলে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছি।

সংবাদ কর্মী ইমাম খাইর জানান, গত শুক্রবার সমুদ্রসৈকতে গিয়ে দেখেন কয়েক লাখ পর্যটক। কিন্তু অধিকাংশ পর্যটক স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। তারা নিজেদের মতো চলাফেরা করছে। স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতা চোখে পড়েনি।

সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে আসা কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়া উদ্দিন আহমেদ জানান, অধিকাংশ পর্যটকদের মুখে মাস্ক নেই। মানছেন না প্রশাসনের নির্দেশনা। করোনার দ্বিতীয় ধাপের বিষয়ে কড়াকড়ি থাকলেও সাগর পাড়ে তার কোনো বালাই নেই। জীবনের নিরাপত্তার স্বার্থে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার উচিত মনে করেন এই আইনজীবী।

এদিকে যারা এই সময়ে ঘুরতে এসেছেন তারাও বলছে, আমরাও ভাবিনি প্রাদুর্ভাবের এই সময়ে এত মানুষের ভিড় থাকবে। আমরা মনে করেছিলাম এই সময়ে লোকসমাগম একটু কম হবে তাই ঘুরতে আসা।

আরেফিন বলেন, ঢাকা থেকে আসার সময় বাস কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মানছে তা নজরে আসেনি। লোক তুলেছে আগের মতো। কোনো স্বাস্থ্যবিধি নেই। কক্সবাজারে এসে দেখি প্রচুর মানুষের ভিড়। এত মানুষের ভিড় থাকবে চিন্তাও করিনি।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জানান, করোনার সেকেন্ডওয়েভ মোকাবিলায় তাদের ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে। আবাসিক হোটেল মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের করণীয় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপরও যারা নির্দেশনা অমান্য করবে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও জানান, মাস্ক না পরে সমুদ্র পাড়ে বেড়াতে আসা পর্যটকদের জরিমানা করেছে জেলা প্রশাসন। জরিমানার পাশাপাশি মাস্ক বিতরণ করা হচ্ছে। করোনা সতর্কতা সৃষ্টির জন্য কাজ করছে টুরিস্ট পুলিশও।

অন্য দিকে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি দুই দফা বৈঠক করে করণীয় চূড়ান্ত করেছে। জেলায় বিনামূল্যে ১০ লাখ মাস্ক বিতরণ ও উপজেলাভিত্তিক প্রচারণা করা হবে। ইতিমধ্যে এক লাখ মাস্ক বিতরণ কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন।