সাড়া ফেলেছে রাজকুমার

ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০ | ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭

সাড়া ফেলেছে রাজকুমার

এম. মনছুর আলম, চকরিয়া, কক্সবাজার ১০:১২ অপরাহ্ণ, জুলাই ০১, ২০২০

print
সাড়া ফেলেছে রাজকুমার

কক্সবাজারের চকরিয়ায় কোরবানির পশুর হাট জমে ওঠার আগেই পুরো এলাকাজুড়ে সাড়া ফেলেছে রাজকুমার। বিশাল আকৃতির গরুটির নাম রাখা হয়েছে রাজকুমার। এই গরু দেখতে প্রতিদিনই এলাকার লোকজন ও ক্রেতারা ভিড় করছেন।

রাজকুমারকে কেনার জন্য চট্টগ্রাম ও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ২৪ জন ব্যক্তি যোগাযোগ করেছেন। প্রায় তিন বছর ধরে লালন পালন করা ১২শ’ কেজিরও বেশি ওজনের এই গরুটির দাম হাঁকা হয়েছে ২০ লাখ টাকা। কোরবানি ঈদের বাজার সামনে রেখে এ পর্যন্ত রাজকুমারের দর উঠেছে প্রায় ১০ লাখ টাকা। জেলায় এবার কোরবানির ঈদে পশুর মধ্যে সবচেয়ে বড় গরু ও আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এ রাজকুমার।

গরুর মালিক আবু ওবাইদ বাদল জানান, প্রায় তিন বছর আগে বাদলের খামারেই জন্ম হয় রাজকুমারের। গত কোরবানির ঈদে এই গরুর ওজন ছিল প্রায় এক টন। সেই সময় ‘রাজকুমারকে’ উপজেলার বড় একটি কোরবানির পশুর হাটে উঠানো হয়। সেখানে ক্রেতারা এর দাম ৯ লাখ টাকা দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু খামারি বাদল বেশি দামের আশায় গরুটি ওই সময় বিক্রি করেননি। গত কোরবানির হাটে এই ষাঁড় গরুটির মূল্য ক্রেতারা ৯ লাখ টাকা বললেও এবার বলছেন  ১০ লাখ টাকা। কিন্তু গরুটির মালিক বাদল গত ঈদের হাটে দাম হাঁকছিলেন ১৫ লাখ টাকা। বেশি ওজনের ৩০ মণের অধিক এ গরুটি তিনি এবার দাম হাঁকছেন ২০ লাখ টাকা।

দরবেশ কাটাস্থ কৃষক আবু ওবাইদ বাদল কৃষি কাজের পাশাপাশি নিজ বাড়িতে গড়ে তুলেছেন খামার। বর্তমানে তার খামারে ছোট-বড়, মাঝারি মিলে ৪৪টি গরু রয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য বাজার দরে প্রায় দুই কোটি টাকা হবে। বাদলের খামারে বেড়ে ওঠা সবচেয়ে বড় ষাঁড়ের নাম রাজকুমার। বাদল ও তার কর্মচারীরা মিলে প্রায় তিন বছর ধরে কোনো প্রকার ক্ষতিকর ওষুধ ছাড়াই দেশীয় খাবার খাইয়ে লালন-পালন করেছেন গরুটি। শখ করে তার নাম রেখেছেন ‘রাজকুমার’। রাজকুমার খুব শান্ত প্রকৃতির, কাউকে বিরক্ত করে না। এবার কোরবানির ঈদের জন্য অধিকতর পরিচর্যায় তাকে প্রস্তুত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘রাজকুমারকে’ আরও এক বছর লালন পালন করতে এ পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এবার করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছি। অন্তত এ কোরবানির  সময় গরুটির ভালো দাম পেলে তাকে বিক্রি করতে পারলেই লালন-পালনের পরিশ্রম সার্থক হবে।

চকরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুপন নন্দী বলেন, কৃষি চাষের পাশাপাশি গরুর ডেইরি ফার্ম করে স্বাবলম্বী হন আবু ওবাইদ বাদল। তার ফার্মে বেড়ে ওঠা সবচেয়ে বড় ষাঁড় ‘রাজকুমার’ গরুটিকে দেশীয় খাবার খাইয়ে সঠিক পরিচর্যায় ও প্রাণিসম্পদ অফিসের তদারকিতে লালন-পালন করে বড় করেছেন তিনি। এই ষাঁড়টিকে নিয়মিত দেখাশোনা করা হচ্ছে। এছাড়াও উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতরের বিশাল এ ষাঁড়টি নিয়ে এসে ওজন পরিমাপ করা হয়। বর্তমানে এ ষাঁড়ের ওজন ১২শ’ কেজির ওপরে। উপজেলায় এই ষাঁড়টিই এখন সব থেকে বড়।