যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ

ঢাকা, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০ | ১০ কার্তিক ১৪২৭

যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ

ফেনী প্রতিনিধি ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০

print
যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ

ফেনী সদর উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি, ধর্মপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিএনপি সংশ্লিষ্টতাসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন নজরুল। পরে তিনি কৌশলে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। তার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ভাঙচুরের অভিযোগও রয়েছে। এ বিষয়ে খোঁজ নেওয়ার কথা জানিয়েছে জেলা যুবলীগ নেতৃত্ব। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম।

২০০২ সালে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকাকালীন মঠবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষ থেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুর করার অভিযোগও রয়েছে।

এ বিষয়ে তৎকালীন মঠবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক প্রত্যক্ষদর্শী নুরুননবী বলেন, নজরুল ও তার বন্ধুরা অফিসকক্ষে এসে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুর করেন।

এছাড়া অর্থের বিনিময়ে ইউনিয়ন যুবলীগের পদ কিনেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে সাবেক ফেনী জেলা ছাত্রলীগ ও সাবেক ফেনী জেলা যুবলীগের সভাপতি এম আজহারুল হক আরজু বলেন, ফেনীর রাজনীতিতে ইউনিয়ন, থানা, জেলার পদগুলো কেনাবেচা হয়। নজরুলও এভাবে পদ বাগিয়েছেন।

ধর্মপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি ও বর্তমান চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন শাকা বলেন, ২০০১-২০১০ সাল পর্যন্ত নজরুল বিএনপির রাজনীতি করেছেন। উপজেলা নির্বাচনের পর থেকে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন।

এদিকে নজরুল নিজের তিন ভাই দ্বীন মোহাম্মদ, মামুনুল ইসলাম ও মীর মোহাম্মদকে প্রায় ১২ বছর যাবত গ্রামে প্রবেশ করতে দেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।

তার ভাই মামুনুল ইসলাম বলেন, তিন দলিলের মাধ্যমে নজরুল প্রায় ৫৭ শতাংশ সম্পত্তি আত্মসাৎ করেছেন। প্রতিবাদ করতে গেলে সে আমাদের হুমকি দিচ্ছে।

তার বিরুদ্ধে ফেনী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে তথ্য গোপন করে ২টি ভেন্ডার লাইসেন্স করার অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া নজরুলের বিরুদ্ধে ফেনী জেলা শাখা হিউম্যান রাইটস রিভিউ সোসাইটির কাছে শিশুপাচারের অভিযোগ করেছেন তারই আরেক ভাই মামুনুল ইসলাম।

এ বিষয়ে ধর্মপুর ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস বলেন, নজরুল বিএনপি ক্যাডার ছিলেন। আড়াই বছর তার কারণে আমরা আত্মগোপনে ছিলাম। তিনি খুব কৌশলী টাকা দিয়ে ম্যানেজ করেন সবাইকে।

এ বিষয়ে ফেনী জেলা যুবলীগের সভাপতি মো. দিদারুল কবীর (রতন) বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি অবশ্যই তার বিষয়ে খবর নেব। অনুপ্রবেশকারীরাই দলের জন্য ভয়ঙ্কর ক্ষতিকর। দুর্দিনে এরাই আওয়ামী লীগের বড় শত্রু হয়ে দাঁড়াবে।

বঙ্গবন্ধু এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুর করার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম বলেন, আমার বিরুদ্ধে এসব রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। আমার ভাইয়েরাও তার সঙ্গে যোগ হয়েছে।