কক্সবাজারে সাধারণ ছুটি শেষ, বন্ধ পর্যটন স্পট

ঢাকা, শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২০ | ২২ শ্রাবণ ১৪২৭

কক্সবাজারে সাধারণ ছুটি শেষ, বন্ধ পর্যটন স্পট

মোঃ নেজাম উদ্দিন, কক্সবাজার ১০:০২ অপরাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০২০

print
কক্সবাজারে সাধারণ ছুটি শেষ, বন্ধ পর্যটন স্পট

কক্সবাজার শহর পর্যটন নির্ভর হলেও পর্যটন স্পট খোলার ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন কঠিন বলে মনে করছে পর্যটন ব্যবসায়ীরা। পর্যটন ব্যবসায়ীরা বলছেন , যদি পর্যটন ব্যবসা খুলে দেওয়া না হয় তবে তাদের প্রণোদনার আওতায় আনা হোক। তবে হোটেল-মোটেল জোনের ৩০ হাজার কর্মকর্তা কর্মচারী কঠিন জীবন থেকে রক্ষা পাবেন।

মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আবুল কাসেম জানান, পর্যটন স্পট জেলা প্রশাসন যদি বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন তা আমরা মানতে বাধ্য, তবে আমাদের প্রণোদণার আওতায় আনার দাবি করছি যেন সকল হোটেল-মোটেল জোনের কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন দিতে পারি। কক্সবাজার হোটেল-মোটেল অফিসার্স এসোসিয়েশন এর সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহ কলিম বলেন, অতি সত্তর পর্যটন নগরী খুলে দেওয়ার আহবান জানাচ্ছি। বিগত সাড়ে তিন মাস অনেক কষ্টে দিন অতিবাহিত করেছি। যদি পর্যটন স্পট খুলে দেওয়া না হয় তবে সামনের সময়গুলোতে আমাদের পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে লকডাউন আর সাধারণ ছুটির মেয়াদ শেষ হলেও জেলায় সমুদ্র সৈকতসহ হোটেল-মোটেল এবং পর্যটনকেন্দ্রগুলো ঈদুল আযহা পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত জেলা কমিটির এক সভায় প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নেয়।

গত শনিবার দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের শহীদ এটিএম জাফর আলম সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত কার্যক্রমের সমন্বয়ক সিনিয়র সচিব মো. হেলালুদ্দিন আহমেদ। সভায় হেলালুদ্দিন আহমেদ বলেন, কক্সবাজারে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যুর হার বিবেচনায় প্রশাসন গত ৬ জুন ক্সবাজারকে দেশের প্রথম রেড জোন ঘোষণা করে ফের লকডাউন করেছিল। পরে এক দফায় লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানোর পাশাপাশি ১১ জুলাই পর্যন্ত জেলার রেড জোন ঘোষিত এলাকাগুলোতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়।

‘লকডাউনের পর সাধারণ ছুটির মেয়াদ শেষ হলেও জেলাকে এখনো পুরোপুরি করোনামুক্ত করা সম্ভব হয়নি। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে সরকারি-বেসরকারি অফিস-দফতরসহ সবধরণের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান চালু রেখে জীবনযাত্রা নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।’

করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলা  প্রশাসন কক্সবাজার গত ৬ জুন থেকে ২০ জুন পর্যন্ত কক্সবাজার পৌর এলাকাকে দেশের ‘প্রথম রেড জোন’ ঘোষণা দিয়ে  লকডাউন করেন। পরদিন ৭ জুন থেকে রেড জোন ঘোষণা করা হয় টেকনাফ পৌর এলাকা, চকরিয়া পৌর এলাকা ও চকরিয়ার ডুলহাজারা স্টেশনের আশপাশের ৩ টি স্টেশন এবং উখিয়ার কোটবাজার স্টেশনসহ আশপাশের ৩ টি ওয়ার্ড। এরপর ৮ জুন থেকে রেড জোন ঘোষণা করে লকডাউন করা হয় উখিয়ার সদর স্টেশন, রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন কুতুপালং স্টেশন, বালুখালী স্টেশন ও থাইংখালী স্টেশন। পরবর্তীতে লকডাউনের মেয়াদ আরো ১০ দিন বাড়িয়ে ৩০ জুন পর্যন্ত ঘোষণা দেওয়া হয়।

এদিকে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ গত ২৪ জুন থেকে ১১ জুন পর্যন্ত জেলার রেড জোন এলাকাগুলোতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সবধরণের সরকারি-বেসরকারি অফিস-দফতর, আধাসরকারি বা স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানগুলোকেও বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ নিয়ে লকডাউনের পর সাধারণ ছুটির মেয়াদ শেষ হয়েছে ১১ জুলাই শনিবার।

জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন- স্থানীয় সংসদ সদস্যরাসহ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মাহবুব আলম তালুকদার, জেলা পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা: অনুপম বড়–য়া, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি ডা: মহিউদ্দিন মো. আলমগীর, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা ও সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান প্রমুখ। এছাড়া সভায় জেলার পৌর  মেয়র ও উপজেলা চেয়ারম্যানগণসহ সেনাবাহিনী, নৌ-বাহিনীর প্রতিনিধিদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অংশগ্রহণ করেছেন।

এদিকে জেলায় গত ১৪ এপ্রিল প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত ৫৫ জন রোহিঙ্গাসহ মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ৯৮৩ জন। এদের মধ্যে ৫ জন রোহিঙ্গাসহ মৃত্যু হয়েছে ৪৭ জন। এছাড়া আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়েছে ১ হাজার ৬৪৯১ জন।

এদিকে গত মার্চের মধ্যবর্তী সময় থেকে শুরু হওয়া দুরাবস্থা কাটেনি এখনো। চড়া সুদে ঋণ কিংবা ঘরের শেষ সম্বল বিক্রি করে পর্যটন ব্যবসায় আসা কয়েক হাজার ব্যবসায়ীর এখন পথে বসার দশা।

কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পে চরম দুর্দিন এনেছে করোনাভাইরাস। পর্যটনের ভরা মৌসুমে বিনিয়োগের বিনিময় ঘরে তোলার অপেক্ষাকালেই করোনার থাবায় জনশূন্য জনপদে পরিণত হয় বিশ্বের দীর্ঘতম সৈকতের নগরী।