রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্ল্যাবে রডের বদলে কঞ্চি

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০ | ১২ কার্তিক ১৪২৭

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্ল্যাবে রডের বদলে কঞ্চি

কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া ১২:২১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২০

print
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্ল্যাবে রডের বদলে কঞ্চি

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সাইট মেনটেইন্যান্স প্রকৌশল প্রজেক্টের (এসএমইপি) স্ল্যাব তৈরির কাজে রডের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে বাঁশের কঞ্চি। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও খাল খননের নামে পুকুরচুরির অভিযোগ রয়েছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের নামে-বেনামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে নিজেদের কাজ বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হচ্ছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মানবিক সেবার নামে লুটপাট চলছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ করছে এসএমইপি। বিশ্ব ব্যাংক এবং এডিবির অর্থায়নে খাল খননের কাজটি করে এসএমইপি এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর। যদিও এনজিওগুলো নিজেরা নিজেদের মতো কাজ করছে এমনটি জানিয়েছে উখিয়ার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সাইট মেনটেইন্যান্স প্রকৌশল প্রজেক্টের (এসএমইপি) নামে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডাবিউএফপি), আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এবং ইউএইচসিআর যৌথ ব্যবস্থাপনায় রাস্তা নির্মাণ, সাইট রক্ষণাবেক্ষণ, সংস্কার, নিষ্কাশন চ্যানেল পরিষ্কার, পুনর্বাসন অ্যাক্সেস, নিত্যপণ্য সরবরাহ করে থাকে।

উখিয়া প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, আইওএমসহ আইএনজিওগুলো ঠিকাদারদের কাছ থেকে দরপত্র নিলেও রোহিঙ্গা শ্রমিক দিয়ে নিজেরাই কাজ করছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর স্ল্যাব তৈরির কাজে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহারের বিষয়টি নিন্দনীয়।

উখিয়া অনলাইন প্রেস ক্লাবের সভাপতি শফিক আজাদ বলেন, কয়েকদিন পূর্বে উখিয়ার মধুরছড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ২০ এক্সটেনশনে বেশ কিছু বাঁশের কঞ্চি দিয়ে তৈরি ভাঙা স্ল্যাব দেখা যায়। একইভাবে খাল খননের পর ব্লক বসানোর নামেও হয়েছে ব্যাপক অনিয়ম। কেননা, উপরের রডের বদলে কঞ্চি!

অংশে সামান্য সিমেন্টের প্রলেপ দেওয়া হয়েছে। যা কাজ শেষ হতে না হতেই ভেঙে যেতে শুরু করেছে।

এসএমইপির প্রকল্পের প্রকৌশলী হাসান তারেক অফিসের বরাত দিয়ে বলেন, শুরুর দিকে পরীক্ষামূলক বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ৫শ স্ল্যাব রোহিঙ্গা ক্যাম্পে খাল খননের কাজে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে হাসান তারেক বলেন, ইউএনএইচসিআর, ডব্লিউএফপি এবং আইওএম তিনটি সংস্থার অর্থায়নে যৌথ সমন্বয়ে এসএমইপি প্রকল্প বাস্তবায়ন করে থাকে। খাল খননের বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই। এটা বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) কাজ।

তিনি বলেন, এসএমইপি মূলত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গাড়ি চলাচল উপযোগী সড়ক তৈরি, প্রয়োজনীয় উপকরণ সাপ্লাই, প্রাথমিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সাইট প্রস্তুতির কাজ করে থাকে। তৎমধ্যে ডব্লিএফপি ব্যয়বহুল মেগা রোড, ব্রিজ, কালভার্টের কাজ করে। হাসপাতাল, সড়কের ছোট-খাট অতি গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সংস্কার করে থাকে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। এ ছাড়াও বিশ্বব্যাংক এবং এডিবির অর্থায়নে ইউএইচসিআর এবং এলজিইডি যৌথভাবে ক্যাম্পে বেশকিছু উন্নয়নমূলক কাজ করে।

তিনি আরও বলেন, এসএমইপি কোনো ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ করে না। রোহিঙ্গা শ্রমিকদের দিয়ে নিজেরা কাজ করে এবং নিজেরাই মনিটরিং করে। এ পর্যন্ত এসএমইপি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কত টাকার উন্নয়ন কাজ করেছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০১৮ সাল থেকে এসএমইপি কাজ করছে। এর সঠিক তথ্য তিনি জানাতে পারেননি।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প ব্যতীত স্থানীয়দের জনগোষ্ঠীর কল্যাণে কাজ করে কিনা জানতে চাইলে হাসান বলেন, শুধু রাজাপালং ইউনিয়নের ফলিয়াপাড়ায় একটি ব্রিজ ছাড়া অন্য কোথাও এ পর্যন্ত কোনো কাজ করা হয়নি।

স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা জহিরুল ইসলাম সোনালি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে খাল খননের কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। যার কারণে নির্মাণ কাজ শেষ হতে না হতেই ভাঙন দেখা দিয়েছে।

জানতে চাইলে এলজিইডি উখিয়ার সহকারী প্রকৌশলী সোহরাব আলী বলেন, তিনি এসব দেখাশোনা করেন না। দায়িত্ব ভাগ রয়েছে। এ বিষয়ে তিনি উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলতে বলেন। স্ল্যাপ তৈরির কাজে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহারের বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদফতরের উখিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম বলেন, এসএমইপি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সব কাজ নিজেরাই করে। এলইজিডি শুধু খাল খননের কাজ করে থাকে। যা ইতিমধ্যে ৫০ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে খাল খননের পুরো কাজ এখনো সম্পন্ন হয়নি। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক এবং এডিবির অর্থায়নে খাল খননের কাজগুলো এলজিইডি যথাযথ প্রক্রিয়ায় ঠিকাদারের মাধ্যমে করে আসছে।