‘বিদ্যুৎ নয় খাবার চাই’

ঢাকা, রবিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২১ | ১১ মাঘ ১৪২৭

‘বিদ্যুৎ নয় খাবার চাই’

মীরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি ৯:০৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৪, ২০২০

print
‘বিদ্যুৎ নয় খাবার চাই’

মীরসরাইয়ে তিন ফসলি কৃষি জমি অধিগ্রহণ না করতে মানববন্ধন করেছে কৃষকরা। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের জয়পুর পূর্ব জোয়ার মৌজার প্রায় ৩৭ একর জমির মালিক, বর্গাচাষি, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়রা অংশগ্রহণ করেন। ভূমি অধিগ্রহণ প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

‘ফসলি জমি ধ্বংস করে বিদ্যুতায়ন, অশুভ চক্রান্ত রুখে দাঁড়াও জনগণ’; ‘বিদ্যুৎ নয় খাবার চাই, ফসলি জমির বিকল্প নাই’, ‘বাপ-দাদার তিন ফসলি জমি লুটে নিতে চায় কোন হারামি’- সহ বিভিন্ন বক্তব্য ব্যানার, ফেস্টুনে তুলে ধরে ফসলি জমিতে মানববন্ধন করে।

মীরসরাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুবল চাকমা বলেন, জমি অধিগ্রহণ করছেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা। বিষয়টি আমরা অবগত নই। তবে মানববন্ধনের বিষয়টি জমির মালিকরা আমাকে জানিয়েছেন। জানা গেছে, উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের জয়পুর পূর্ব জোয়ার মৌজায় ১নং সীটে তিন ফসলি কৃষি জমিতে বিদ্যুতের সাব স্টেশন স্থাপন করার জন্য অধিগ্রহণের নোটিস জারি করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ বিভাগ। জমি অধিগ্রহণ না করার জন্য শুরু থেকে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে স্থানীয় কৃষক ও জমির মালিকরা।

ভূমি অধিগ্রহণ প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে ভূমি অধিগ্রহণ না করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মীরসরাইয়ের সংসদ সদস্য, কৃষি মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, পানি উন্নয়ন বোর্ড সহ বিভিন্ন সরকারি দফতরে আবেদন করা হয়েছে। মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগ নেতা স্বপন চৌধুরী, করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন, করেরহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান গিয়াস উদ্দিন জসিম, সাধারণ সম্পাদক শেখ সেলিম, ইউপি সদস্য শহিদুল্লাহ, ভূমি অধিগ্রহণ প্রতিরোধ কমিটির শোয়াইব মেম্বার, আক্তার হোসেন, আরবের রহমান, তাইফ উদ্দিন, সো. সরোয়ার, আবদুল্লাহ আল মামুন। 

ভূমি অধিগ্রহণ প্রতিরোধ কমিটির দায়িত্বশীল মো. শোয়াইব মেম্বার বলেন, ‘জয়পুর পূর্ব জোয়ার মৌজার ১ নং সীটের ৩ ফসলি জমিতে বৈদ্যুতিক সাব স্টেশন স্থাপন করার জন্য ভূমি অধিগ্রহণ করার জন্য নোটিস জারি করা হয়েছে। অথচ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন কৃষি জমি নষ্ট করে কোনো স্থাপনা করা যাবে না। কৃষি জমি রক্ষা করে উন্নয়ন কাজ করতে হবে। এখন বিদ্যুৎ বিভাগ করেরহাটে তিন ফসলি জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। আমরা জীবন থাকতে ভূমি দেব না।’

তিনি আরও বলেন, ‘করেরহাট ইউনিয়নের ছত্তরুয়া ও গেড়ামারা মৌজায় অনাবাদি জমি, ১নং খাস খতিয়ানভুক্ত জমি ও ফরেষ্ট রিজার্ভ ভূমি রয়েছে। সেখানে বিদ্যুতের সাব স্টেশন করলে কৃষি জমি রক্ষা পাবে পাশাপাশি আমরাও সরকারকে সহায়তা করব।’

কৃষক আমিনুর রহমান বলেন, আমাদের তিনপাশে ফেনী নদী হওয়ায় শুধুমাত্র এই জমিগুলো উর্বর। এই মাঠে রবি, শস্য সহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন হয়ে থাকে। এই জমি অধিগ্রহণ করলে আমাদের পরিবার পরিজন নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে।