বান্দরবানে সন্ত্রাসী হামলায় জনসংহতির ৬ জন নিহত

ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০ | ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭

বান্দরবানে সন্ত্রাসী হামলায় জনসংহতির ৬ জন নিহত

বান্দরবান প্রতিনিধি ৯:৩২ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৭, ২০২০

print
বান্দরবানে সন্ত্রাসী হামলায় জনসংহতির ৬ জন নিহত

বান্দরবানে সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলায় আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল জনসংহতি সমিতির সংস্কারপন্থী এম এন লারমা গ্রুপের জেলা সভাপতিসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন আরও তিনজন। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে বান্দরবান সদর উপজেলার রাজবিলা ইউনিয়নের বাঘমারা বাজার পাড়ায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এম এন লারমা) গ্রুপের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি বিমল কান্তি চাকমা ওরফে প্রজিৎ চাকমা (৬৮), খাগড়াছড়ি উপদেষ্টা কমিটির সদস্য চিং থোয়াই অং মারমা ডেভিড (৫৬), বান্দরবান জেলা কমিটির সভাপতি রতন তঞ্চংগ্যা (৫০), পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব সমিতির খাগড়াছড়ি শাখার সদস্য রবীন্দ্র চাকমা ওরফে মিলন চাকমা (৫০), রিপন ত্রিপুরা জয় (৩৫) ও জ্ঞান ত্রিপুরা ওরফে দিপেন (৩২)।

এ ঘটনায় আহতরা হলেন নিরু চাকমা (৫০), বিদ্যুৎ ত্রিপুরা (৩৮) ও মিজ প্রু বা চিং (২৬)। আহত তিনজনকেই প্রথমে বান্দরবান সদর হাসপাতাল ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সামপ্রুই মারমা জানান, সকালে হঠাৎ করে বাঘমারা বাজার পাড়ার পশ্চিম দিক থেকে একটি সশস্ত্র দল এলাকায় প্রবেশ করে সংস্কারপন্থী গ্রুপের সভাপতির বাসায় অতর্কিত হামলা চালায়। নিহতরা সবাই ওই ঘরেই অবস্থান করছিলেন। হামলার পর বেশকিছু সদস্য পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও তাদেরকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

সূত্রে জানা গেছে, গত মার্চ মাসে রতন তঞ্চংগ্যাকে সভাপতি করে ৩১ সদস্যবিশিষ্ট বান্দরবানে জনসংহতি সমিতির সংস্কারপন্থী গ্রুপের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি গঠনের পর থেকেই জনসংহতি সমিতির সন্তু লারমা গ্রুপের সঙ্গে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। সেই দ্বন্দ্বের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করছে স্থানীয়রা।

এদিকে ঘটনার পর বাঘমারা বাজারের দোকানপাট বন্ধ হয়ে গেছে। আতঙ্কে স্থানীয়রা অনেকেই নিরাপদ জায়গায় চলে গেছেন। থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে বাঘমারা ও আশপাশ এলাকায়।

ঘটনার পর পুলিশ ও সেনাবাহিনীর টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ বলেছে এই হত্যাকাণ্ড কারা ঘটিয়েছে তদন্ত শেষে তা বিস্তারিত জানা যাবে।

বান্দরবান সদর থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। তবে এখনও এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি বা কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।

বান্দরবানের পুলিশ সুপার জেরিন আখতার বলেন, আমরা হত্যাকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে ওই এলাকায় পুলিশ পাঠিয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। গুলিবিদ্ধ আহত তিনজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহত ছয়জনের লাশ বান্দরবান সদর হাসপাতারে মর্গে নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে প্রেস বিফিং দিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সুধারক ত্রিপুরা। তিনি দাবি করেন, সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন একদল সন্ত্রাসী অতর্কিত সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে আমাদের ছয়জন নেতাকর্মী নিহত হয়েছে।

করোনার এই সময়ে পার্বত্য এলাকায় আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর আধিপত্য বিস্তারে সংগঠিত এই হত্যকাণ্ডে পুরো পার্বত্য অঞ্চলে আতঙ্ক বিরাজ করছে।