পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে খাগড়াছড়ির বহু পরিবার

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৭ আশ্বিন ১৪২৭

পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে খাগড়াছড়ির বহু পরিবার

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি ৯:৩২ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ০৮, ২০২০

print
পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে খাগড়াছড়ির বহু পরিবার

চলছে বর্ষাকাল হচ্ছে ভারি ভর্ষণ। আর বৃষ্টি হলেই শঙ্কায় বেড়ে যায় পাহাড়ের পাদদেশে থাকা বাসিন্দাদের। গত কয়েকদিনে থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে সে শঙ্কা আরও বেড়েছে। তেমনি খাগড়াছড়িতে পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে বসবাস করছে প্রায় সহস্রাধিক পরিবার। বর্ষা মৌসুম আসায় পাহাড়ে বসবাসকারী এসব পরিবারের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। সে সঙ্গে থামছে না পাহাড় কেটে বসতি স্থাপন।

প্রতিবছর বর্ষা এলেই প্রশাসন নড়েচড়ে বসলেও সারা বছর পাহাড় কেটে বসতি স্থাপন নিয়ে প্রশাসন যেন নির্বিকার। ফলে এ বর্ষা মৌসুমে খাগড়াছড়িতে আবারও পাহাড় ধসে জানমালের ক্ষতির শঙ্কা প্রবল হয়ে উঠেছে।

এবারের বর্ষণে পাহাড় ধসে এখন পর্যন্ত খাগড়াছড়িতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার খবর নেই। তবে ছোট খাটো পাহাড় ধসের ঘটনা লেগেই আছে। বিশেষত জেলা সদরের শালবন, সবুজবাগ, মোল্লাপাড়াসহ সদরের বিভিন্ন এলাকায় ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন কয়েকশ’ পরিবার।

জেলার লক্ষ্মীছড়ি, মহালছড়ি, রামগড়সহ প্রত্যেকটি উপজেলায় এমন আরও বহু পরিবার অত্যন্ত ঝুঁকিতে বসবাস করছেন। এখনও থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় পাহাড় চূড়া কিংবা ঢালুতে বসবাসকারীদের মধ্যে আতঙ্ক বেড়েছে।

বিগত বছরগুলোতে পাহাড় ধসে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। এদিকে শহরের বেশ কয়েকটি স্পটে পাহাড় কেটে ও পাহাড়ের পাদদেশে অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর নির্মাণ বেড়ে চললেও প্রশাসনের কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

অপরদিকে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীরা বলছে, থাকার জায়গার অভাবেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা পাহাড়ের পাদদেশে বাস করতে বাধ্য হচ্ছে।

খাগড়াছড়ি পরিবেশ সুরক্ষা আন্দোলনের সভাপতি প্রদীপ চৌধুরী বলেন, চলতি বর্ষায় যদি ভারি বর্ষণ হয় তাহলে জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধসের সংখ্যা রয়েছে।

প্রশাসনের উচিত এ সমস্ত এলাকায় পাহাড়ে বসবাসরতদের সচেতন করা এবং প্রয়োজনে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া। এছাড়া পাহাড় কাটার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনের প্রয়োগ করা।

খাগড়াছড়ি পৌর মেয়র রফিকুল আলম বলেন, টানা বর্ষণের কারণে যাতে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সচেতন করতে পৌর প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। পাহাড় ধসের বিষয়ে আমরা সজাগ রয়েছি। পাহাড় কাটা বন্ধ ও পাহাড়ের ঢালে বসতি স্থাপন বন্ধের উদ্যোগ না নিলে যেকোনো সময় প্রাণহানির শঙ্কা রয়েছে। তাই শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন প্রত্যাশা স্থানীয় সচেতন মহলের।