চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যকর মামলায় গতি ধীর

ঢাকা, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০ | ৫ কার্তিক ১৪২৭

চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যকর মামলায় গতি ধীর

আরিচ মাহমুদ ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২০

print
চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যকর মামলায় গতি ধীর

করোনা ঝুঁকির মধ্যেও দীর্ঘদিন পর চট্টগ্রামে আবারও সরব হয়ে উঠেছে আদালতপাড়া। পাঁচ মাসে শুধু জামিন শুনানি হলেও বর্তমানে অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ, বিভিন্ন মামলার যুক্তিতর্ক ও শুনানি চলছে। চট্টগ্রামের ৭৪টি আদালতে ২ লাখ ১৮ হাজার ২০০ মামলা বিচারাধীন থাকলেও বহুল আলোচিত মামলাগুলোর কোনো অগ্রগতি নেই। তবে নতুন ঘটনা যোগ হওয়ার পর পুরনো মামলাগুলো চলে যাচ্ছে আলোচনার বাইরে। মামলা থেকে বের হয়ে যাচ্ছেন আসামিরা।

সাত বছর আগে ২০১৩ সালের ১১ এপ্রিল ফটিকছড়িতে আওয়ামী লীগের হরতালবিরোধী শান্তি মিছিলে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। হামলাকারীদের তাণ্ডবে তখন প্রাণ হারান বক্তপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ফারুক ইকবাল বিপুল, যুবলীগ নেতা ফোরকান ও ছাত্রলীগের কর্মী মো. রুবেল। ঘটনার সময় স্থানীয় ভুজপুর মসজিদ ও মাদরাসার মাইক ব্যবহার করে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা মসজিদে হামলা করেছে- এমন গুজব ছড়িয়ে স্থানীয় মানুষকে ক্ষেপিয়ে দিয়ে তাণ্ডব চালায়।

এ ঘটনায় প্রায় তিনশো আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মী আহত হন। এর মধ্যে অনেকেই পঙ্গু হয়ে যান। পুড়িয়ে দেওয়া হয় মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন যানবাহন। ঘটনার সময় গুরুতর আহত আওয়ামী লীগ নেতা ধুরং ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাফর আহমদ চৌধুরী জানান, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা এটিএম পেয়ারুর ইসলামের নেতৃত্বে কয়েক হাজার কর্মী মিছিল নিয়ে ভুজপুর পৌঁছার পরই অতর্কিতে হামলা করা হয়। ঘটনাস্থলে তিনজন মারা যান।

হত্যা মামলার বাদী জিয়াউল হক জিয়া জানান, মামলার ৭ বছর হলেও মূল আসামিরা মামলা থেকে বাদ গেছে।

ফটিকছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের উপ প্রচার সম্পাদক বোরহান আহমদ জানান, জামায়াত-শিবির বর্বর হত্যাকা- ঘটিয়েছে। মামলার আসামিরা বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। মূল পরিকল্পনাকারীরা মামলা থেকে বাদ পড়েছেন। আলোচিত এ মামলার অচলাবস্থা হলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার। ঘটনার সঙ্গে জড়িত, পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতাদের অবিলম্বে সংযুক্ত করে মামলার দ্রুত রায় কার্যকর হলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হবে।

ঘটনার সময় নিহত স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ফারুক ইকবাল বিপুলের স্ত্রী সানজিদা ইসলাম নিশু বলেন, মামলার তদন্তে উপজেলা আওয়ামী লীগের দুই নেতার হস্তক্ষেপে ও পুলিশের তদন্তে দুর্বলতার কারণে প্রকৃত আসামি ও পরিকল্পনাকারীদের মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এএইচএম জিয়া উদ্দীন বলেন, অভিযোগপত্রে মূল আসামিদের বাদ দেওয়া হয়েছে। বাদী নারাজি দিয়েছেন। ঘটনা তদন্ত আবার হলে প্রকৃত আসামিরা যুক্ত হতে পারেন। মামলার তদন্ত হয়েছে, কিছু আসামির নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। মামলার তদন্তে ত্রুটির কারণে চিহ্নিত আসামিরা মামলা থেকে বের হয়ে আসছে।

সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, ২০১৩ সালের ১১ এপ্রিল ভুজপুর তাণ্ডবের কয়েক দিন পর সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. নাসিম ভাইকে নিয়ে আমি প্রতিবাদ সমাবেশ করি ভুজপুরে। যারা ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত তারাই তো আসামি। এখন আইনি লড়াইয়ে কীভাবে আসামিরা ছাড়া পেল আমার জানা নেই।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দিয়াজ ইরফান হত্যা, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সোহেল হত্যা মামলার শুনানিও আটকে আছে দীর্ঘদিন ধরে। এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরে কোকেন আমদানি ও আটকের দুটি মামলা ও তদন্তের কাজ থেমে আছে দীর্ঘ সময় ধরে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, চাঞ্চল্যকর মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচারকাজ দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে।