নয়নাভিরাম সি-বিচ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৯ আশ্বিন ১৪২৭

নয়নাভিরাম সি-বিচ

ইকবাল হোসেন জীবন, (মীরসরাই) চট্টগ্রাম ১০:১১ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০

print
নয়নাভিরাম সি-বিচ

একদিকে পাহাড় অন্যদিকে সাগর। সারি সারি নারিকেল-খেজুর গাছে সজ্জিত আঁকাবাঁকা পথের পরিপাটি এলাকা। পা রাখতেই শোনা যায় পাখির কলকাকলি আর ঝরনার রিনিঝিনি শব্দ। কিছুদূর পর পর সাগরের সঙ্গে মিশে যাওয়া ছোট ছোট খালের অবিরাম বয়ে চলা দৃষ্টি কাড়ে। গ্রামীণ এই জনপদের পশ্চিমে সাগরের কোল জুড়ে রয়েছে ম্যানগ্রোভ বন। নয়নাভিরাম সৌন্দর্য উপভোগের জন্য প্রতিদিন ভ্রমণপিপাসুরা ছুটে আসেন এখানে। হ্যাঁ, সম্প্রতি জেগে ওঠা একটি চরের কথা বলছিলাম। চরটি ইতোমধ্যেই পরিচিতি লাভ করেছে ‘মীরসরাই সি-বিচ’ নামে। চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ের উপজেলা থেকে একটু এগিয়ে শাহেরখালী ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ এলাকায় যার অবস্থান।

মীরসরাই সি-বিচের পাশ ঘেঁষে গড়ে উঠছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিল্পনগর। শাহেরখালী বেড়িবাঁধের সুইসগেইট এলাকা থেকে ৩/৪ কিলোমিটার পশ্চিমে সাগরের মোহনায় নির্মাণ করা হয়েছে আরো একটি সুইসগেইট। যা নিয়ন্ত্রণ করবে উপকূলের পানি। চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ। নির্মাণ করা হয়েছে বেড়িবাঁধ। মূলত বেড়িবাঁধের পূর্বাংশে গড়ে উঠছে শিল্পকারখানা। এর পশ্চিম অংশে জেগে উঠেছে বিশাল চর। এই চরকে দেখতে পতেঙ্গা সি-বিচের মতো হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে এটি মীরসরাই সি-বিচ নামে পরিচিতি পেয়েছে। 

স্থানটির অদূরেই বঙ্গোপসাগর। সাগরের গর্জন আরও একটি মাত্রা জুড়ে দিয়েছে যেন। খেজুর, নারিকেল আর ঝাউ গাছের সারির পাশাপাশি চরজুড়ে কেওড়া গাছের সমারোহ। পূর্বদিকে বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠ। সুইচগেইট ঘেঁষে জেলে কর্মব্যস্ততাও সঙ্গ দেয় মীরসরাই সি-বিচ দেখতে আসা মানুষদের। বিচের ওপরে খেলা করে নানা প্রজাতির কাঁকড়া। পানির কাছাকাছি গেলেই মাছেরাও যেন সঙ্গী হয়ে ওঠে দর্শনার্থীদের। এর কাছাকাছি সবুজ বনায়নে কখনো কখনো হরিণের ছুটে চলাও ধরা পড়ে চোখে।

শীতের মৌসুমে স্থানটি আরও মনোরম হয়ে ওঠে। খেজুরের মিষ্টি রস আর মহিষের দুধের চা লোভ ধরিয়ে দেয়। তাই স্থানীয়রা প্রতি বিকেলেই চলে আসেন পাড়ে। দূর-দূরান্ত থেকেও ছুটে আসেন শত শত পর্যটক।

ঘুরতে আসা এমনই দুই বন্ধুর সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। গোলাম কাউসার ও আলী রিয়াদ বলেন, মীরসরাইয়ে এত সুন্দর সি-বিচ রয়েছে তা ভাবতেই ভালো লাগছে। কোলাহলমুক্ত পরিবেশ, পাখির কলকাকলি, বাতাস, লাল কাঁকড়া, বনের ভেতর হরিণের আনাগোনা আর নৌকাভ্রমণ সত্যি অসাধারণ। বেশ নিরাপদ। তাই ফ্যামিলি নিয়ে ঘুরতে আসাও মন্দ হবে না।

তারা আরো বলেন, যাতায়াত ব্যবস্থা আরো উন্নত হলে ভালো হতো। তাদের দাবি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা যদি সুনজর দেয় যাতায়াতের ব্যবস্থা আরো উন্নত হবে এবং স্থানীয়সহ পর্যটকদের সুবিধা বাড়বে।

কিভাবে যাবেন:
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বড়তাকিয়া থেকে সিএনজি যোগে আবুতোরাব, সেখান থেকে হেঁটে অথবা আনন্দরহাট পর্যন্ত সিএনজিতে যেতে হবে। তারপর কিছুদূর হেঁটে মায়ানী-শাহেরখালী সাঁকো পার হয়ে ১ কিলোমিটারের হাঁটাপথ। এরপরই পেয়ে যাবেন শাহেরখালী বেড়িবাঁধ। বিকল্পপন্থায় আবুতোরাব, আনন্দরহাট, নিজামপুর ও ভোরের বাজার থেকে সিএনজি ভাড়া যাওয়া যাবে মীরসরাই সি-বিচ খ্যাত শাহেরখালী বেড়িবাঁধে।