আবদুল মালেক উকিলের ৩৩তম মৃত্যুবার্ষিকী কাল

ঢাকা, শনিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২০ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

আবদুল মালেক উকিলের ৩৩তম মৃত্যুবার্ষিকী কাল

নোয়াখালী প্রতিনিধি ৬:১১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০২০

print
আবদুল মালেক উকিলের ৩৩তম মৃত্যুবার্ষিকী কাল

আগামীকাল শনিবার (১৭ অক্টোবর) মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সাবেক বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সাবেক স্পীকার আবদুল মালেক উকিলের ৩৩তম মৃত্যুবার্ষিকী।

তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

জননেতা আবদুল মালেক উকিল ছাত্র জীবনেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি ছিলেন ইস্ট বেঙ্গল মুসলিম ছাত্র লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন।

আবদুল মালেক উকিল তার রাজনৈতিক জীবনে বহুবার কারাবাসের সম্মুখীন হয়েছিলেন। ভাষা আন্দোলনের সময় ১১ মার্চ ১৯৪৮ সালে তাকে প্রথম গ্রেফতার করা হয় এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে তাকেও ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়। পরবর্তীতে ২২ ফেব্রুয়ারী ১৯৫২ এবং ১৯৫৪ সালের জুন মাসে ইস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অধ্যাদেশ অধীনে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

তিনি ১৯৫৩ সালে নোয়াখালী সদর মহকুমা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৬২-৬৪ সময়কালে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে ছিলেন এবং ১৯৭২ সালে সেখান থেকে পদত্যাগ করেন।

আবদুল মালেক উকিল ১৯৫৬, ১৯৬২ এবং ১৯৬৫ সালে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৬৫ সালে তিনি আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের নেতা এবং সংযুক্ত প্রাদেশিক পরিষদ ও বিরোধী দলের নেতা ছিলেন। ছয় দফা আন্দোলন সময় মালেক উকিলকে গ্রেফতার করা হয় এবং তাকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছিল।

১৯৬৯ সালে তিনি আওয়ামী লীগের সংসদীয় কমিটির নয়টি সদস্যদের একজন হিসাবে নির্বাচিত হন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে লাহোরে অনুষ্ঠিত গোল টেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৭০ সালে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ নোয়াখালী থেকে সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হন। ১৯৭২ সালে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী ছিলেন। ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি তৎকালীন নোয়াখালী-১২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং নতুন মন্ত্রিসভায় তাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। ১৯৭৫ সালে তিনি জাতীয় সংসদের স্পীকার নির্বাচিত হন। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর দলের দুঃসময়ে ১৯৭৮ সাল থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত আবদুল মালেক উকিল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

নোয়াখালী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মরহুমের ভাতুস্পুত্র এডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহীন বলেন, জননেতা আবদুল মালেক উকিলের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ এবং কালো পতাকা উত্তোলন, সকাল ৯টায় জেলা মডেল মসজিদ প্রাঙ্গণে মরহুমের করব জিয়ারত, দোয়া ও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন করা হয়েছে। বিকেলে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়াও বাধেরহাট আবদুল মালেক উকিল ডিগ্রি কলেজ, মোহামেডান স্পোটিং ক্লাবে আলোচনা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন রয়েছে।

আব্দুল মালেক উকিল ১৯২৪ সালের ১ অক্টোবর নোয়াখালী জেলার সুধারামের রাজাপুর গ্রামে জনগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৮৭ সালের ১৭ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।