চট্টগ্রামে বিমান যাত্রীদের চরম ভোগান্তি

ঢাকা, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৪ আশ্বিন ১৪২৭

চট্টগ্রামে বিমান যাত্রীদের চরম ভোগান্তি

চট্টগ্রাম ব্যুরো ৭:০৫ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৪, ২০২০

print
চট্টগ্রামে বিমান যাত্রীদের চরম ভোগান্তি

ছুটি কাটাতে দেশে এসে করোনা পরিস্থিতির কারণে আটকে গেছে শত শত প্রবাসী কর্মজীবী। ইতোমধ্যে কিছু প্রবাসীর কর্মস্থলে ফেরার সুযোগ হলেও তারা বিপাকে পড়েছেন ফিরতি টিকেট সংগ্রহ করতে গিয়ে। টিকেট নিতে এসে ষোলশহর এলাকায় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে তাদের। এদিকে ফ্লাইট স্বল্পতা কাটাতে পারলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ বিমান কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রামের ষোলশহরে বাংলাদেশ বিমান অফিসের সামনে ভিড় করছে শত শত প্রবাসী যাত্রী। এখানে যারা আছেন তারা সবাই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত। ছুটিতে দেশে এসে করোনা পরিস্থিতির কারণে বিমান চলাচল সীমিত হয়ে যাওয়ায় ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে পারছিলেন না তারা। অতি সম্প্রতি দুবাই ফ্লাইট চালু হওয়ায় ফিরতি টিকেট ওকে করাতে এসে বিপাকে পড়ে যান এই প্রবাসীরা। সময় মতো গিয়ে কাজে যোগ দিতে না পারলে চাকরি হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন অনেকে।

মো. পারভেজ আকতার নামে এক দুবাই প্রবাসী জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতে পৌঁছানো ও ভিসার সময় আছে চার দিন। বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়েছি এখন (দুপুর ১২টা) পর্যন্ত জমা দিতে পারিনি। সামনে দীর্ঘ লাইন। গতকালও লাইনে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত টিকেট নিতে না পেরে চলে যেতে হয়েছে।

সুমন নামে নোয়াখালী থেকে আসা এক প্রবাসী জানান, রির্টান টিকেট নিয়ে আবুধাবী থেকে দেশে এসেছি। করোনাকালে দেশে আটকা পড়েছি। এখন যাওয়ার জন্য টিকেটের জন্য এসে টিকেট পাচ্ছি না। সময় আছে ৫/৬ দিন। এর মধ্যে যেতে না পারলে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে বিমানের জেলা ব্যবস্থাপক মীর আক্তারুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেছেন, আবুধাবীতে অন্য কোনো উড়োজাহাজ এখনো চালু হয়নি। বিমান সপ্তাহে চারদিন আবুধাবী যাচ্ছে। আসন সংখ্যা সীমিত। এ কারণে সংকটে পড়েছে প্রবাসীরা। আবার চট্টগ্রাম থেকে এখনো ফ্লাইট চালু হয়নি। যা ফ্লাইট যাচ্ছে তাতে শারীরিক দূরত্ব রক্ষা করতে গিয়ে পূর্ণ ক্যাপাসিটিতে যাত্রী বহন সম্ভব নয়। তাছাড়া দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকায় একসাথে অনেক যাত্রীর চাপ বেড়ে গেছে। এ অবস্থায় ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানোর বিকল্প নেই।

ট্রাভেল এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রামের সভাপতি আবু জাফর জানান, করোনার সময় আটকে পড়া মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসীরা সংকটে পড়েছে বেশি। সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসীদের জন্য দেশে ৯টি ল্যাব অনুমতি দেওয়া হলেও একটিও চট্টগ্রামে নেই। আবার ওমান প্রবাসীদের জন্য একটি ল্যাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এটি ঢাকার ধানমন্ডিতে অবস্থিত।

জনশক্তি কার্যালয়ের উপ পরিচালক জহিরুল আলম মজুমদার জানান, করোনা কালে চট্টগ্রামে প্রায় এক লাখের বেশি প্রবাসী আটকা পড়েছেন। ফ্লাইট স্বল্পতা টিকেট সংকটের কারণে সমস্যা বেড়েছে।