কচ্ছপ গতিতে চট্টগ্রাম কক্সবাজার রেলপ্রকল্প

ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০ | ৭ কার্তিক ১৪২৭

কচ্ছপ গতিতে চট্টগ্রাম কক্সবাজার রেলপ্রকল্প

মো. নেজাম উদ্দিন, কক্সবাজার ১২:১০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০

print
কচ্ছপ গতিতে চট্টগ্রাম কক্সবাজার রেলপ্রকল্প

ধীর গতিতে চলছে চট্টগ্রামের দোহাজারী টু কক্সবাজারের ঘুমধুম রেলপথ তৈরির মেগা প্রকল্পের কাজ। দুই বছরে শেষ হয়েছে মাত্র ৪১ শতাংশ। অথচ হাতে সময় আছে মাত্র আড়াই বছর। বাকি কাজ কবে শেষ হবে তা নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা। এদিকে করোনা ও বর্ষার কারণে ধীরে চলা এই কাজে তৈরি হয়েছে আরও মন্থর অবস্থা। তবে প্রকল্প সূত্র বলছে, কক্সবাজার অংশে স্বাভাবিক গতিতে কাজ করা গেলেও পদে পদে বাধা আসছে চট্টগ্রাম অংশে। অধিগ্রহণের জমি প্রকল্পে বুঝিয়ে দেওয়া হলেও কাজ করতে গেলে সম্মুখীন হচ্ছে বাধার। ভূমি অধিগ্রহণের টাকা পাননি বলে রয়েছে স্থানীয়দের অভিযোগ। বিশেষ করে লোহাগাড়া-সাতকানিয়া এবং চন্দনাইশ এলাকায় এ সমস্যা প্রকট। অথচ রেলপথটি দ্রুত চালু হলে পর্যটনখাতে বাড়বে ব্যবসা, আরও উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাবে কক্সবাজার, জীবন-জীবিকার মান উন্নত হবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

প্রকল্পসূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের শেষের দিকে ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ১২৮ কিলোমিটার রেললাইন প্রকল্পের শুরু হয়। যে রেলপথের বিস্তৃতি চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের ঘুমধুম পর্যন্ত। এডিবির ফান্ডে এই রেলপথ চালু হলে ট্রেন চলবে ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার বেগে। দোহাজারী থেকে কক্সবাজার যেতে সময় লাগবে ১ ঘণ্টা ২০মিনিট। থামবে ৯টি স্টেশনÑ সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চকরিয়া, ডুলাহাজারা, ঈদগাঁও, রামু, কক্সবাজার সদর, উখিয়া ও ঘুমধুমে। জানা যায়, এই প্রকল্পের যে ৪১ শতাংশ কাজ শেষ তার বেশিরভাগই হয়েছে কক্সবাজার অংশে। অন্যদিকে প্রকল্পের প্রথম ধাপে দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার রেলপথের জমি বুঝে পেলেও ১ কিলোমিটার এলাকার ঘর-বাড়ি বড় ধরনের সংকটে ফেলে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক মো. মফিজুর রহমান। তার ওপর রয়েছে মাটির সংকটও।

মফিজুর রহমান জানান, এই প্রকল্পের পুরোটা বিদেশি ফান্ডিং। প্রকল্প কাজের টিম লিডার হচ্ছেন ব্রিটিশ নাগরিক। করোনায় লকডাউন শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই সব ব্রিটিশ নাগরিক দেশে ফিরে গেছেন। লকডাউনের কারণে পুরো এপ্রিল মাস কাজ বন্ধ ছিল। মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে কাজ শুরু হয়েছে। তিনি আরও জানান, জুলাই-আগস্ট মাসে বৃষ্টির কারণে বাইরে কাজ করা যায় না। কোনো প্রকল্পে জুলাই-আগস্ট মাস কাজ হয় না। ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ আছে। করোনা পরিস্থিতি যদি আর না বাড়ে, তাহলে মেয়াদের মধ্যেই কাজ শেষ করতে পারবেন। মাটি সংকটের বিষয়ে তিনি জানান, প্রকল্পের কক্সবাজারের অংশে মাতামুহুরি নদীসহ বিভিন্ন নদী থেকে মাটি উত্তোলন করা গেলেও মাটির বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে চট্টগ্রাম অংশে। ফসলি জমি থেকে মাটি না কাটার আইন বহাল আছে। ফলে চট্টগ্রাম অংশে মাটিরও সমস্যা হচ্ছে। আমরা বিকল্প ব্যবস্থার কথা চিন্তা করছি।