নো ম্যান্স ল্যান্ডে বেড়েছে রোহিঙ্গাদের দৌরাত্ম্য

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০ | ৭ কার্তিক ১৪২৭

নো ম্যান্স ল্যান্ডে বেড়েছে রোহিঙ্গাদের দৌরাত্ম্য

কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২০

print
নো ম্যান্স ল্যান্ডে বেড়েছে রোহিঙ্গাদের দৌরাত্ম্য

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু সীমান্তের নো ম্যান্স ল্যান্ডে দিন দিন বাড়ছে রোহিঙ্গাদের দৌরাত্ম্য। স্থানীয়দের সঙ্গে মিশে চালানো হচ্ছে স্থায়ী হওয়ার চেষ্টা। আবার অন্তরঙ্গতা বাড়িয়ে টানা হচ্ছে মাদকের পথে। বিভিন্ন কৌশলে মিয়ানমার থেকে আনা হচ্ছে ওইসব মাদক। আর সেই মাদকেই ধ্বংস করা হচ্ছে যুবসমাজকে।

তুমব্রু সীমান্তে বসবাসকারী ৬৩৩ পরিবারের প্রায় চার হাজার রোহিঙ্গার এমন কর্মকা-ে স্থানীয়রা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে বলে রয়েছে অভিযোগ। এলাকা নিরাপদ রাখতে রোহিঙ্গাদের সরিয়ে নেওয়ার দাবি জনপ্রতিনিধির। 

জানা গেছে, দেশি-বিদেশি নানা এনজিওর সাহায্য-সহযোগিতা পেয়ে বেশ বহাল তবিয়তেই আছে তুমব্রু কোণারপাড়া, বাইশফাািড় এলাকার রোহিঙ্গারা। নো ম্যান্স ল্যান্ডে জাঁকিয়ে বসেছে তারা। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা কোণারপাড়া, বাইশফাঁড়ি এলাকার পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে গিয়েছে। সেখানে আগের মতো তাদের কোনো ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে না। তবে স্থানীয়দের রয়েছে ব্যাপক অভিযোগ।

ওই উপজেলার ঘুমধুমের বাসিন্দা সিরাজুল হক জানান, তুমব্রু সীমান্তে আশ্রিুত রোহিঙ্গারা বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছে। তাদের অনেকেই মিয়ানমার থেকে ইয়াবা এনে বাংলাদেশে পাচার করছে। এ ছাড়া চোরাকারবারি, মারামারিসহ নানান অপরাধেও তারা লিপ্ত হচ্ছে।

স্থানীয়রা আরও জানান, আশ্রিত রোহিঙ্গারা এখনো বিভিন্ন কৌশলে স্থানীয়দের সঙ্গে মিশে স্থায়ী হওয়ার চেষ্টা করছে। হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে জাতীয় পরিচয়পত্র। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ম্যানেজ করে এলাকায় প্রভাবও বিস্তারের চেষ্টাও করছে তারা।

রোহিঙ্গাদের অপরাধে জড়ানোর বিষয়টি স্বীকার করে ঘুমধুম ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, ‘তারা এতটাই উগ্র যে, কেউ তাদের সঙ্গে ভালো করে কথাও বলতে পারে না।’ তাদের এখান থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

নাইক্ষ্যংছড়ির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া আফরিন কচি বলেন, প্রশাসন তাদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে এবং তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে প্রশাসনের সজাগ দৃষ্টি রয়েছে। কক্সবাজার ৩৪ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আলী হায়দার আজাদ আহমেদ জানান, নতুন করে অনুপ্রবেশ রোধে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে বিজিবি টহলসহ অন্যান্য কার্যক্রম জোরদার করেছে। রোহিঙ্গাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়েও বিজিব সজাগ আছে।